হিন্দু সম্প্রদায়দের নির্বাচন বর্জন করার নির্দেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের

রাজিব শর্মা, চট্টগ্রাম অফিসঃ আসন্ন রংপুর-৩ এর নির্বাচন সনাতনী হিন্দু সম্প্রদায়দের দুর্গোৎসব থাকাতেই সেদিন নির্বাচনের তারিখ পেছানোর অনুরোধ করলেও প্রশাসন অনড় থাকাতেই ৭২ হাজার সনাতন সম্প্রদায়দের নির্বাচন বর্জন করে পূজোয় যেতে নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় হিন্দু মহাজোট। সেইসাথে ভোটের দিনক্ষন পরিবর্তনেরও দাবী তুলেছেন তাঁরা।

বাংলাদেশের জাতীয় হিন্দু মহাজোট নেতারা বলেছেন, ‘আসন্ন দুর্গাপূজার সপ্তমীর দিনে রংপুর-৩ আসনে উপ নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারণ করে সাম্প্রদায়িক সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। অনতিবিলম্বে ভোটের দিন পরিবর্তন না করলে রংপুর শহরের ৭২ হাজার হিন্দু ভোট বর্জন করবে। হিন্দুরা ওই দিন ভোট কেন্দ্র নয়, পূজা মন্ডপে যাবে।’

শুক্রবার ঢাকায় এক প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে হিন্দু মহাজোট নেতারা ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়ে বলেন, সপ্তমী পুজার দিনে রংপুরের ৩ ভোটের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রদায়িক সিদ্ধান্তে হিন্দু ধর্মালম্বীরা ক্ষুব্ধ। আমরা নির্বাচন কমিশনারদের পদত্যাগ চাই। কারণ যারা একটি গোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করতে চায় তারা সাংবিধানিক কোন পদে থাকতে পারে না।

এদিন সমাবেশে হিন্দু মহাজোট নেতা পলাশ কান্তি দে বলেন, সামনে শারদীয় দুর্গাপূজা কিন্তু হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে কোন আনন্দ নেই বরং দেখা যাচ্ছে হতাশা। কারণ, দেশের বিভিন্ন জায়গায় মন্দির ও প্রতিমা ভাংচুর করা হচ্ছে।

অভিযোগের সুরে পলাশ কান্তি দে এদিন জানান, ‘বাংলাদেশে আগে রাতের আধারে মন্দির ভাঙ্গা হত, এখন দিনে মন্দির ভাঙ্গা হচ্ছে, ধরা পড়লে প্রশাসন বলছে পাগল ও মানসিক ভারসাম্যহীন। জঙ্গিবাদকে এখন পাগল বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। একই লোক মন্দির ভাঙ্গলে পাগল আর অন্য কিছু করলে জঙ্গি- এ ধরনের অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে। এতেই প্রতিয়মান হয় যে সরকার সংখ্যালঘু নির্যাতন বন্ধে আন্তরিক নয়।

এদিনের সমাবেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে দুর্গা প্রতিমা ভাংচুর ছাড়াও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ভীতি প্রদর্শন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শারদীয় দুর্গাপূজা চলাকালীন সময়ে পরিক্ষার সময় নির্ধারণ করা নিয়ে নিজেদের ক্ষোভ জনসমক্ষে তুলে ধরেন হিন্দু মহাজোটের সভাপতি ড. প্রভাস চন্দ্র রায়।

সমাবেশে উপস্থিত থেকে এদিন সরকারের বিভিন্ন জনবিরোধী সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন – হিন্দু মহাজোটের নির্বাহী সভাপতি সুধাংশু চন্দ্র বিশ্বাস, নির্বাহী মহাসচিব ও মুখপাত্র পলাশ কান্তি দে, সহ-সভাপতি প্রভাস চন্দ্র মণ্ডল প্রমুখ।

মতামত দিন

Post Author: newsdesk

A thousand enemies is not enough; a single enemy is. There is nothing as a ‘harmless’ enemy.