হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে অবমাননা করে তসলিমার নাসরিনের বিতর্কিত পোস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ পাঠক, হযরত মুহাম্মদ (সা.) বিশ্বমানবতার জন্য আল্লাহর এক অনন্য রহমতস্বরূপ প্রেরিত। আল্লাহ তায়ালার ঘোষণা- ‘আমি তোমাকে প্রেরণ করেছি বিশ্বজগতের জন্য বিশেষ রহমতস্বরূপ।’ (সূরা আম্বিয়া-১০৭)। তিনি ধনী-দরিদ্র সাদা-কালো সব মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট ছিলেন। তিনি দার্শনিকই ছিলেন শুধু তাই নয়; বরং তিনি যা আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন তা নিজেই এর বাস্তব নমুনা হিসেবে মানবজাতির জন্য পেশ করেছেন। পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন অঞ্জাম দিয়েছিলেন অত্যন্ত সুচারু রূপে। রাসূল (সা.) পৃথিবীর সবচেয়ে বর্বর একটি জাতিকে শ্রেষ্ঠ জাতিতে পরিণিত করে পৃথিবীতে অনাগতের জন্যও এক অতুলনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন রেখে গেছেন।

রাসূল (সা.) বিশ্বজাহানে শান্তি প্রতিষ্ঠার এক অনন্য নজির স্থাপন করেন, সর্বক্ষেত্রে তিনি সফল ব্যক্তিত্ব। ঐতিহাসিক গিবনের ভাষায় বলা যায়- If all the world was united under one leader, Muhammad would have been the best fitted man to lead the peoples of various creeds, dogmas and ideas to peace and happiness. সমগ্র দুনিয়াটাকে যদি একত্র করে একজনের নেতৃত্বে আনা যেত তাহলে নানা ধর্মমত, ধর্ম বিশ্বাস ও চিন্তার মানুষকে শান্তি সুখের পথে পরিচালনার জন্য হযরত মুহাম্মদ (সা.)-ই হবেন সর্বোত্তম যোগ্য নেতা।’

!-- Composite Start -->
Loading...

আজ অশান্ত বিশ্বে ক্ষমতার দ্বন্দ, সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন, জাতি গোত্রে হানা-হানি সব কিছুর মূলোৎপাটন করে বিশ্বমানবতাকে শান্তির সুশীতল চায়া তলে আচ্ছাদিত করতে নবী মুহাম্মদ (সা.) এর আদর্শ অনুস্বরণের কোনো বিকল্প নেই।
যদিও এখন অনেক ক্ষেত্রে সমালোচিত হচ্ছে পবিত্র মক্কা নগরীর শাসকরা।এজন্য তো মোহাম্মদ (সা.) দায়ী নন।কিন্তু ইসলাম বিদ্বেষীদের তির তবু সেই মহান নেতার দিকেই।

বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি এত কিছু করলেন তবুও তাদের চোখ অন্ধ।তা না হলে কেন তারা এমনটা করছেন?ইসলামের বিরুদ্ধে না লিখলে হয়ত তাদের ঘুম হয় না।
বিতর্কিত লেখিকা তসলিমার সেই ফেসবুক স্যাটাসটি হুবুহু তুলে ধরা হলো আপনাদের জন্য-
‘ইসলামের জন্মভূমিতে মেয়েরা সদ্য একখানা অধিকার পেয়েছে।

অধিকারটি হলো, পুরুষ-অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া তারা ভ্রমণ করতে পারবে। পৃথিবীর আর কোনও মুসলিম দেশে সৌদি আরবের মতো ভয়ংকর নারী বিদ্বেষী আইন নেই। পয়গম্বরের জন্ম যে দেশে, সে দেশে মেয়েদের হাল এত খারাপ কেন! উনি এবং উনার ধর্ম নাকি মেয়েদের প্রচণ্ড মর্যাদা দিয়েছেন! কই! সপ্তম শতাব্দিতে যৌনদাসির ভূমিকায় যে রোল প্লে করতে মেয়েরা বাধ্য হয়েছিল, আজও এই একবিংশ শতাব্দিতে সেই একই রোল প্লে চলছে। গরিব দেশ থেকে গিয়ে যে গরিব মেয়েরা সৌদি আরবের বাসাবাড়িতে কাজ করে, অধিকাংশই ধর্ষিতা হয়ে ফেরত আসে। ১৪০০ বছর পর সৌদি কর্তৃপক্ষ মেয়েদের মৌলিক অধিকার অতি সামান্যই ফেরত দেওয়ার কথা ভেবেছেন, তাও সভ্য দেশগুলোর চাপে।

এই সময় পয়গম্বর বেঁচে থাকলে কী করতেন জানিনা। উনি কি তাঁর উন্মাদ উম্মতদের শাসাতেন নাকি আরও ঢোলের বাড়ি দিতেন কে জানে। তবে বিশ্ব জুড়ে মুসলমানের বিপুল সংখ্যা দেখে নিশ্চয়ই তিনি মুহুর্মুহু মুর্চ্ছা যেতেন। মক্কার মতো ছোট একটি শহরের মানুষকে ধর্মান্তরিত করতে কত অস্ত্র সস্ত্র, কত ছল কৌশল, কত অতর্কিতে হামলা, কত লুণ্ঠন, কত যুদ্ধ, কত রাজনীতির আশ্রয় নিতে হয়েছিল তাঁকে। মারও তো কম খাননি।
ইসলাম আসার আগে মেয়েরা তো আরবদেশে দিব্যি বাণিজ্য করতো, সম্পত্তির মালিক হতো, নিজে পছন্দ করে বিয়ে করতো, এমনকী কম বয়সী পুরুষদের বিয়ে করতো। পয়গম্বরের প্রথম স্ত্রী খাদিজাই তো তার প্রমাণ। উচ্চবিত্ত মেয়েরা সম্পত্তির অধিকার পেলেও, সম্ভবত ছোট ছোট দরিদ্র উপজাতির মেয়েদের সেই অধিকার ছিল না। ধনী দরিদ্র সকলে কিন্তু দেবী পুজোটা ঠিকই করতো। আল লাত, আল উজ্জা, আর মানাত দেবীর পুজো করতো। মেয়েদের সেকালে এদিক ওদিক যেতে হলে পুরুষের অনুমতি নিতে হতো না। পয়গম্বরকেই তো বরং খাদিজার অনুমতি নিয়ে ক্যারাভান চালিয়ে দূরের শহরে বাণিজ্য করতে যেতে হতো।
ইসলামের জন্মভূমিতে সেক্সশপ আসছে। ডিসকো খোলা হচ্ছে। মেয়েরা নিতম্ব দুলিয়ে নাচবে, আর পুরুষেরা টাকা ছুঁড়ে ছুঁড়ে দেবে। তাই তো করে এরা। যতই খ্যামটা নাচ নাচুক, বোরখা না-পরার অধিকার কিন্তু কোনও মেয়েই পাবে না। মেয়েরা আদৌ তাদের পূর্ণ স্বাধীনতা ওই ভূমিতে পাবে বলে আমার মনে হয় না। ধর্ম বেচে ওরা যতদিন খাবে, ততদিন নারীর অধিকার নৈব নৈব চ।

ঘোড়েল মোল্লা মুন্সিদের দেখে মাঝে মাঝে মনে হয় ওদের ভেতরে লুকিয়ে আছে এক এক জন পয়গম্বর। ঘুমিয়ে আছে মুসলিমের পিতা সব মুসলিমেরই অন্তরে। সব না হলেও অধিকাংশ মুসলিমের অন্তরে তো অবশ্যই। তা না হলে মেয়েরা আজও সমানাধিকার পায় না কেন?’
পাঠক, তসলিমাদের লেখা দেখলে কোরআনের সেই আয়াতখানা চোখের উপরে ভাসে। ছুম্মুন বুকমুন উময়ুন ফাহুম লা য়ারযিয়ুন। ওরা মূর্খ, বধির ও অন্ধ। ওরা সত্যের পথে ফিরে আসবে না। সুরা বাকারা : ১৮

হ্যাঁ, বাস্তবতাই তাই বলছে।তা না হলে এমন ঞ্জাণ পাপীরা কি ভাবে রাসুলের খবর রেখেও সঠিক পথ খুঁজে পাননা।তবুও প্রার্থনা করি ওদের সহীহ বুঝ দান করুক।আমীন।

মতামত দিন

Post Author: newsdesk

A thousand enemies is not enough; a single enemy is. There is nothing as a ‘harmless’ enemy.