১ বছর পর বসছে আ.লীগের কার্যনির্বাহী সংসদ, আমন্ত্রিত ৫৩ নেতা

88


সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আগামী বছর জাতীয় কাউন্সিলকে সামনে রেখে সাংগঠনিক রোডম্যাপ নির্ধারণে কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় বসছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। প্রায় ১ বছর পর আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে সীমিত পরিসরে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের ৫৩ জন নেতাকে উপস্থিত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

দলের সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে ক্ষমতাসীন দল হিসেবে সমসাময়িক ইস্যুসহ নানা বিষয়ে সাংগঠনিক রোডম্যাপ নির্ধারণ করবে আওয়ামী লীগ। পাশাপাশি আগামী জাতীয় নির্বাচনকে লক্ষ্য রেখে তৃণমূল থেকে সংগঠনকে সুসংগঠিত করার কৌশলও নির্ধারণ করবে দলটি।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যেই গত বছরের ৩ অক্টোবর দলটির সর্বশেষ কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কার্যনির্বাহী সংসদের ৮১ সদস্যের মধ্যে ৩২ জন উপস্থিত ছিলেন। এক বছর পর অনুষ্ঠেয় বৈঠকে উপস্থিত থাকছেন ৫৩ জন নেতা। দলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে উপস্থিত হওয়ার আমন্ত্রণ পাওয়া নেতাদের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর)। পরীক্ষায় যারা নেগেটিভ হয়েছেন তারাই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারবেন।

দলীয় সূত্র জানায়, প্রথমে ৫০ জন নেতার উপস্থিত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হলেও পরে দলীয় সভাপতির অনুমতি নিয়ে আরও তিন জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত থাকবেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, বেগম মতিয়া চৌধুরী, কাজী জাফর উল্লাহ, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য, নুরুল ইসলাম নাহিদ, আবদুর রাজ্জাক, লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, আবদুল মান্নান, শাজাহান খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং আবদুর রহমান।

সভায় দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, ড. হাছান মাহমুদ ও আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম; সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বি এম মোজাম্মেল হক, এস এম কামাল, মির্জা আজম, আফজাল হোসেন, শফিউল আলম নাদেল ও সাখাওয়াত হোসেন শফিকও ‍উপস্থিত থাকবেন। তবে সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন দেশের বাইরে অবস্থান করায় বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন না।

সভায় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যদের মধ্যে থাকবেন অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক বেগম ওয়াসিকা আয়শা খান, তথ্য গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, শ্রম ও জনশক্তি সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, দফতর সম্পাদক বিপ্লব কুমার বড়ুয়া, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজিবুল্লাহ হিরু, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন নাহার চাঁপা, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা এবং উপদফতর সম্পাদক সায়েম খান।

আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যদের মধ্যে যাদের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তারা হলেন— আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, কামরুল ইসলাম ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, মেরিনা জামান কবিতা, পারভীন জামান কল্পনা, হুসনে আরা লুৎফা ডালিয়া, সফুরা খাতুন, আজিজুস সামাদ আজাদ ডন ও সৈয়দ আবদুল আউয়াল শামীম।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা, উপজেলা, পৌর, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড সম্মেলন শেষ করতে চায় ক্ষমতাসীন দল। বৃহস্পতিবারের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা এ বিষয়ে গাইডলাইন দেবেন। সেই গাইডলাইন অনুযায়ী সাংগঠনিক রোডম্যাপ বাস্তবায়নে সেপ্টেম্বর থেকে সাংগঠনিক কর্মসূচি জোরদার শুরু করবেন দলের বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা জানান, দলের আগামী জাতীয় সম্মেলন এবং দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে একেবারে তৃণমূল পর্যন্ত দলকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা শুরু থেকেই ছিল। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা আসে। সেখান থেকে সাংগঠনিকভাবে দলকে চাঙ্গা করতে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে দলেরই কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে সাংগঠনিক রোডম্যাপ নিয়ে দিকনির্দেশনা দেবেন।

দলের শীর্ষ নেতারা বলছেন, বৈঠকে দলের সিনিয়র নেতারাও বিভিন্ন মতামত উপস্থাপন করবেন। সে আলোকেই পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনায় সাংগঠনিক রোডম্যাপ বাস্তবায়নে মাঠে কাজ শুরু কর আওয়ামী লীগ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দলের সভাপতিমণ্ডলীর দু’জন সদস্য সারাবাংলাকে বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলোর সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত এটা তো আমাদের আগেই নেওয়া হয়েছিল। এজন্য বিভাগীয় কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। কমিটিগুলো কাজও শুরু করেছিল। কিন্তু করোনার কারণে আমাদের বারবার আটকে যেতে হয়। করোনার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার সময় বিভিন্ন জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটিগুলো অনুমোদন করেছি। মাঠ পর্যায়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে বিরত থাকলেও ঘরোয়াভাবে সাংগঠনিক কর্মগুলো সচল রেখেছি।

দলীয় সূত্র আরও জানায়, প্রায় এক বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে সাংগঠনিক আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এরই মধ্যে দলের কয়েকজন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মারা গেছেন। তাদের শূন্য পদে অন্যদের মনোনীত করতে পারেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। পাশাপাশি চলতি বছরেই মেয়াদোত্তীর্ণ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর সম্মেলন করার বিষয়েও সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে মনে করছেন দলের নীতিনির্ধারণী নেতারা।

সারাবাংলা/এনআর/টিআর





Source link