২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে চক্রান্ত: গয়েশ্বর

83


স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলা ছিল গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে একটি চক্রান্ত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস ও ওয়ান ইলেভেনের ষড়যন্ত্র এবং আজকের বাংলাদেশ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘২০০৪ সালে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা। সেদিন ছিল বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করা। গণতেন্ত্রর বিরুদ্ধে একটি চক্রান্ত। গ্রেনেড হামলার বিষয়টি বাংলাদেশে সর্বপ্রথম নয়। এর আগে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর গ্রেনেড হামলা, পল্টনে সিপিবির আলোচনায় হামলা, রমনা বটমূলে প্রত্যেকটি হামলা সুস্থ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। ওই হামলাগুলোর সঙ্গে তখনকার আওয়ামী লীগ সরকার কোনোরূপ তৎপরতা বা এটিকে আবিষ্কার করার চেষ্টা করেনি। গ্রেনেড হামলার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী (তখনকার) শেখ হাসিনাকে দেখতে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দেখতে যাওয়ার আগেই প্রধানমন্ত্রীর কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘সঠিক তথ্য আবিষ্কার করতে তখন আন্তর্জাতিক তদন্ত সংস্থা এফবিআইকে সঠিক তথ্য বের করতে আহ্বান করা হয়। ঘটনার কিছু আলামত থাকে সেই আলামতের মধ্যে শেখ হাসিনার ব্যবহৃত গাড়ি কিন্তু সেটি তিনি দিলেন না তদন্তের জন্য। সুতরাং সরকার একুশে আগস্টের ঘটনায় তখন আওয়ামী লীগ এ তদন্তে সহযোগিতা থেকে পিছুটান দেয়। তবে একটা বিষয় স্পষ্টত, বাংলাদেশের মানুষ মনে করে না সরকার বা বিএনপি এই ঘটনা ঘটাতে পারে।’

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনা যতদিন ক্ষমতায় থাকতে পারবেন ততদিন আওয়ামী লীগও থাকবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, দেশটি কোনো জায়গায় আছে। সেই কারণে শেখ হাসিনা ছলেবলে কৌশলে যতদিন ক্ষমতায় আছেন থাকবেন। যখন ক্ষমতা থেকে পড়ে যাবে আওয়ামী লীগ ফুল স্টপ হয়ে যাবে। আওয়ামী লীগ শব্দটি তখন উচ্চারণ করার মতো হ্যারিকেন দিয়ে খুঁজলেও লোক পাওয়া যাবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘জিয়াউর রহমানকে নিয়ে যে কোনো ধরনের প্রশ্ন আমাদের শোনার কোনো দরকার নেই। আওয়ামী লীগের প্রশ্নের কোনো উত্তর দেওয়ার মানে নেই। আওয়ামী লীগের কথার কোনো জবাব হয় না। তাই স্পষ্ট করে বলতে চাই, যারা যুদ্ধ করেছে তাদের সম্পর্কে কথা বলা যুদ্ধাপরাধীর শামিল। আমরা ক্ষমতায় আসলে, আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল চলবে। আমরা চালাব। মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে যারা কথা বলে তারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। তারা আলবদরের চেয়েও ক্ষতিকারক।’

বাংলাদেশ নাগরিক অধিকার ফোরাম আয়োজিত আলোচনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ নাগরিক অধিকার আন্দোলনের উপদেষ্টা বিলকিছ ইসলাম ও বাংলাদেশ নাগরিক অধিকার আন্দোলনের মহাসচিব এম জাহাঙ্গীর আলম।

সারাবাংলা/এসজে/একে





Source link