১৬ই এপ্রিলের মধ্যে দাবী বাস্তবায়ন না করলে ১৭ই এপ্রিল হতে সারাদেশে বিক্ষোভের ঘোষণা বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের

রাজিব শর্মা(চট্টগ্রাম অফিস): আজ সকাল ১১ ঘটিকায় বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট জাতীয় প্রেসক্লাব এর মাওলানা আকরাম খাঁ মিলনায়তনে এক সাংবাদিক সম্মেলন এর আয়োজন করে । এতে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডঃ গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, মহাসচিব বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট, নির্বাহী সভাপতি অ্যাডঃ দীনবন্ধু রায়, সহ সভপতি প্রদীপ পাল, জগদীশ চন্দ্র রায়, সাধন চন্দ্র মন্ডল, স্বপন হাওলাদার, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব উত্তম দাস, নকুল মন্ডল, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডঃ প্রতীভা বাকচী, ধর্ম সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক সুমন সরকার, ঢাকা দক্ষিনের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল ঘোষ, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি প্রবীর হালদার, সিনিয়র সহ সভাপতি সঞ্জয় চক্রবর্তী, নারায়নগঞ্জ জেলা সাধারণ সম্পাদক অ্যাডঃ রঞ্চিত দে, হিন্দু যুব মহাজোট এর সভাপতি কিশোর বর্মন, নির্বাহী সভাপতি প্রদীপ শঙ্কর, সিনিয়র সহ সভাপতি গৌতম সরকার অপু সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ মাহাতো, প্রধান সমন্বয়কারী প্রশান্ত হালদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুমন অধিকারী, হিন্দু ছাত্র মহাজোটের সভাপতি সাজেন কৃষ্ণ বল,প্রচার সম্পাদক তপু কুন্ড ,আইটি বিষয়ক সম্পাদক নয়ন হালদার প্রমূখ।

বক্তাগন বলেন ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পরে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেই সংখ্যালঘু নির্যাতনে জিরো টলারেন্সের কথা ঘোষনা করেছিলো। কিন্তু ২০১৯ সালের গত আড়াই মাসেই সারা দেশে খুন হয়েছেন ২৭ জন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। খুনের চেষ্টা করে আহত করা হয়েছে ৫৮ জনকে। বসত বাড়ী ও ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নি সংযোগ হয়েছে ২৫৪ টি। জমি দখল এর ঘটনা ঘটেছে ১৪৩ টি। শতাধিক মন্দির ও প্রতিমা ভাংচুর হয়েছে। ধর্ষন গণ ধর্ষন ও শ্লিলতাহানীর ৩৭ শিকার হয়েছে জন। অপহরন ও নিখোজ ১৩ জন। ফেসবুকে তথাকথিত ধর্ম অবমাননার অযুহাতে এছাড়া মুক্তিপন চাঁদা দাবী, দেশত্যাগের হুমকী, পাবনার বেরা উপজেলায় ৫ শতাধিক মানুষের চলচলের রাস্তা বন্ধ করে দেশত্যাগের হুমকী, কিশোরী অপহরন, পিকনিকে নিয়ে ২ শতাধিক হিন্দু ছাত্র ছাত্রীদের গরুর মাংস খাওয়ানো হয়েছে। বর্তমান সরকারের সময় গত দশ বছরে সাড়া দেশে হিন্দু নির্যাতনের ঘটনা মধ্যযুগের বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আসামী গ্রেফতার হলেও তারা ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে। হিন্দু নির্যাতনের অপরাধীদের আজ পর্যন্ত কারো কোন শাস্তি হয় নাই। ফলে অপরাধীরা অপরাধ করতে আরও উৎসাহিত হচ্ছে। যার কারনেই বারবার একেরপর এক হামলার ঘটনা ঘটছে।

!-- Composite Start -->
Loading...

কয়েকদিন আগেই মানবাধিকারকর্মী প্রিয়বালা বিশ্বাস ও প্রীতিলতা বিশ্বাসের বসতবাড়ী আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হল। সিলেটের গোপাল টিলা মন্দির উন্নয়নে বাধা, পাবনা স্বপন বসাকের জমি দখল চেষ্টা সহ সারা দেশে ব্যপকভাকে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর আক্রমন , লুন্ঠন বসতবাড়ী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নি সংযোগ, চাঁদা দাবী দেশত্যাগের হুমকীর মত ঘটনা ঘটছে। দেশে নিরাপদে বসবাস করার মত অবস্থা এখন আর নেই। সব ক্ষেত্রে সরকারী দলের লোকজন জড়িত থাকায় আসামীরা খুব সহজেই পাড় পেয়ে যাচ্ছ্ কোন অপরাধেরই আজ পর্যন্ত শাস্তি বিধান হয় নাই।

সরকার নিজেদের অসাম্প্রদায়িক ঘোষণা করলেও বেশ কিছু মন্ত্রী দেশকে ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক পরিচালনা, মহানবীর আদর্শ মোতাবেক পরিচালনা, মদিনা সনদ অনুযায়ী পরিচলনার ঘোষনা দিয়ে হিন্দু জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে দিচ্ছে। প্রত্যেক ধর্মাবলম্বদের জন্য আলাদ ধর্ম শিক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও ওয়ান থেকে ক্লাস টেন পর্যন্ত বাংলা সাহিত্য এর বইতে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কিত প্রবন্ধ কবিতা, ভ্রমণ কাহিনী সংযোজন করে হিন্দু ছাত্র ছাত্রীদের তা পড়তে বাধ্য করা হচ্ছে।

মাননীয় আইনমন্ত্রী সংখ্যালঘু কমিশন গঠণের কথা বলেছেন। সংখ্যালঘু কমিশন হিন্দু সম্প্রদায়ের কোন কাজে আসবে না। দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় দীর্ঘদিন যাবৎ জাতীয় সংসদে ৬০টি সংরক্ষিত আসন ও পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থার দাবী করে আসছে এবং একটি সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রনালয় দাবী করেছে। কিন্তু সরকারের সে বিষয়ে কোন সুস্পষ্ট বক্তব্য এখন পর্যন্ত নাই। আমরা আশা করবো সরকার অচিরেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব সৃষ্টির জন্য জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসন ও পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা পূন প্রতিষ্ঠা করবে।

সারা দেশে যে হারে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর আক্রমণ চলছে তাতে হিন্দু সম্প্রদায় উদ্বিগ্ন না হয়ে পারে না। এদেশের সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে বৃটিশ পার্লামেন্টে এবং আমেরিকার কংগ্রেসে শুনানী এবং প্রস্তাব পাশ হলেও লজ্জার বিষয় এদেশের হিন্দু সম্প্রদায় জীবনের ঝুকি নিয়ে যাদেরকে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠায়; তারা আজ পর্যন্ত হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতন নিপিড়নের বিষয় নিয়ে সংসদে কোন কথা বলে নাই। সরকার হিন্দু সম্প্রদায়ের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় কোন কার্যকর ভূমিকা রাখেন নাই। সেকারনে এদেশের সংখ্যলঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য এবং এদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য জাতীয় সংসদে ৬০ টি সংরক্ষিত ও পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা ছাড়া অন্য কোন উপায় নেই।

হিন্দু সম্প্রদায় মনে করে প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি না হওয়ায়, জাতীয় সংসদে হিন্দু সম্প্রদায়ের কোন প্রতিনিধিত্ব না থাকার কারনে এবং রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় কারনেই হিন্দু সম্প্রদায় বার বার আক্রান্ত হচ্ছে। আর তাই হিন্দু সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব রক্ষা ও গণতন্ত্রের স্বার্থে জাতীয় সংসদে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব সুনিশ্চিত করেতে হবে। আর সেকারনেই আপনাদের মাধ্যমে সরকারের কাছে হিন্দু সম্প্রদায় দাবী করছে।

১। জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলাকালে ও নির্বাচন পরবর্তী হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর সহিংসতা ও নির্যাতন নিরোধ কল্পে এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদে ৬০টি সংরক্ষিত আসন ও পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা পূণঃ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

২। একটি সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে একজনকে পূর্ণ মন্ত্রী নিয়োগ করতে হবে।

৩। হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতনকে মানবতা বিরোধ অপরাধ গণ্য করে মানবতা বিরোধী অপরাধ ট্রাইবুনালে বিচার করে শাস্তি বিধান করতে হবে। এবং ক্ষতিগ্রস্থদের উপযুক্ত ক্ষতিপুরন দিতে হবে।

৪। সকল পাঠ্য পুস্তক ধর্ম নিরেপেক্ষ করতে হবে। দূর্গা পুজায় ৩ দিন, রথ যাত্রায় ১ দিন ও শ্রী শ্রী হরি ঠাকুরের জন্ম দিন মহাবারুণীতে ১ দিনের সরকারী ছুটি ঘোষণা করে সংবিধানে বর্ণিত সম অধিকার ও সম মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে ।

আগামী ১৬ এপ্রিল ২০১৯ এর মধ্যে সরকারকে দাবী বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট ঘোষণা দিতে হবে অন্যথায় ১৭ এপ্রিল হিন্দু সম্প্রদায় সারা দেশের প্রত্যেক জেলা ও উপজেলা সদরে মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন পূর্বক পরবর্তী কর্মসূচী ঘোষণা করবে।

মতামত দিন

Post Author: newsdesk

A thousand enemies is not enough; a single enemy is. There is nothing as a ‘harmless’ enemy.