‘সোশ্যাল মিডিয়ার সব কনটেন্ট সরানোর সক্ষমতা বিটিআরসির নেই’

71


সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে সব কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার সক্ষমতা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) নেই। ফেসবুক ও ইউটিউবকে অনুরোধ জানানো হলেও সব কন্টেন্ট তারা সরায় না। কোনো কনটেন্ট কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড অমান্য না করলে রিপোর্ট করা সত্ত্বেও তা থেকে যায়।

সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিটিআরসি কার্যালয়ে ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, কনটেন্ট ও আনুষাঙ্গিক বিষয়াবলী’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার কনটেন্ট অপসারণের ক্ষমতা বিটিআরসির নেই। বিটিআরসি কেবল টেলকো অপারেটর ও আইএসপিগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

তিনি বলেন, আপত্তিকর ওয়েবসাইটগুলো বিটিআরসি বাংলাদেশের সীমানায় বন্ধ করতে পারে। আমরা কাজ করছি। ইতোমধ্যেই ২২ হাজারের বেশি পর্ন-জুয়ার সাইট বন্ধ করেছি। লিংক পেলেই কাজে বসে যাই। বন্ধ করার চেষ্টা করি।

তিনি আরও বলেন, সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে আমরা এক রকমের অসহায়ত্ব বোধ করি। তারা তাদের মতো করে কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড বানায়, আমরা তাদের কৃপার ওপর নির্ভরশীল। সেটা আমাদের মেনে নিতে হবে। তবে আমরা আশ্বস্ত করতে পারি, ফেসবুকের সঙ্গে নিয়মিত কথাবার্তা হয়।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, যারা আইন-আদালতের কাছে যান তারা আমাদের অবস্থাটা বুঝবেন। বন্ধ বা কনটেন্ট সরানোর সক্ষমতা বিটিআরসির নেই। যে জায়গায় কাজ করার সক্ষমতা রাখি না, তার দায় আমাদের ওপর দিলে অবিচার হবে।

ভবিষ্যতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা ফেসবুক সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার। এতে ভাইরাল হওয়া নেতিবাচক কোনো লিংক বা কনটেন্ট দ্রুত অপসারণ করা যাবে। আর তা আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি বা মার্চ থেকেই সম্ভব হবে বলে জানান বিটিআরসি চেয়ারম্যান।

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয় কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘এটি আমাদের পক্ষে এই মুহূর্তে সম্ভব নয়। সেই ধরনের মনিটরিং সেল এখনো করা হয়নি। আমরা অবশ্যই ফিল করি এই ধরনের মনিটরিং সেল করার বিষয়ে।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, ইতোমধ্যে কিছু স্টেপ নিয়েছি। টেলিকমিনিকেশন মনিটরিং সিস্টেম আগামী ফেব্রুয়ারি মার্চের মধ্যে চালু করতে পারব। টেলিকমিউনিকেশনের মাধ্যমে যত ধরনের সেবা দেওয়া হয় সেগুলো নজরদারিতে রাখতে পারব। সেখান থেকে একটা অগ্রগতি আসবে।

তিনি বলেন, সাইবার সিকিউরিটি সেল ওপেন করতে যাচ্ছি। সেখানে কিছু ইন্সট্রুমেন্ট লাগবে। সেই জায়গায় আমরা যখন যাব তখন সার্বক্ষণিক মনিটরিং করতে পারব।

সাংবাদ সম্মেলনে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব আফজাল হোসেন ও বিটিআরসির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সারাবাংলা/ইএইচটি/এএম





Source link