১৩ মাস পর লেবাননে নতুন সরকার

55


আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৩ মাস পর সংকটপীড়িত লেবাননে নতুন সরকার আত্মপ্রকাশ করেছে।

শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) লেবাননের প্রেসিডেন্ট কার্যালয় থেকে নতুন মন্ত্রিপরিষদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিকে, তৃতীয়বারের মতো লেবাননের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন ধনকুবের নাজিব মিকাতি। প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন এবং স্পিকার নাবিহ বেরির উপস্থিতিতে নতুন সরকার গঠনের আদেশে সই করেন প্রধানমন্ত্রী।

দেশটিতে দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কোনো সরকার ছিল না। এর মধ্যেই তীব্র অর্থনৈতিক মন্দার মুখে পড়েছে লেবানন। এর প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক সহায়তা পেতে একটি নতুন মন্ত্রিসভা প্রয়োজন ছিল। তবে প্রয়োজনীয় সংস্কারের স্বার্থে মন্ত্রিসভার সক্ষমতা দেখার জন্যে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাতি বলেন, পরিস্থিতি খুবই কঠিন। তবে নিত্য দিনের প্রয়োজনীয়তা মেটানো নিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে আহ্বান জানাতে প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগানো হবে।

তিনি বলেন, লেবানিজরা যদি একত্রিত হয়, তাহলে কোনকিছুই অসম্ভব নয়। দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করতে তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছেন।

এর আগে, মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন তার একটি চূড়ান্ত তালিকা প্রেসিডেন্ট মিশেল আউনকে দেখান স্পিকার নাবিহ বেরি। এর পরই তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে প্রেসিডেন্ট ভবনে যান তিনি। পরে সংবাদ সম্মেলনে নতুন প্রধানমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করা হয়।

লেবাননের পূর্ববর্তী সরকারের মতো এই সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদেও নতুনদের নিয়ে আসা হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তা ইউসুফ খলিল। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ফিরাস আবিদকে। তিনি দেশটির সরকার পরিচালিত রফিক হারিরি বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ। করোনা মহামারি মোকাবিলায় কাজ করে তিনি ব্যাপক আলোচনায় আসেন।

অন্যদিকে, নতুন সরকারকে ব্যাপক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। দেশটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খুবই নাজুক। ব্যাংকগুলো দেউলিয়া পর্যায়ে রয়েছে। বিদ্যুৎ সংকটও চরমে।

এছাড়াও, নতুন সরকারকে সময়মতো পার্লামেন্ট নির্বাচনও আয়োজন করতে হবে। আগামী বছর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে পর্যুদস্ত লেবাননের পরিস্থিতি চাঙ্গা করতে আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া কোন উপায় নেই বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তবে, আশঙ্কার বিষয় পশ্চিমা দেশগুলো সম্প্রতি লেবাননের ব্যাপারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন সংস্কার কাজ দ্রুত করতে নতুন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস নতুন সরকারকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, নতুন সরকারই যথেষ্ট নয়। এখনো সমাধানের অনেক বিষয় বাকি রয়ে গেছে।

সারাবাংলা/একেএম





Source link