৩ মাসেই শতভাগ শিক্ষার্থীর ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ শেষ!

39


সৈকত ভৌমিক, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দেশে করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) ভ্যাকসিন প্রয়োগ কার্যক্রমে মাস তিনেক হলো যুক্ত করা হয়েছে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বলছে, এই সময়ের মধ্যেই এই বয়সী প্রায় শতভাগ শিক্ষার্থীকেই ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ দেওয়া শেষ করেছে সরকার। এর বাইরে ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজও পেয়েছে ১১ শতাংশের কিছু বেশি শিক্ষার্থী।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বলছে, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) থেকে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী ১ কোটি ২৯ লাখ শিক্ষার্থীকে ভ্যাকসিন প্রয়োগের জন্য তালিকা পাঠানো হয়েছিল। আর এর মধ্যে ১ কোটি ২৮ লাখ ৯৭ হাজার ৯০৯ জন শিক্ষার্থীকেই ভ্যাকসিনের অন্তত এক ডোজ দেওয়া হয়েছে। সে হিসাবে প্রথম ডোজ ভ্যাকসিন পেয়েছে ৯৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ শিক্ষার্থী। প্রথম ডোজ না পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ৯১ জন বা শূন্য দশমিক শূন্য তিন শতাংশ।

বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ভ্যাকসিন ডেপ্লয়মেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ডা. শামসুল হক সারাবাংলাকে বলেন, আমাদের কাছে মাউশি থেকে ভ্যাকসিন প্রয়োগের জন্য শিক্ষার্থীদের তালিকা পাঠানো হয়েছিল। ওই তালিকার ৯৯ দশমিক ৯৭ শতাংশকেই প্রথম ডোজ ভ্যাকসিন দেওয়া শেষ হয়েছে। এখন দ্বিতীয় ডোজের ভ্যাকসিন প্রয়োগ চলছে। দ্বিতীয় ডোজ ভ্যাকসিনও এরই মধ্যে পেয়ে গেছে ১১ দশমিক ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী।

আরও পড়ুন-

৩ মাসেই শতভাগ শিক্ষার্থীর ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ শেষ!

ডা, শামসুল হক আরও বলেন, দেশে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের মধ্যে যারা স্কুল-কলেজে পড়ছে, কেবল তাদের তালিকাই পাঠিয়েছিল মাউশি। তবে এই বয়সীদের মধ্যে যারা কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেই বা ঝরে গেছে, তাদের জন্যও খুব দ্রুতই আমরা ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু করব।

গত ১৪ অক্টোবর মানিকগঞ্জের সদর উপজেলার চারটি স্কুলের ১২ থেকে ১৭ বয়সী ১২০ শিক্ষার্থীকে পরীক্ষামূলকভাবে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ওই কর্মসূচির মাধ্যমেই দেশে ১৮ বছরের কম বয়সীদের ভ্যাকসিন কার্যক্রমে যুক্ত করা হয়।

৩ মাসেই শতভাগ শিক্ষার্থীর ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ শেষ!

শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন প্রয়োগ পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয় মানিকগঞ্জে

এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন প্রয়োগ কার্যক্রম শুরু হয় ১ নভেম্বর, রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে। পরদিন ২ নভেম্বর থেকে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজেসহ রাজধানীর আরও সাতটি স্কুলে ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হয়। সে হিসাবে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরুর তিন মাস এক সপ্তাহ এবং আনুষ্ঠানিকভাবে প্রয়োগ শুরুর আড়াই মাসের মধ্যেই দেশের ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী প্রায় শতভাগ শিক্ষার্থীর প্রথম ডোজ ভ্যাকসিন নিশ্চিত করা হলো।

ডা. শামসুল বলেন, ভ্যাকসিন প্রয়োগ আমাদের একটি চলমান প্রক্রিয়া। এতে আমরা বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন ক্যাম্পেইনসহ নিয়মিত কেন্দ্রগুলোতেও ভ্যাকসিন দিয়ে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা এখন পর্যন্ত ভালোভাবেই এগিয়ে যাচ্ছি। খুব শিগগিরই আমরা আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারব বলে আশা করছি।

৩ মাসেই শতভাগ শিক্ষার্থীর ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ শেষ!

এদিকে, গত সোমবার (১৭ জানুয়ারি) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় ডোজের ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু করা হয় বলে জানিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ক অধ্যাপক শাহেদুল খবির চৌধুরী।

তিনি সারাবাংলাকে বলেন, সোমবার রাজধানীর ৯ কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় ডোজের ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়েছে। ঢাকায় মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের অধিকাংশই প্রথম ডোজের ভ্যাকসিন পেয়েছে। তাই ১৭ জানুয়ারি থেকে দ্বিতীয় ডোজ প্রয়োগ শুরু করা হয়।

রাজধানীতে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের যারা এখনো প্রথম ডোজ ভ্যাকসিন পায়নি, তাদের বনানীর চট্টগ্রাম গ্রামার স্কুল কেন্দ্র থেকে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে বলে জানান মাউশির এই কর্মকর্তা।

সারাবাংলা/এসবি/টিআর





Source link