‘২১ আগস্ট নির্মম হত্যাকাণ্ডের দায় খালেদাকে বহন করতে হবে’

58


সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, ২০০৪ সালে যে নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল কোনোভাবেই এর দায় তখনকার প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এড়াতে পারেন না। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার দায়ভার খালেদা জিয়াকেই বহন করতে হবে।

মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত প্রয়াত আইভি রহমানের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘১৯৭৫ সালের হত্যাকাণ্ড এবং ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা একই সূত্রে গাথা। এগুলোর নেপথ্যের কারিগরও একজনই, তাদের উদ্দেশ্যও একই ছিল। একাত্তরে পরাজিত হয়ে, ৭৫-এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার করে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করার জন্যই ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। স্বাধীনতার পরাজিত শত্রুরাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করার জন্য এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারকে হত্যা করা হয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তানিরা জানতো বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যরা বেঁচে থাকলে এই হত্যার বিচার অবশ্যই হবে। বঙ্গবন্ধু পরিবারের কেউ বেঁচে থাকলে তাদের স্বপ্ন পূরণ কখনোই হবে না। তাই পরিবারের বাকি সদস্যদের হত্যা করতে হবে। সেজন্য ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যা করা হয়। আর এ চেষ্টা একবার দু’বার নয়, বহুবার করা হয়েছে।’

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘ষড়যন্ত্রকারীরা শুধু পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পরে থেমে যায়নি। একের পর এক তাদের ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। কারণ স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি পাকিস্তানের প্রেতাত্মারা জানে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যরা যতদিন বেঁচে থাকবে স্বাধীনতাকে নসাৎ, ধ্বংস করা যাবে না। বাংলাদেশের উন্নয়ন পথ চলা কেউ রোধ করতে পারবে না। সেজন্যই শেখ হাসিনাকে বারবার আঘাত করা হয়েছে। এই প্রত্যেকটা ঘটনায় বিএনপি জামায়াত ঘটিয়েছে ‘

মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘২০০৪সালের ঘটনা ছিল সবচেয়ে নৃশংস-নির্মম। যা পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো দেশে ঘটেনি। রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। আমরা দেখি আগস্ট মাস এলে বিএনপি-জামায়াত বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে মাঠে নামে। বিএনপিকে বহুবার বলেছি ২১ আগস্ট ঘটনার সঙ্গে আপনারা জড়িত। তার বহু প্রমাণ রেখে গেছেন। জাতির কাছে ক্ষমা চেয়ে নতুন করে পথ চলা শুরু করুন। জনগণ ক্ষমা হয়তো করতে পারে। স্বজন হারানোরা ক্ষমা করবে না।’

তিনি বলেন, ‘২০০৪ সালে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় বিএনপি যদি জড়িত না থাকে তাহলে কেন এত নাটক ও মিথ্যাচার করা হলো। এই মামলার রায় হয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, কিছু আসামির কারাদণ্ডও হয়েছে। যদিও এই বিচারে অনেকেই খুশি হতে পারেননি। কারণ এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী মাস্টারমাইন্ড তারেক রহমানের মৃত্যুদণ্ড জাতি প্রত্যাশা করেছিল, সেটা হয়নি। এজন্য হয়তো অনেকের মনে কষ্ট আছে। তারপরও আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমরা বিশ্বাস করি, এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের মধ্যে দিয়ে এদেশে হত্যা-সন্ত্রাসের পথ চিরতরে বন্ধ হবে। তাহলে যারা ২১ আগস্টের ঘটনায় প্রাণ দিয়েছে তাদের আত্মা শান্তি পাবে।’

আইভি রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী পালন কমিটির সভাপতি এমএ করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্য সচিব লায়ন মশিউর রহমান। স্মরণ সভায় বক্তৃতা করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন রুহুল এমপি, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব সফিকুল বাহার মজুমদার টিপু, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার, হুমায়ুন কবীর, স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা, যুবলীগ নেতা সাংবাদিক মানিক লাল ঘোষ, আয়োজক সংগঠনের আক্তারুজ্জামান খোকা, রোকন উদ্দিন পাঠান প্রমুখ।

সারাবাংলা/এনআর/পিটিএম





Source link