স্বাস্থবিধি মেনে প্রতিবছরের ন্যায় এবার ও অনুষ্ঠিত হচ্ছে অমর একুশে গ্রন্থমেলা।

0
128

মোঃ সোয়েব সরকার, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি;

বাংলা ও বাঙালি জাতির প্রাণের উৎসব অমর একুশে গ্রন্থ মেলা। এই মেলার ইতিহাস স্বাধীন বাংলাদেশের মতোই প্রাচীন। যতদূর জানা যায়, ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দের ৮ ফেব্রুয়ারি তারিখে চিত্তরঞ্জন সাহা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বর্ধমান হাউজ প্রাঙ্গণে বটতলায় এক টুকরো চটের ওপর কলকাতা থেকে আনা ৩২টি বই সাজিয়ে বইমেলার গোড়াপত্তন করেন। সেখান থেকেই বর্তমানের অমর একুশে গ্রন্থমেলার সূচনা হয়। সেই ৩২টি বইয়ের ক্ষুদ্র মেলা কালানুক্রমে বাঙালির সবচেয়ে স্বনামধন্য বইমেলায় পরিণত হয়েছে। বাংলা একাডেমী চত্বরে স্থান সংকুলান না-হওয়ায় ২০১৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে বইমেলা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

বেশ কয়েক বছর পূর্বে প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিন থেকে ২১শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গ্রন্থমেলা নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হতো। এরপর ক্রেতা, দর্শক ও বিক্রেতাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ফেব্রুয়ারির শেষ দিন অবধি এই মেলা বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়।

মেলা চলাকালীন প্রতিদিনই মেলাতে বিভিন্ন আলোচনা সভা, কবিতা পাঠের আসর বসে; প্রতি সন্ধ্যায় থাকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়া মেলাতে লেখককুঞ্জ রয়েছে, যেখানে লেখকেরা উপস্থিত থাকেন এবং তাঁদের বইয়ের ব্যাপারে পাঠক ও দর্শকদের সাথে মতবিনিময় করেন।

এমন প্রাচীন একটি উৎসব বাঙালি জাতির প্রাণের সাথে মিলে-মিসে এক হয়ে গিয়েছে। লেখকদের লেখর পেছনে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা পাঠকের ভালোবাসা।

করোনা মহামারির উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাঙালির প্রাণের উৎসব ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০২১’ স্টল বসিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। ভার্চুয়ালি মেলার আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলা একাডেমি গত শুক্রবার এমন ঘোষণার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও কবি-সাহিত্যকদের মাঝে দেখক দিয়েছিল মতানৈক্য।

এ নিয়ে আজ রবিবার সকাল ১০ ঘটিকায় বাংলা একাডেমির মেলা পরিচালনা কর্তৃপক্ষের সাথে প্রকাশকদের আলোচনা সভায় বসেন। আলোচনা শেষে জানা যায় প্রতিবছরের ন্যায় এবার ও স্বাস্থবিধি মেনে ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০২১’ স্টল বসিয়ে অনুষ্ঠিত হবে।

প্রতি বছরের ন্যায় এবার ও স্টল বসিয়ে বই মেলার আয়োজন করা হবে এমন খবর লেখক ও পাঠক এর মনে নিয়ে এল এক আনন্দ বার্তা।
প্রতি বছর অমর একুশে বই মেলাতে একজন লেখক তার বই এবং বইয়ের বানী পাঠকের মাঝে যেভাবে ছড়িয়ে দেয়। এবার ও পাঠকের সাথে ভালোবাসা বিনিময় করতে পারবে এমন ভেবে লেখক মনে তৈরি হয়েছে এক অন্য রকম অনুভুতি।

কথাসাহিত্যিক ফয়সাল আহমেদ এর সাথে কথা বললে তিনি জানান,প্রতিবারে ন্যায় এবার ও হই নিয়ে পাঠকের মাঝে যেতে পারব এর চেয়ে ভালো খবর আর হতে পারে না। পাঠকের ভালোবাসায় লেখার অনুপ্রেরণার মূল।
এ সময়ের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ও কবি তকিব তৌফিক এই বিষয়ে জানান,

গ্রন্থমেলা একটা উচ্ছ্বাসের ভিড়। এখানে বহু মানুষের স্বপ্ন, আকাঙ্খা আর শ্রমের প্রতিদান জড়িয়ে থাকে। যখনই শুনলাম ভার্চুয়াল বইমেলা হবে, তখন বারবার ভাবলাম, আসলে ভার্চুয়াল বইমেলা কী?

‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’কে অবজ্ঞা কিংবা অবমাননা করবার জন্য নতুন কোনো বাক্য না তো! হ্যাঁ তা’ই ছিল। ভার্চুয়াল বইমেলা সারাবছর চলে। অনলাইন বুকশপগুলো এতে দুর্দান্ত অবদান রাখে। কিন্তু মাঠপর্যায়ের বইমেলার আনন্দ উচ্ছ্বাস কি এতে আছে নাকি ছিল কখনো? নেই।

করোনার প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। এই সময়ে অনেককিছুই বন্ধ রাখা উচিত। কিন্তু রাখা হচ্ছে না। শুধু বইমেলা কেনো হবে না? যুক্তিতর্ক অনেক আসে, করাও যায়। কিন্তু আইন যা হবে সেটা সার্বজনীন হতে হবে। সব যদি বিধিনিষেধ মেনে চালিয়ে নেয়া যায় বইমেলাও সম্ভব।

বইমেলা হবে, এমন ব্যাপারটা জানার পর একজন পাঠকের জায়গা থেকে এবং একজন লেখকের জায়গা থেকে; দুই সত্তা থেকেই আনন্দ।

বই নিয়ে কথা হোক।