হেফাজতপন্থীরা সরকারের ভেতর সক্রিয় – DesheBideshe

0
204

ঢাকা, ২৫ এপ্রিল- সরকারের একশনে নাস্তানাবুদ হেফাজত। এখন পর্যন্ত হেফাজতের প্রায় দুই ডজন শীর্ষ নেতকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সারাদেশব্যাপী হেফাজতের প্রায় শাতাধিক বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এতে হেফাজত বিব্রত এবং বিপর্যস্ত। রাজনৈতিক অঙ্গনের সকলেই বলছে যে সরকার যেভাবে হেফাজতকে দমন করেছে তা রাজনৈতিক প্রজ্ঞার এক অসাধারণ নজীর। কিন্তু হেফাজতের এই মৃতপ্রায় অবস্থা থেকে হেফাজতকে আবার জীবিত করতে সরকারের ভেতরেই একটি অংশ সক্রিয় বলে জানা গেছে। তারা হেফাজতের বিভিন্ন নেতার সঙ্গে কথা বলছেন, হেফাজতের নরমপন্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং সরকার যাতে হেফাজতের একটি অংশের সঙ্গে সমঝোতা রাখে সে ব্যাপারে দেনদরবার করছেন এরকম বেশকিছু তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, হেফাজত এটি জানে যে সরকারের সঙ্গে বিরোধ হলে হেফাজতের অস্তিত্ব বিলিন হয়ে যাবে এবং তাদের দীর্ঘদিনের আয় রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে যাবে। কওমি মাদ্রাসার ওপর তাদের যে নিয়ন্ত্রণ সেটাও তারা হারাবে। এ কারণে হেফাজতের এই ধূর্ত অংশ যেকোনোভাবে সরকারের সঙ্গে সমঝোতায় আসার পক্ষপাতি। আর এই সমঝোতা যাতে হয় সেজন্য সরকারের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি তৎপরতা চালাচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্টসূত্রগুলো বলছে যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রকাশ্যে দেখা করা এবং তা নিয়ে গণমাধ্যমে রিপোর্ট প্রকাশের পর হেফাজতের টনক নড়েছে এবং তারা দেখেছে যে গণমাধ্যম তাদের প্রতিপক্ষ।তারা দেখেছে যে এসব সংবাদ আসার পর সমঝোতার পথ বন্ধ হয়ে যায় এজন্য তারা প্রকাশ্য যোগাযোগের বদলে গোপন যোগযোগ করছে। সূত্রগুলো বলছে সরকারের অন্তত দুজন মন্ত্রী আছেন যাদের সঙ্গে হেফাজতের বিভিন্ন নেতাদের এখনও যোগাযোগ রয়েছে। অন্তত এক ডজন এমপি রয়েছে যাদের সাথে হেফাজত এখনও নিয়মিত যোগাযোগ করছে। অন্য একটি সূত্র বলছে, একজন প্রভাবশালী গুরুত্বপূর্ণ সচিবের সঙ্গে হেফাজত আসলে মূল যোগাযোগ করছে এবং ওই সচিবের মাধ্যমে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য যে, ২৬ এবং ২৭ মার্চ সারাদেশে তাণ্ডবের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হেফাজতের ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে যান এবং যারা আইনের লঙ্ঘন করেছেন তাদের পরিচয় না দেখে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে হেফাজতের একাধিক শীর্ষ নেতা জেলে শুধু জুনায়েদ বাবুনগরী এবং জিহাদী ছাড়া। এই অবস্থায় হেফাজতকে চূড়ান্তভাবে আঘাত করার জন্য সরকার অনেকগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে কওমি মাদ্রাসা পরিচালনার পদ্ধতি পরিবর্তন করা, হেফাজতের শৃঙ্খল থেকে কওমি মাদ্রাসাকে মুক্ত করা, কওমি মাদ্রাসা পরিচালনা করে যেসব হেফাজতের নেতারা সম্পদের পাহাড় গড়েছেন তাদের ব্যাপারে খোঁজ খবর নেয়া এবং সামগ্রিকভাবে হেফাজতের মাদ্রাসাগুলো আর্থিক বিষয় তদন্ত করে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সরকার কাজ করছে।

আর এটি যদি বাস্তবায়িত করা যায় তাহলে হেফাজতের নাম গন্ধও থাকবে না। কারণ কওমি মাদ্রাসার নিযন্ত্রণ যদি সরকার নিয়ে নেয় তাহলে হেফাজত নামক সংগঠনের ঐতিহাসিক প্রয়োজনীয়তাও শেষ হয়ে যাবে। আর এ কারণে হেফাজত এখন মরিয়া হয়ে উঠেছে। সরকারের ভেতরে যারা তাদের শুভাকাঙ্খি বা যারা হেফাজতপন্থী আছে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে এবং তাদের মাধ্যমে সরকারকে মনীয় হওয়া, সরকার যেন হেফাজতের ব্যাপারে একটু নমনীয় হয় সেই চেষ্টা চলছে। তবে সরকারের বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে, ২০১৩ সালে সমঝোতা করে যে ভুল করেছিলো এবার সমঝোতা করে সেই একই ভুল করতে চায় না।

সূত্র : বাংলা ইনসাইডার
এন এ/ ২৫ এপ্রিল

Source link