৫০ বছর যাবত শুধুই প্রতিশ্রুতি, হয়নি একটি সেতু

29

এমরান হোসেন, জামালপুর জেলা প্রতিনিধি ।।

৫০ বছর ধরে দুই উপজেলার লক্ষাধিক মানুষের লালিত স্বপ্ন একটি সেতু বাস্তবে রূপ পায়নি। জনপ্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসলেও বাস্তবায়ন করেননি কেউ-ই। নির্বাচন এলেই তারা প্রতিশ্রুতি দেন এবার সেতু হবে। তবে নির্বাচন শেষে তাদের আর দেখা মেলে না। দুর্ভোগের যেন শেষ নেই, হচ্ছে না একটি সেতু। বুক ভরা হতাশা নিয়ে কথাগুলো বলেন জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের চর-পোগলদিঘা গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, একপাশে জামালপুরের সরিষাবাড়ী অন্যপাশে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলা। দুই উপজেলার মাঝখান দিয়ে বয়ে চলেছে ২০০ বছরের পুরোনো সুবর্ণখালি নদী। নদীর পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ে সরিষাবাড়ী ও কাজিপুর উপজেলার ২৫-৩০টি গ্রামের প্রায় লক্ষাধিক মানুষের বসবাস।কাজিপুর উপজেলার দূরত্ব সড়কপথে প্রায় ১০০ এবং নৌপথে প্রায় ২৫ কিলোমিটার। শুকনো মৌসুমে নদীতে চর পড়ে যাওয়ার ফলে যাতায়াত করা আরও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। একটি সেতুর অভাবে ওই এলাকা একটি বিচ্ছিন্ন জনপদে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তির কি কোন দিনই শেষ হবে না। কৃষিপণ্য বিক্রির জন্য সময়মতো হাটে নিতে পারিনা। এতে একদিকে সময়ের অপচয় অপরদিকে গুনতে হচ্ছে লোকসান। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মুমূর্ষু ও ডেলিভারি রোগী নিয়ে পৌঁছার আগেই রোগী আরও অসুস্থ হয়ে পড়ে। অনেক সময় রোগী মারাও যায়। পথেই ডেলিভারি রোগী বাচ্চা প্রসব করে। ছেলে মেয়েরা সঠিক সময়ে স্কুল কলেজে যেতে পারে না। একটি সেতুই আমাদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তির অবসান করতে পারে।

যমুনা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়তে আসা শিক্ষার্থীরা জানান, অনেক সময় খেয়া পারাপারে দেরি হওয়ায় তারা গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস করতে পারেন না। বর্ষার সময় নদী পারাপারে তাদের প্রায়ই ভিজতে হয়। অনেক সময় ভেজা পোশাকেই ক্লাস করতে হয়।

পোগলদিঘা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সামস উদ্দিন বলেন, সেতুটি এলজিইডির তালিকাভুক্ত হয়েছে। আশা করা যায় এক বছরের মধ্যে হবে।

সরিষাবাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুর রহমান বলেন, আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি। খুব দ্রুতই জায়গাটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সায়েদুজ্জামান সাদেক বলেন, যেহেতু জায়গাটি এলজিইডির আওতাভুক্ত তাই সামনে নতুন কোনো সেতুর অনুমোদন পেলে এই সেতুটির নাম অন্তর্ভুক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।