স্পেনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও কর্মহীনদের পাশে বাংলাদেশিরা

0
394

কবির আল মাহমুদ, স্পেন :

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে মহামারি করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত পুরো স্পেনে।কোভিড-১৯ মহামারিতে স্পেন বর্তমানে পৃথিবীর ২য় সর্বোচ্চ আক্রান্ত দেশ। দেশটি গত এক মাসের অধিক সময়ে এই মহামারির বিরুদ্ধে যাচ্ছে। সঙ্কটের শুরুতে মহামারি মোকাবিলায় গণস্বাস্থ্য বিভাগ বেশামাল অবস্থায় পড়লেও এখন কিছুটা সামলে ওঠেছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সঙ্কটের সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অর্থনৈতিক সঙ্কট।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, করোনা মহামারির সাথে স্পেনের অর্থনীতিও এখন ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে আছে বা আইসিউতে আছে। স্পেনের মধ্যেই করোনা মহামারি প্রতিরোধে দেশটির জিডিপি (বাৎসরিক রাজস্ব) আয়ের শতকরা ১০ শতাংশ খরচ করে ফেলেছে। মোট পরিমাণ প্রায় ১ লক্ষ ২৮ হাজার ২৮৮ মিলিয়ন ইউরো। মাদ্রিদের পরে সবচে বেশি আক্রান্ত প্রদেশ কাতালোনিয়ার রাজধানী বার্সেলোনা করোনা ঠেকাতে ২০০ মিলিয়ন ইউরো খরচ করেছে বলে জানিয়েছেন মেয়র আদা কোলাও।

স্পেনের কনফেডারেশন অব বিজনেস অর্গানাইজেশনের প্রেসিডেন্ট আন্তনিয়ো গারামানদি জানিয়েছেন, করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালে জিডিপি ৯ শতাংশের নিচে নেমে আসবে।

এ অবস্থায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা থাকা-খাওয়ার ব্যয় নির্বাহ নিয়ে পড়েছেন দুশ্চিন্তায়। এরই মধ্যে এরই মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে রাজধানী মাদ্রিদে বাংলাদেশি দুইজন এবং বার্সেলোনায় একজনসহ ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ১২৫ জন বাংলাদেশি করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় বাংলাদেশি কমিউনিটিতে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা।
সাম্প্রতিক সময়ে ‘রেড জোন’এর ফলে এদের অধিকাংশই আয়-রোজগার বঞ্চিত হয়ে সপরিবারে দুর্বিষহ দিন যাপন করছে। স্থানীয় কমিউনিটি

নেতৃবৃন্দের সহযোগিতায় মানবাধিকার সংগঠন ভাল্লিয়েন্তে বাংলা ও বাংলাদেশ এসোসিয়েশন ইন স্পেনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশি সামাজিক সংগঠন গুলো এগিয়ে এসেছে। তারা আয় রোজগার বঞ্চিত তথা কাগজপত্রবিহীন অবৈধভাবে স্পেনে আছেন তাদের সহযোগিতায় একটি প্রকল্প কাজ শুরু করেছে। এই প্রকল্পের আওতায় যারা কর্মহীন বা খাদ্য সংকটে রয়েছে, তাদের জন্য প্রয়জনীয় খাবারের ব্যাবস্থা করা হচ্ছে। তাছাড়া যে কোনো দুর্দশাগ্রস্থ প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ও প্রকল্পটি কাজ কাজ করে যাচ্ছে। এরই মধ্যে প্রায় ২ হাজার অসহায় ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে চাল, ডাল, তেলসহ অতি প্রয়োজনীয় খাবার সরবরাহের কার্যক্রম শুরু করেছে। এই প্রকল্পটি ধারাবাহিকভাবে পরিচালনার জন্য যে সংগঠন বা ব্যাক্তিগতভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে মানবতার সেবায় এগিয়ে আসার জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ। যে কেউ ব্যাক্তিগতভাবে ও সহযোগিতা গ্রহণ ও প্রদানের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন। বাংলাদেশ মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি খোরশেদ আলম মজুমদার, বাংলাদেশ আসোসিয়েশন ইন স্পেনের সাবেক সভাপতি আল মামুন, বাংলাদেশ আসোসিয়েশন ইন স্পেনের বর্তমান সভাপতি কাজী এনায়েতুল করিম তারেক, সিনিয়র সহ সভাপতি আলামীন মিয়া, সাধারন সম্পাদক কামরুজ্জামান সুন্দর, গ্রেটার ঢাকা আসোসিয়েশন ইন স্পেনের সভাপতি এম এইচ সোহেল ভূঁইয়া, ভাল্লিয়েন্তে বাংলার সভাপতি মোহাম্মদ ফজলে এলাহী, ঢাকা জেলা আসোসিয়েশন ইন স্পেনের সাধারন সম্পাদক মাসুদ রহমান, ব্যাবসায়ী আব্দুল কায়ূম মাসুক এর মধ্যে যে কারো কাছে তালিকা বা অনুদান প্রদানের আহবান করা হয়েছে।
বাংলাদেশ দূতাবাসও ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। ইতিমধ্যে দূতাবাস ৩ শত অসহায় ব্যক্তির নাম ও সংগ্রহ করছে। শিগ্রই তা সরবরাহ করা হবে বলে জানান দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মুহাম্মদ মুহতাসিমুল ইসলাম।

এদিকে রাজধানী মাদ্রিদের পর দ্বিতীয় সর্বচ্চো বাংলাদেশিদের বসবাস পর্যটন নগরী বার্সেলোনায় করোনা মহামারিতে আক্রান্ত বাংলাদেশিদের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী বাংলাদেশিরা। তাদের পক্ষ থেকে আক্রান্তদের জন্য সেল্ফ আসোলেশনের ব্যবস্থা ও রোগীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়াও তারা হাসপাতালে দায়িত্ব পালনরত চিকিৎসক ও সেবিকাদের জন্যও স্ব উদ্যোগে খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা করছেন। স্পেনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রায় ১২৫ জন বাংলাদেশির মধ্যে একতৃতীয়াংশের বেশি বার্সেলেনায়।

শহরের কেন্দ্রে ও সান্তাকলমায় আক্রান্ত বহু বাংলাদেশিদের করোনা পজিটিভ হওয়ার পরও শারীরিক অবস্থা ভেদে বা সংক্রমনের প্রাথমিক অবস্থার কারণে ডাক্তার হাসপাতালে ভর্তি না রেখে আবাসস্থলে (বাসায়) আইসোলোশনে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। এদের অনেকে কাগজ ছাড়া অবৈধভাবে স্পেনে আছেন। আবার অনেকে ফ্যামিলি বাংলাদেশে রেখে এখানে ব্যাসেলর হিসেবে আছেন। তাদের দেখাশোনা করার কেউ নেই।
এসব আক্রান্তরা বাসার অন্যান্য সদস্যের নিরাপত্তার ঝুঁকির জন্য বাসায় ঘরে থাকতে পারছেন না। এসব আক্রান্ত বাংলাদেশিদের জন্যই স্বেচ্ছাসেবক দল নিজস্ব উদ্যোগে এই সেল্ফ আইসোলেশনের ব্যবস্থা করেছে। দলটি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে এই সহযোগিতার ঘোষণা প্রচার করছে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বার্সেলোনায় বা সান্তাকলমায় কোনো বাংলাদেশির সেল্ফ আইসোলেশন দরকার হলে +34 632 22 14 48, +34 654 93 04 31, +34 645 03 36 87 নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করলে সহযোগিতা করা হবে। এই কার্যক্রমকে সফল করতে আমাদের কিছু স্বেচ্ছাসেবক প্রয়োজন। যারা প্রবাসীদের আপদকালে এই সহযোগিতায় সংযুক্ত হয়ে স্বেচ্ছাশ্রম দিতে চান, তারা যেন এই নম্বরে যোগাযোগ করেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে