১৪ দফা দাবি জানিয়ে বিএমএসএফ’র দেশব্যাপী কলম বিরতি

0
113

স্টাফ রিপোর্টার:: সাংবাদিক সুরক্ষায় আইন প্রণয়নসহ ১৪ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ)।

মঙ্গলবার (২ মার্চ) সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দেশব্যাপী কলম বিরতি পালনকালে এসব দাবি জানায় বক্তারা।

বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আবু জাফর বক্তবে বলেন, সারাদেশের সাংবাদিকদের স্বার্থে দাবি ও মর্যাদা আদায় আমরা মাঠে আছি। দেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর সময়কালে সাংবাদিক সমাজ ও সাংবাদিকরা অবক্ষিত একটি জায়গায় পরিণত হয়েছে। একে সুরক্ষা দিতে হলে সরকারকে দ্রুত ভাবতে হবে। সাংবাদিকরা চাচ্ছে কি? সরকারের কাছে বেতন চাচ্ছি না, ভাতা চাচ্ছি না, শুধু আমাদের মর্যাদা টুকু চাচ্ছি। সাংবাদিকদের তালিকা প্রনয়ন চাচ্ছি। অশিক্ষিত, কুশিক্ষিত সাংবাদিকরা যেন এ পেশায় প্রবেশ না করতে পারে এজন্য আমরা সাংবাদিকদের নিয়ম নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা এই দীর্ঘ সময় বহু ঘটনা দেখেছি। সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো আমাদের ব্যতিত করে। আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়।

সংগঠনের সহ-সভাপতি ড. সাজ্জাদ হোসেন চিশতি বলেন, সারা দেশে প্রতিনিয়ত সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাচনের মত ঘটনা ঘটছে। কিন্তু যদি এর সুষ্ঠু বিচার এবং আইন না হলে এভাবে প্রতিনিয়ত সাংবাদিকরা নির্যাতনের স্বীকার হবে। তাই তিনি সরকারের নিকট সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধে আইন প্রণয়নের দাবী করেন। তা না হলে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর ব্যানারে বৃহত্তর কর্মসূচীর ডাক দেওয়ার হুশিয়ারী দেন।

দাবি গুলো হল, সরকার কর্তৃক সারাদেশের পেশাদার সাংবাদিকদের তালিকা দ্রুত প্রণয়ন করে আইডি নাম্বার প্রদান করতে হবে। সরকার ও গণমাধ্যম কর্তৃক দ্রুত সাংবাদিক নিয়োগে নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধে যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন করতে হবে। ৬ষ্ঠ থেকে উচ্চতর ক্লাস সমূহের পাঠ্য বইয়ে গণমাধ্যম বিষয়ক একটি অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সমূহের পিআরও পদে প্রকৃত সাংবাদিকদের নিয়োগ করতে হবে। পেশাগত কাজে সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার ও হামলা-মামলার ব্যয়ভার সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকে বহন করতে হবে। তালিকাভুক্ত সাংবাদিককে সরকার কর্তৃক মাসিক ভাতা প্রদান করতে হবে। হরতাল ও অবরোধ চলাকালে সাংবাদিক ও সংবাদপত্র বহনকারী যানবাহন আওতামুক্ত রাখতে হবে। প্রতিটি গণমাধ্যমে সাংবাদিকদের অনুকুলে কল্যাণ ফান্ড গঠন করতে হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধন ও তদন্তে দোষী প্রমাণিত হওয়ার আগে কোন সাংবাদিককে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারবে না।সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগে/মামলা করলে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলে দায়ের করতে হবে। বিটিভি, বাসস ও বাংলাদেশ বেতারে উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করতে হবে। জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকাগুলোকে সরকার কর্তৃক পূর্বের ন্যায় প্রয়োজনীয় কাগজ বরাদ্দ দিতে হবে। জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিদের সরকার ঘোষিত ওয়েজ বোর্ড অনুযায়ী বেতন-ভাতা প্রদান করতে হবে।

এসময় সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সাঈদুর রহমান রিমন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক এমএ আকরাম প্রমুখ।

এসময় , মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কমান্ড কেন্দ্রীয় সহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বিএমএসএফ’র কলম বিরতিকে স্বাগত জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কমান্ড কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ।

এছাড়াও বিএমএসএফ’র কলম বিরতিতে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন অনলাইন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি সোহেল রানা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ইমতিয়াজ, তেজগাঁও কলেজ সাংবাদিক সমিতির মো. আজিম চৌধুরী, তিতুমীর কলেজ সাংবাদিক সমিতির মো. শাহাদাত হোসেন নিশাদ, ইউথ জার্নালিস্ট ফোরামের হাবিবুর রহমান বাবুসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

Print Friendly, PDF & Email

Source link