‘১৫ আগস্ট খালেদার জন্মদিন পালন বিএনপির প্রতিহিংসার রাজনীতি’

76


সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন প্রতিহিংসার রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের স্মরণসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘১৯৯৫ সাল থেকে খালেদা জিয়া ১৫ আগস্ট জন্মদিন পালন করতে শুরু করেন। কিন্তু যখন করোনা টেস্ট করান তখন তার জন্ম তারিখ ৮ মে। বিয়ের রেজিস্ট্রেশন, মেট্রিক পরীক্ষা, করোনা টেস্ট- বিভিন্ন জায়গায় ভিন্ন ভিন্ন জন্ম তারিখ দেওয়ার মাধ্যমে তিনি শুধু দলের সঙ্গেই নয়, জাতির সঙ্গেও প্রতারণা করছেন।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিশ্বের ইতিহাসে মহান নেতাদের হত্যার শিকার হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। কিন্তু নেতার পরিবারের নারী-শিশুসহ আত্মীয়স্বজনকে হত্যার ঘটনা বিরল।’ তিনি বলেন, ‘ইতিহাসে দেখা গেছে, যারাই ষড়যন্ত্র করে কাউকে হত্যা করে তাদের কারুরই স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি। পলাশীর ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্তদের যেমন হয়নি, তেমনি বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে জড়িত ও পরবর্তী সময়ে বিচার করতে না দেওয়া জিয়াউর রহমানও বুলেটের আঘাতেই মৃত্যুবরণ করেন। শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে এতিম বানিয়ে খালেদা জিয়াও পরে বিধবা হন।’

১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পেছনে জিয়াউর রহমানের জড়িত থাকার অভিযোগ করেন আওয়ামী লীগের নেতারা। তারা বলেন, ‘জিয়াউর রহমান শুধু হত্যাকারীদের প্রশ্রয়ই দেয়নি, পরবর্তীতে তাদের নিরাপদে দেশত্যাগেও সাহায্যও করেছেন।’

স্মরণসভায় ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যখন পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হারিয়ে দিকভ্রান্ত তখন শেখ হাসিনা এসে হাল ধরেন। শেখ হাসিনা যেভাবে তার ভাগ্যবিড়ম্বিত পিতার স্বপ্ন পূরণের হাল ধরেছেন ও কাজ করে চলেছেন ইতিহাসে তার নজির বিরল। পিতার খুনিদের প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধ নয়, বিচার ব্যবস্থার সাহায্যে শাস্তির আওতায় আনার ব্যবস্থাও করেন তিনি।’ বঙ্গবন্ধুকন্যার হাত ধরে বঙ্গবন্ধুর রেখে যাওয়া সোনার বাংলা গড়তে উপস্থিত নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

আওয়ামী লীগের সাংগঠিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, ‘জিয়াউর রহমান যেমন বঙ্গবন্ধু হত্যার মূল নায়ক, তেমনি খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানও আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশে শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা চালায়।’ তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে স্বাধীনতাবিরোধীদের ষড়যন্ত্র চলছে ও চলবে। তাই সবাই যেন সতর্ক থাকে।’

বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব সাফিয়া খাতুন উপস্থিত নারী নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান ও দেশ গড়তে প্রধামনন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম ক্রিক।

সারাবাংলা/আরএফ/পিটিএম





Source link