৩ দফা দাবি আদায়ে শিক্ষার্থীদের অনশন ,জানতেন না অধ্যক্ষ

0
78

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি : :  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত রাজধানীর সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা ৩ দফা দাবিতে ঢাকা কলেজের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও আমরন অনশনে বসেছিলো৷ এসময় পুলিশ এসে শিক্ষার্থীদের ছবি তুলে ও ঘাঁড় ধরে সেখান থেকে উঠিয়ে দেয়৷

অনশন ও অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের এমন অভিযোগ৷ তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা ৩ দফা দাবি নিয়ে সাত কলেজের সমন্বয়কের কাছে দাবি জানিয়ে আসছেন৷ বুধবার (১৭,ফেব্রুয়ারী) দুপুরে এসব দাবি নিয়ে তাঁরা ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ ও সাত কলেজের সমন্বয়ক প্রফেসর আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকারের সাথে দেখা করে৷ দুপুর ১২ টায় অধ্যক্ষের সাথে দেখা করলে তাঁদের দাবি মানা হবে না বলেন জানায় অধ্যক্ষ৷ এরপর কলেজের দুই নম্বর গেটে অবস্থান নেয় সাত কলেজের ভুক্তভোগী ৪০-৫০ জন শিক্ষার্থী৷ পুলিশের বাঁধায় দুই নম্বর গেট থেকে কলেজের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা৷ এসময় তাঁদের (শিক্ষার্থীদের) জানানো হয় ঢাকা কলেজ ছাড়া অন্য ছয়টি কলেজের কোন শিক্ষার্থী সেখানে অবস্থান করতে পারবে না ৷ এসময় ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী পল্লব ও হায়দার দাবি আদায়ে অনশনে বসে৷ অন্য কলেজের শিক্ষার্থীরা সেসময় পাশেই ছিল৷

অনশনে বসা শিক্ষার্থী হায়দার জানায়, “আমরা শান্তি পূর্ন ভাবে অনশন চালিয়ে যাচ্ছিলাম৷ এসময় পুলিশ এসে আমাদের ছবি তুলে ও ব্যানার নিয়ে যায়৷ আমাদের উঠে যেতে বলে৷ এসময় কলেজের কয়েক জন শিক্ষক এসেও আমাদের ছবি তোলে, ভয় ভীতি দেখায় ও ডিপার্টমেন্টে নিয়ে যেতে চায়৷ আমাদেরকে জোর পূর্বক উঠিয়ে দেয়া হয় ”

আজ ঢাকা কলেজে পরীক্ষা থাকার কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে পুলিশ ছিল৷ আর এই ঘটনার পর থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টা পর্যন্ত ঢাকা কলেজের প্রধান ফটকের সামনে কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে দেখা যায়৷

শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি হলো-

১. ২০১৮-১৯ সেশনের প্রথম বর্ষের ফল ১১ মাস পর দেয়া হয়। তিন বিষয় যারা অকৃতকার্য হয়েছে তাদের আর সময়ক্ষেপণ না করে বিশেষ পরীক্ষা নেয়া।
২. ৪ ঘন্টার পরীক্ষা ২ ঘন্টা নিলেও সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করা হয়নি। সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করা।
৩. সেমিস্টার পদ্ধতি চালু করা।

শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে পুলিশের বাঁধা ও উঠিয়ে দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে নিউ মার্কেট থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) স ম কাইয়ুম বলেন, “পরীক্ষা থাকার কারনে কলেজে আমাদের পুলিশ দায়িত্বে ছিল৷ কিছু শিক্ষার্থী ওখানে জমা হয়েছিল৷ পুলিশ তাঁদের সরে যেতে বলে৷ তাঁরা(শিক্ষার্থীরা) সেখান থেকে চলে যায়৷ ”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার বলেন,” কিছু শিক্ষার্থী দুপুরে আমার সাথে দেখা করেছে৷ অনশন কেন করেছে বা বাইরে কি হয়েছে জানিনা৷ এসব বিষয়ে আমাদের কোন কর্তৃত্ব নেই৷”

Print Friendly, PDF & Email

Source link