৫ শূন্য আসনের উপনির্বাচন নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে বিএনপির আলোচনা

0
383

পদত্যাগ ও মৃত্যুজনিত কারণে শূন্য হওয়া পাঁচটি সংসদীয় আসনে (গাইবান্ধা-৩, ঢাকা-১০, বাগেরহাট-৪, বগুড়া-১ এবং যশোর- ৬) উপনির্বাচন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা করেছে বিএনপি।

গতকাল বুধবার রাতে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই আলোচনা হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। পাশাপাশি বৈঠকে সদ্য অনুষ্ঠিত ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণসহ চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

বৈঠক সূত্র জানায়, স্থায়ী কমিটির সব সদস্য একমত পোষণ করে বলেছেন, ঢাকা সিটিতে কোনো নির্বাচন হয়নি। এ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ভোটকেন্দ্র দখল করে ভোটারদের বাধা দিয়ে কারচুপি করেছে। আর নির্বাচন কমিশন গভীর রাতে মনগড়া ফলাফল ঘোষণা দিয়ে নৌকা প্রতীকের দুই মেয়রপ্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করেছে।

এই অবস্থায় স্থায়ী কমিটির একটি অংশ মনে করে, এই সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে যে নির্বাচনই অনুষ্ঠিত হোক তাতে ভোটারদের মতামতের প্রতিফলন ঘটবে না। এই অবস্থায় নির্বাচনে যাওয়া সঠিক সিদ্ধান্ত নয়। তবে স্থায়ী কমিটির অপর অংশ মনে করে, গণতান্ত্রিক দল হিসেবে বিএনপিকে নির্বাচনে যাওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। যেকোনো পরিস্থিতিতে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পক্ষে স্থায়ী কমিটির এই অংশ।

বৈঠকে ঢাকা সিটি নির্বাচনে ব্যাপকহারে কারচুপির কথা বলা হলেও ক্ষমতাসীনদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে নূন্যতম প্রতিরোধ গড়তে না পারাকে স্থায়ী কমিটির নেতারা ঢাকা মহানগরের সাংগঠনিক দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

বৈঠক সূত্রে আরও জানা যায়, এ নিয়ে বৈঠকে বিস্তর আলোচনা হয়। একইসঙ্গে দ্রুত সময়ের মধ্যে সংগঠনকে শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে সরকারের সমালোচনার পাশাপাশি নিজেদের ত্রুটি বিচ্যুতি নিয়েও আলোচনা হয়। এর বাইরে আগামী শনিবার কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ঘোষিত সমাবেশ সফল করার কৌশল নির্ধারণ করা হয়। লন্ডন থেকে স্কাইপে যুক্ত হয়ে বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বৈঠকে, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নেতাদের নিস্ক্রিয়তা, ভোটের দিন সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসানসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের অনুপস্থিতিসহ মহানগরকেন্দ্রীক বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একইভাবে ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেলসহ আকার ইঙ্গিতে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকজন নেতার ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেন নেতারা। গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা মহানগর বিএনপিকে ঢেলে সাজানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়েও কথা বলেন তারা। বৈঠকে খালেদা জিয়ার দুই বছর কারাবাস উপলক্ষে ঘোষিত সমাবেশকে সফল করতে সব ধরণের প্রস্তুতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে পর সাংবাদিকদের কোনো কথা বলেননি দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৈঠকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে