২২ ঘণ্টা কীভাবে কাজ করেন? বললেন ‘অবান্তর’ প্রশ্ন!

0
214

ডেস্ক রিপোর্ট : : নিজেকে ‘কাজপাগল’ মানুষ বলে দাবি করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ মন্তব্য করেছিলেন দৈনিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২২ ঘণ্টাই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য কাজ করেন। তবে সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে কীভাবে তিনি ২২ ঘণ্টা কাজ করেন তা জানতে চাইলে সে প্রশ্নকে তিনি ‘অবান্তর’ বলেছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৪ মার্চ) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দিনে ২০-২২ ঘণ্টা কাজ করার দাবি করেন তিনি। তার এই মন্তব্যের পর থেকেই সমালোচনা শুরু হয়।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মশিউর রহমান বলেন, ইউজিসির তদন্ত প্রতিবেদনে উপাচার্যকে অভিযুক্ত করে দেওয়া প্রতিবেদনের পর তিনি ঢাকায় বসে মিথ্যাচার করেছেন। তিনি বলেন, উপাচার্য হিসেবে যোগদানের পর থেকে আজকে ১৩৫৬ দিন অতিবাহিত। এর মধ্যে তিনি ১১১৯ দিনই ক্যাম্পাসে না এসে ঢাকায় ছিলেন। অথচ উপাচার্য ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ২০-২২ ঘণ্টা কাজ করেন বলে মিথ্যাচার করেছেন। তার সময়েই নকশা পরিবর্তনসহ যত দুর্নীতি হয়েছে। তার নিকটাত্মীয়দের দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ভরিয়ে ফেলেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য দৈনিক ২০-২২ ঘণ্টা কাজ করেন- উপাচার্য কলিমুল্লাহর এ বক্তব্য নিয়ে দিনভর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সর্বত্র ব্যাপক সমালোচনা চলছে। রাতে এ নিয়ে বেসরকারি চ্যানেল যমুনা টেলিভিশনে সরাসরি একটি অনুষ্ঠানে যুক্ত করা হয় কলিমুল্লাহকে। সেখানে প্রশ্ন করা হয় কীভাবে তিনি দৈনিক ২০-২২ ঘণ্টা কাজ করেন? জবাবে কলিমুল্লাহ বলেন, এটি অবান্তর প্রশ্ন।

এর আগে নিজেকে আঞ্চলিক রাজনীতি প্রতিহিংসার শিকার দাবি করে বেরোবি উপাচার্য কলিমউল্লাহ বলেন, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি তার পরিবারকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ভাবেন বলেই শিক্ষামন্ত্রী ইউজিসির তদন্তকে প্রভাবিত করে দুর্নীতির দায় তার কাঁধে চাপিয়েছেন।

বেরোবি উপাচার্য বলেন, পূর্ববর্তী উপাচার্য বিশেষ করে অধ্যাপক ড. এ কে এম নূর-উন-নবীর দুর্নীতির বিষয়টি ঢাকতেই ইউজিসি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রিপোর্ট দিয়ে তাকে সমালোচিত করছে।

এ ছাড়া ইউজিসির তদন্ত দলের প্রধান ড. মুহাম্মদ আলমগীরকে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম নুর-উন-নবীর আমলে বেরোবি সিন্ডিকেটে স্থান পাওয়া এবং দুজন ঘনিষ্ঠ বলেই নুর-উন-নবীকে বাঁচাতে ড. মুহাম্মদ আলমগীর সব দায় তার কাঁধে চাপিয়েছেন বলে দাবি করেন বেরোবি উপাচার্য কলিমউল্লাহ।

কমিটির অপর দুই সদস্যকে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম নুরু-উন-নবীর বিভাগের শিক্ষার্থী ও ঘনিষ্ঠজন বলে আখ্যায়িত করে কলিমউল্লাহ দাবি করেন নুরু-উন-নবীকে বাঁচাতে কমিটির অপর দুই সদস্যও কাজ করেছেন। তিনি বলেন, সাবেক উপাচার্যদের দুর্নীতি-অনিয়ম ঢাকতে উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সার্বক্ষণিক বিশ্ববিদ্যালয় থাকার শর্তে নিয়োগ পাওয়া অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে তার অনুপস্থিতির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি তা অস্বীকার করেন।

বেরোবি উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী তিনি সার্বক্ষণিক বিশ্ববিদ্যালয় থাকতে বাধ্য নন। এ ছাড়া বিভিন্ন নিয়োগে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের তদবির ও অনুরোধ না রাখায় তার বিরুদ্ধে একটি বিশেষ মহলকে মাঠে নামানো হয়েছে বলেও দাবি করেন বেরোবি উপাচার্য কলিমউল্লাহ।

উল্লেখ্য, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ‘বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্পে’ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ইউজিসি সদস্য ড. মো. আলমগীরকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন গঠিত তদন্ত কমিটি এই প্রকল্পে নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহসহ বেরোবি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রমাণ পায়।

Print Friendly, PDF & Email

Source link