হৃদরোগ ও গর্ভধারণ আপনার করণীয়

0
490

গর্ভাবস্থায় হৃৎপিণ্ডের কিছু স্বাভাবিক পরিবর্তন হয়। এ পরিবর্তনগুলো হার্টের জন্য একটা অতিরিক্ত চাপ। মায়ের গর্ভস্থ শিশুর অক্সিজেন ও পুষ্টি জোগাতেই হার্টের এ পরিবর্তন হয়। ফলে অতিরিক্ত দুর্বলতা, একটু শ্বাসকষ্ট, একটু মাথা ঘোরানো গর্ভকালীন কিছু স্বাভাবিক লক্ষণ। হার্টের এসব পরিবর্তন একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। যেমন- মোট রক্তের আয়তন বাড়ে ৪০-৫০ শতাংশ, প্রতিমিনিটে হার্টের পাম্প করা রক্তের পরিমাণ বাড়ে ৩০-৪০ শতাংশ, হৃদস্পন্দন বাড়ে প্রতিমিনিটে ১৫ বারের মতো ও রক্তচাপ কমে যায় প্রায় ১০ মিমি মার্কারির মতো। হার্টের ওপর অতিরিক্ত এসব চাপ সামলাতে একটা সুস্থ-সবল হার্ট গর্ভাবস্থায় অবশ্যই প্রয়োজন।

হৃদরোগ ও গর্ভধারণ : হার্টের ব্লকজনিত হৃদরোগ হৃৎপিণ্ডের একমাত্র রোগ নয়। নানা রোগ, নানা রকমফের। কিছু হৃদরোগ জন্মগত। হৃৎপিণ্ডের ভাল্বে নানা রোগ হয়, আবার হার্টের নিজস্ব রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে হয় ইসকেমিক হার্ট ডিজিস। উচ্চ রক্তচাপ থেকে হতে পারে হৃদরোগ। হার্টের ইনফেকশন ও পরবর্তী জটিলতাও কম হয় না। বাতজ্বর তো খুবই কমন। এসব কিছুই হৃদরোগ।

আপনার যদি কোনো হার্টের অসুখ চিহ্নিত হয়ে থাকে, আপনি যদি গর্ভধারণ করতে চান, তা হলে অবশ্যই একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেবেন। ধরুন, আপনার জন্মগত কোনো হৃদরোগ চিহ্নিত আছে অথবা আপনার বাতজ্বরে ভোগার ইতিহাস রয়েছে বা আপনার হার্টের ভাল্বে কোনো অসুখ ধরা পড়েছে বা অতীতে হার্টের কোনো অপারেশন হয়েছে, এমনকি আপনি উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন, তা হলে আপনার প্রেগন্যান্সি প্ল্যানের আগে একবার হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। আপনার হার্টের সার্বিক ফিটনেস তিনি দেখে দেবেন। জন্মগত হৃদরোগের আছে রকমফের। কোনো কোনো জন্মগত হৃদরোগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে সতর্কতার সঙ্গে গর্ভধারণ এবং গর্ভাবস্থা পার করলে হৃদরোগেও নিরাপদ মাতৃত্ব সম্ভব। আবার কোনো কোনো জন্মগত হৃদরোগে অবস্থা বিবেচনায় চিকিৎসক হয়তো গর্ভধারণ নিষেধই করবেন। বাতজ্বরের প্রকোপ আমাদের দেশে অনেক বেশি। বাতজ্বর কিন্তু হার্টেরই অসুখ। বাতজ্বর যদি সময়মতো শনাক্ত না হয় বা চিকিৎসা না করা হয়, তা হলে পরবর্তীকালে হার্টের ভাল্বের অসুখ হতে পারে। অনেক সময় ভাল্বের এসব অসুখ গর্ভাবস্থায় প্রথম ধরা পড়ে। হার্ট ভাল্বেরও নানা রকম অসুখ হয়। যারা এমন হৃদরোগে ভুগছেন, তারা গর্ভধারণের আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেবেন।

অনেকে হৃদরোগের জন্য নিয়মিত ওষুধ ব্যবহার করেছেন। অনেক ওষুধ গর্ভস্থ শিশুর জন্য খুব ক্ষতিকর। তাই ওষুধপত্র নির্ধারণও গর্ভপূর্ব বিশেষ পরিকল্পনায় অনেক জরুরি। গর্ভধারণের শেষ প্রান্তিকে হঠাৎ মায়ের শ্বাসকষ্ট হলে হেলাফেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শে ইকো পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া উচিত। যেহেতু প্রেগন্যান্সি হার্টের কর্মকা-ের ওপর একটি বাড়তি চাপ, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক

এনআইসিভিডি

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে