হেফাজতের উত্থান-পতন: বিতর্কের মূলে ছিলেন বাবুনগরী

95


স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: ঈমান-আকিদা সংরক্ষণ ও বিশ্বনবীর সম্মান রক্ষার ঘোষণা দিয়ে গঠিত অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামকে ‘রাজনৈতিক আকার’ দেওয়া, কখনও আওয়ামী লীগ ও সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান নেওয়া, আবার কখনও নিজ সংগঠনের ভেতর কিংবা আলোচিত হাটহাজারী মাদরাসায় অন্তর্দ্বন্দ্ব তৈরি— নানা ইস্যুতে একের পর এক বিতর্ক তৈরি করেছিলেন। হেফাজতের মধ্যেই একাংশের কাছে ছিলেন গ্রহণযোগ্য, আবার আরেক অংশের কাছে অগ্রহণযোগ্য-বিতর্কিত। এভাবে নানা বিতর্কে বারবার আলোচনায় এসেছেন জুনায়েদ বাবুনগরী।

একযুগ আগে হেফাজতে ইসলাম গঠিত হলেও গত আট বছর ধরে এভাবেই নানা বিতর্ককে সঙ্গী করে পথচলা সংগঠনটির আমির জুনায়েদ বাবুনগরী আকস্মিকভাবেই চলে গেলেন, যার আমির পদ নিয়েও আছে বিতর্ক-বিভ্রান্তি। বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) চট্টগ্রামের হাটহাজারীর আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদরাসায় নিজ কক্ষে বিছানায় অজ্ঞান হয়ে পড়েন বাবুনগরী। তাকে নগরীর প্রবর্তক মোড়ে স্পেশালাইজড কেয়ার অ্যান্ড রিচার্স (সিএসসিআর) হাসপাতালে নেওয়ার পর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

১৯৫৩ সালের ৮ অক্টোবর চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার বাবুনগর গ্রামে জন্ম নেওয়া ‍জুনায়েদ বাবুনগরী হাটহাজারী মাদরাসায় পড়ালেখা করেন। সত্তরের দশকের শেষদিকে পাকিস্তানের করাচিতে গিয়ে উচ্চতর হাদিস গবেষণায় ডিগ্রি নেন। হাটহাজারী মাদরাসার সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ১৯৭৮ সালে দেশে ফিরে তিনি নিজ গ্রাম বাবুনগর মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। ২০০৩ সালে তিনি হাটহাজারী মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। সর্বশেষ তিনি ওই মাদরাসার শিক্ষা পরিচালক ছিলেন। এছাড়া তিনি বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সহ-সভাপতি এবং চট্টগ্রাম নূরানী তালীমুল কুরআন বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন।

তবে মাদরাসার প্রবীণ শিক্ষক হিসেবে ৬৭ বছর বয়সী জুনায়েদ বাবুনগরী সেভাবে কখনও আলোচনায় আসেননি। তিনি হেফাজতে ইসলামকে নেতৃত্ব দিতে গিয়েই বারবার আলোচনায় এসেছেন। বক্তব্য-বিবৃতিতেও বিভিন্নসময় সমালোচনা-বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার এক বছর পর ২০১০ সালের ১৯ জানুয়ারি কওমি মাদরাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের আত্মপ্রকাশ হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা আমীর ছিলেন প্রবীণ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব শাহ আহমদ শফী এবং মহাসচিব ছিলেন জুনায়েদ বাবুনগরী। আহমদ শফী সেসময় হাটহাজারী মাদরাসার পরিচালক এবং বাবুনগরী সহকারী পরিচালক ছিলেন। দ্রুত সারাদেশের জেলা-উপজেলায় সংগঠনের বিস্তৃতি ঘটে। ঈমান-আকিদা সংরক্ষণ ও বিশ্বনবীর সম্মান রক্ষার ঘোষণা দিয়ে অরাজনৈতিক হিসেবে সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ হলেও একবছর পর থেকেই সংগঠনটি বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের সমালোচনায় নামে। ২০১১ সালে সরকার ‘নারী উন্নয়ন নীতিমালা’ ঘোষণা করলে হেফাজতে ইসলাম প্রকাশ্যে এর বিরোধিতা শুরু করে।

তবে ২০১৩ সালে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন শুরু হলে হেফাজতে ইসলাম রাজনৈতিক ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। মঞ্চের সংগঠকদের নাস্তিক-ব্লগার আখ্যা দিয়ে এবং যুদ্ধাপরাধীদের নামে আলেম-ওলামাদের বিচার করা হচ্ছে বলে বিভ্রান্তি ছড়াতে থাকেন সংগঠনটির নেতারা। আকস্মিকভাবে দেশে ইসলাম বিরোধী কার্যকলাপ বন্ধের দাবি তুলে ২০১৩ সালের ৫ মে সারাদেশ থেকে লংমার্চ নিয়ে ঢাকার শাপলা চত্বরে যায় সংগঠনটির কয়েক হাজার নেতাকর্মী, যার মধ্যে অধিকাংশই দেশের বিভিন্ন মাদরাসার শিক্ষার্থী। সেখানে রক্তক্ষয়ী সংঘাত হয়। গ্রেফতার করা হয় জুনায়েদ বাবুনগরীসহ কয়েকজন হেফাজত নেতাকে। মূলত এরপরই বাবুনগরী প্রকাশ্য আলোচনায় আসেন।

আরও পড়ুন:

হেফাজতের উত্থান-পতন: বিতর্কের মূলে ছিলেন বাবুনগরী

অভিযোগ আছে, প্রয়াত আমির শাহ আহমদ শফীর অজ্ঞাতসারে জুনায়েদ বাবুনগরী ও তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন হেফাজত নেতা বিএনপি-জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে ‘ঢাকা অবস্থান’ কর্মসূচি দীর্ঘায়িত করে সরকার পতনের টার্গেট নিয়েছিলেন। তাদের কৌশল জানতে পেরে শাহ আহমদ শফী শেষ পর্যন্ত সমাবেশের মঞ্চে আর যাননি।

এ বিষয়ে হেফাজতে ইসলামের নেতারা কখনোই প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। তবে ২০২০ সালের ১৪ নভেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে বাবুনগরীবিরোধী হেফাজতের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মাঈনুদ্দিন রুহী বলেছিলেন, শাপলা চত্বরের আন্দোলনের দিন কারও কারও সঙ্গে জামায়াত ইসলামীর যোগাযোগ হয়েছিল। এছাড়া হেফাজতের আরেক নেতা বিএনপি নেতা প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার সঙ্গে বাবুনগরীর টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনেছিলেন।

লংমার্চ কর্মসূচির পর গ্রেফতার বাবুনগরী জামিনে বেরিয়ে তীব্রভাবে আওয়ামী লীগ ও সরকার বিরোধী ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। রাজনীতি না করলেও বিভিন্ন সভায় তিনি ‘সরকার পতনের’ কথাও বলতে থাকেন বলে অভিযোগ আছে। তখন থেকেই তিনি মূলত তীব্রভাবে আওয়ামী লীগ ও সরকারবিরোধী এবং জামায়াতের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিতি পান।

প্রবীণ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব শাহ আহমদ শফীর জীবদ্দশায় তার সঙ্গে বিরোধে জড়িয়েও পড়েন বাবুনগরী। লংমার্চ কর্মসূচির বছরখানেক পর থেকেই হেফাজতে ইসলামের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের বিষয় ধীরে ধীরে সামনে আসতে থাকে। তখন দৃশ্যপটে চলে আসেন শফীর ছেলে হাটহাজারী মাদরাসার সহকারী শিক্ষা সচিব আনাস মাদানি। তার নেতৃত্বে হেফাজতের একটি অংশ সরকারের প্রতি ‘কিছুটা নমনীয়’ এবং বাবুনগরীর নেতৃত্বে আরেকটি অংশ ‘তীব্র সরকার বিরোধী’ অবস্থান নেয়। এর মধ্যে কওমি মাদরাসার ডিগ্রির সরকারি স্বীকৃতিও আসে। এভাবে শফীর নেতৃত্বে হেফাজতের একটি অংশ সরকারের বিরোধিতা থেকে সরে আসে। মূলত তখনই হেফাজতে ইসলাম শফীপন্থী ও বাবুনগরীপন্থী- এই দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। সেই বিভক্তি প্রকাশ্যে বিরোধে রূপ নেয় ২০২০ সালে এসে।

২০২০ সালের ১৭ জুন হাটহাজারী মাদরাসার শূরা কমিটি ওই মাদরাসার সহকারী পরিচালকের পদ থেকে জুনায়েদ বাবুনগরীকে অব্যাহতি দেয়। এ নিয়ে বাবুনগরীর অনুসারীরা প্রকাশ্যে শাহ আহমদ শফী ও তার ছেলে আনাস মাদানির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের অনুসারীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি চলে। বিরোধের খবর আসে গণমাধ্যমেও। তবে দিনকয়েক পরেই শাহ আহমদ শফীর কাছে কান্নাজড়িত কন্ঠে বাবুনগরীর দুঃখপ্রকাশ ও আনাস মাদানিকে ‘ভাই’ হিসেবে উল্লেখ করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

তবে এই বিরোধের যে অবসান হয়নি তা স্পষ্ট হয় ওই বছরের সেপ্টেম্বরে এসে। ১৪ সেপ্টেম্বর হাটহাজারী মাদরাসায় ছাত্র বিক্ষোভ হয়। মাদরাসার অভ্যন্তরে ভাংচুর হয়। বেশ কয়েকজন শিক্ষককে লাঞ্ছিত করা হয়, যারা ছিলেন শফীর অনুসারী। এমনকি শফীর কক্ষও ভাংচুর করা হয়। বিক্ষোভের মধ্যে এক পর্যায়ে ১৭ সেপ্টেম্বর মাদরাসার পরিচালক শাহ আহমদ শফী স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। শফীর সন্তান আনাস মাদানিকে মাদরাসার শিক্ষা সচিব পদ থেকে অব্যাহতির ঘোষণা আসে। মাদরাসার দায়িত্ব দেওয়া হয় শূরা কমিটিকে।

বিক্ষোভের মধ্যেই ১৮ সেপ্টেম্বর প্রায় শতবর্ষী শাহ আহমদ শফী মারা যান। বিক্ষোভ এবং শফীর মৃত্যুর পর হারানো পদের সঙ্গে আরও পদ এবং ক্ষমতা নিয়ে মাদরাসায় ফিরে আসেন বাবুনগরী। হেফাজতে ইসলামের মধ্যেও বাবুনগরীর অনুসারীরা সক্রিয় হয়ে ওঠেন। বাবুনগরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট মাদরাসা পরিচালনা কমিটি গঠিত হয়। তাকে মাদরাসার শিক্ষা পরিচালক ও শায়খুল হাদিস ঘোষণা করা হয়।

শফীর মৃত্যুর পর দ্রুত দৃশ্যপট থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় হেফাজতে ইসলামের মধ্যে তার অনুসারীদের। বাবুনগরীর অনুসারীরা তাকে সামনে রেখে সংগঠনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হন। ২০২০ সালের ১৫ নভেম্বর হাটহাজারী মাদরাসায় প্রতিনিধি সম্মেলনের মাধ্যমে বাবুনগরী আমির নির্বাচিত হন। গঠন করা হয় ১৫১ সদস্যের কমিটি। তবে শফীপন্থীরা এই সম্মেলন প্রত্যাখান করে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পাল্টা কাউন্সিলের ঘোষণা দেন। তাদের অভিযোগ, হেফাজতে ইসলামকে বিএনপি-জামায়াতের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর শাহ আহমদ শফীর শ্যালক মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন বাদি হয়ে চট্টগ্রামের তৃতীয় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিপলু কুমার দে’র আদালতে ‘মানসিক নির্যাতনের মাধ্যমে শফীর মৃত্যু ঘটানোর’ অভিযোগে একটি মামলা করেন। মামলায় মামুনুল হকসহ ৩৬ জনকে আসামি করা হয়। আদালত পিবিআইকে মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেন।

চলতি বছরের (২০২১) ১২ এপ্রিল হেফাজতে ইসলামের আমীর জুনায়েদ বাবুনগরীসহ ৪৩ জনকে আসামি করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পিবিআই। এতে আসামি হিসেবে ছিলেন ‍জুনায়েদ বাবুনগরীও। তবে বাবুনগরী বারবার শফীর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করে আসছিলেন। প্রতিবেদন দাখিলের পর তিনি এক বিবৃতিতে পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেন।

হেফাজতের প্রতিনিধি সম্মেলনের দু’দিন আগে সংগঠনটির তৎকালীন কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক ঢাকায় যুব খেলাফত মজলিসের এক সমাবেশে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতা করে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য গড়তে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে লাশের পর লাশ পড়বে। আবার শাপলা চত্বর হবে।’

এ নিয়ে দেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে। কিন্তু হেফাজতের আমির নির্বাচিত হয়েই জুনায়েদ বাবুনগরী ভাস্কর্য ইস্যুতে মামুনুলকে সমর্থন করে হাটহাজারীতে এক সভায় বলেন, ‘মদিনা সনদে যদি দেশ চলে তাহলে কোনো ভাস্কর্য থাকতে পারে না। ভাস্কর্য নির্মাণ থেকে সরে না দাঁড়ালে আরেকটি শাপলা চত্বরের ঘটনা ঘটবে এবং ভাস্কর্য ছুঁড়ে ফেলবেন।’

ভাস্কর্য ইস্যুতে দেশ প্রায় তিনমাস ধরে উত্তপ্ত থাকার পর চলতি বছরের মার্চে আরেকদফা সংঘাতের জন্ম দেয় বাবুনগরীর নেতৃত্বাধীন হেফাজতে ইসলাম। ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দিনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানায় আক্রমণ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের চালানো গুলিতে চারজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্নস্থানে রক্তক্ষয়ী সংঘাত হয়। সারাদেশে ১৭ জনের মৃত্যুর খবর আসে গণমাধ্যমে।

এসব ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের একটি রিসোর্টে নারীসহ অবরুদ্ধ হন হেফাজত নেতা মামুনুল হক। তিনি প্রথমে ওই নারীকে তার বিবাহিত স্ত্রী বলে দাবি করেন। কিন্তু পরে ওই নারীই তার বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। বাবুনগরীসহ হেফাজত নেতৃত্ব মামুনুলের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে সমালোচিত হন।

পরবর্তীতে মামুনুল হক, আজিজুল হক ইসলামাবাদীসহ হেফাজতে ইসলামের অর্ধশতাধিক নেতা গ্রেফতার হন, যাদের সবাই বাবুনগরীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। এ পরিপ্রেক্ষিতে বাবুনগরী বারবার গণমাধ্যমে বার্তা পাঠিয়ে ‘হেফাজতে ইসলাম সরকারবিরোধী নয়’ বলে প্রচার করতে থাকেন। হেফাজত নেতাদের একটি দল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবনে গিয়ে দেখাও করেন। তবে হেফাজতের বিরুদ্ধে সরকারের অনড় অবস্থানে থাকে।

এক পর্যায়ে ২৫ এপ্রিল রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বাবুনগরী হেফাজতে ইসলামের কমিটি বিলুপ্তির ঘোষণা দেন। তবে ৭ জুন বাবুনগরীকে আমির করে আবারও ৩৩ সদস্যের কমিটি ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর থেকে ‘আগের তেজ হারিয়ে’ শুধু বাবুনগরীর নামে গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল হেফাজতে ইসলামের কর্মকাণ্ড।

বাবুনগরীর মৃত্যুর পর হেফাজতে ইসলামের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে নায়েবে আমির শেখ সালাহউদ্দিন নানুপুরী সারাবাংলাকে বলেন, ‘হেফাজতে ইসলামের তো এখন আর তেমন কোনো কাজ নেই। তিনি মাদরাসারও শিক্ষা পরিচালক ছিলেন। মাদরাসার শিক্ষকরা আছেন। শূরা কমিটি আছে। সবাই বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

বিএনপির শোক

হেফাজতে ইসলামের আমির জুনায়েদ বাবুনগরীর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান মীর মো. নাছির উদ্দীন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বেগম রোজী কবির, গোলাম আকবর খন্দকার, এস এম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, নগর বিএনপির আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন, সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর, দক্ষিণ জেলার আহবায়ক আবু সুফিয়ান ও সদস্য সচিব মোস্তাক আহমেদ খান এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

শোক বার্তায় বিএনপি নেতারা বলেন, জুনায়েদ বাবুনগরীর মৃত্যুর সংবাদ আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনার্ত। মুসলিম নেতা হিসেবে তিনি দেশব্যাপী ব্যাপক জনপ্রিয় ছিলেন। তিনি ২০১৩ সালে হেফাজতের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে কারাবরণ করেছিলেন। আহমদ শফীর ইন্তেকালের পর হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের হাল ধরেন জুনায়েদ বাবুনগরী। তার মৃত্যুতে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে তা সহজে পূরণ হবার নয়।

সারাবাংলা/আরডি/পিটিএম





Source link