‘হামলাকে পুঁজি করে সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করছে’

83


স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: পূজা মণ্ডপে হামলার ঘটনাকে পুঁজি করে সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করছে বলে অভিযোগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রাজধানীতে আওয়ামী লীগের ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির শান্তি মিছিল’ কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে দেশে বিভাজন সৃষ্টি করছে এবং একে পুঁজি করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে চাচ্ছে।’

মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ অভিযোগ করেন। সংগঠনটির ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আজ তারা (আওয়ামী লীগ) শান্তি মিছিল বের করেছে। অশান্তি ঘটালেন আপনারা, আগুন দিলেন আপনারা, মারলেন আপনারা, গুলি করলেন আপনারা এবং নিরীহ মানুষদের হত্যা করলেন আপনারা; আর আজ শান্তি মিছিল বের করছেন! এর চেয়ে লজ্জার বিষয় আর কিছু হতে পারে না। এই আওয়ামী লীগ এটাই। এটাই আওয়ামী লীগের খাঁটি চরিত্র। এটাই তারা করে এসেছে জন্মের পর থেকে।

‘আওয়ামী লীগ যতদিন ক্ষমতায় থাকবে, ততদিন এ দেশের মানুষ কষ্ট পাবে। আমাদের অর্জনগুলো হারিয়ে যাবে। আমরা আরও বেশি নিচের দিকে নামতে থাকব। তাই আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে সব সচেতন মানুষ মিলে এই দানবীয় সরকারকে সরানো,’— বলেন মির্জা ফখরুল।

সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এদের সরাতে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খৃষ্টান, সাদা-কালো, বাম-ডান সবাইকে এক হয়ে এদের সরাতে হবে। এদের সরিয়ে এখানে জনগণের রাষ্ট্র নির্মাণ করতে হবে, জনগণের সরকার তৈরি করতে হবে, জনগণের বাসভূমি তৈরি করতে হবে। তাহলেই শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে সবচেয়ে বেশি সম্মান প্রদর্শন করা হবে।’

এবারের পূজা মণ্ডপে উপস্থিতি কম ছিল দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই যে সাম্প্রদায়িক সমস্যা-সংকট, সেটি সরকার তৈরি করেছে। এখানে দাদা (গয়েশ্বর চন্দ্র রায়) আছেন। দাদার বাড়িতে পূজা হয়েছে। সেই বাড়িতে আমরা গিয়েছিলাম। এর আগের বছর যখন গেছি তখন দেখেছি কী উৎসব, কী আনন্দ। সেখানে কাছাকাছি আরও কয়েকটি পূজা মণ্ডপে পূজা হচ্ছে। লোকজন রাস্তায় বোঝাই হয়েছিল। কিন্তু এবার গিয়ে দেখলাম দাদার বাড়িতে ওইভাবে লোক নেই। কারণ, মানুষ ভয় পেয়ে গেছে। পূজা সেভাবে হচ্ছে না। এবার ঢাকেশ্বরী মন্দিরেও আমি দেখেছি— অনেক কম মানুষ, বনানীতে পূজা মণ্ডপে ও কম মানুষ। কেন? কারণ, আওয়ামী লীগ সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিভাবে বিভাজন তৈরি করছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশের আত্মাটা কী? বাংলাদেশের আত্মা হচ্ছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, গণতান্ত্রিক সমাজ, মুক্ত সমাজ। সেই আত্মাকে তারা ধবংস করছে পরিকল্পিতভাবে। তারা কথা বলতে দেয় না, লিখতে দেয় না। সাংবাদিক ভাইয়েরা আজ এই খবর বড় জোড় দুই সেকেন্ড/তিন সেকেন্ড বা ১/২ মিনিট দেখাতে পারবে, পত্রিকায় একটা কলাম হবে। আমি বলি দোষ তাদের না। তাদের ম্যানজেমেন্ট, মালিক যারা, তারা সবাই কোনো না কোনোভাবে সরকারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আছে— হয় ব্যবসা-বাণিজ্যে অথবা অন্য কোনোভাবে, অথবা সরকার তাদের নিয়ন্ত্রণ করছে। যদি কিছু লিখতে যায় সাংবাদিকের চাকরি চলে যায়, পত্রিকা বন্ধ হয়ে যায়। অনেক পত্রিকা ও অনলাইন এই সরকার বন্ধ করে দিয়েছে। এরকম একটি দম বন্ধ করা পরিবেশ এখন বিরাজ করছে।’

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনারের সভাপতিত্বে ও কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীমের পরিচালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায়, অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, পেশাজীবী নেতা গাজী আব্দুল হক, প্রকৌশলী মিয়া মুহাম্মদ কাইয়ুম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ডা. পারভেজ রেজা কাঁকন, অধ্যাপক আবদুল করীম, ছাত্র দলের রকিবুল ইসলাম রাকিব।

সারাবাংলা/এজেড/টিআর





Source link