সুপ্রিম কোর্টের রায়, বিয়ে না করে সহবাস করতে পারবেন তরুণ-তরুণী

প্রবাসী ডেস্কঃ আমাদের দেশের আইন অনুযায়ী একটি ছেলে বা মেয়ে বিয়ে না করে একসাথে থাকতে পারে না। বাইরের দেশে অবশ্য এই ঘটনা খুবই স্বাভাবিক, সেই দেশে সেটা আইনত সম্ভব।
বাইরের দেশে এটি একটি অতিসাধারণ ঘটনা, কিন্তু আমাদের দেশে এটা কেউ করতে চাইলে সমাজ ভ্রু কুঁচকায়। তাই আজও বেশিরভাগ ছেলেমেয়ে ই আমাদের দেশে লুকিয়ে প্রেম করে।
ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৫ নম্বর ধারা ব্যাখ্যা করে বলা হয়, কোন পরিস্থিতিতে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে তা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিশ্রুতি ভাঙা আর মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া এক নয়। তাই বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের পর বিয়ে করতে অস্বীকার করলেই কোনও ব্যক্তিকে অপরাধী গণ্য করা যাবে না। এ বিষয়ে আদালতের অবস্থান পরিষ্কার করল সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের ডিভিশন বেঞ্চ।

!-- Composite Start -->
Loading...

আইন অনুসারে, কোনও ব্যক্তি বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে সহবাস করলে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অপরাধ ধার্য্য হয়। আইনটিকে ব্যাখ্যা করে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, এ ধরনের মামলায় প্রতিটি ক্ষেত্রে কোনও ব্যক্তির প্রতিশ্রুতি মিথ্যা বলে ধরে নেওয়া যায় না। প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরে কোনও কারণে কোনও ব্যক্তি বিয়ে করতে অস্বীকার করতেই পারেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি ভবিষ্যতে প্রতারণার পরিকল্পনা নিয়েই মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে সহবাসের সম্মতি আদায় করে, তবেই সেটা অপরাধ। কিন্তু বিয়ের পরিকল্পনা নিয়েও পরে কোনও কারণে সেই প্রতিশ্রুতিতে অনড় থাকতে না পারলে সেটি অপরাধ নয়।
ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৫ নম্বর ধারা ব্যাখ্যা করে বলা হয়, কোন পরিস্থিতিতে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে তা গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগকারিণী কি শর্তে সম্মতি দিয়েছেন দুই পক্ষকে তারও প্রমাণ পেশ করতে হবে আদালতের কাছে। তার পরে পরিস্থিতি বিচার করেই সিদ্ধান্ত নেবে সুপ্রিম কোর্ট।

সিআরপিএফ-এর এক ডেপুটি কমান্ডান্টের বিরুদ্ধে চলা বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের মামলার শুনানিতে এমনটা জানায় শীর্ষ আদালত। আদালত জানায়, ৮-১০ বছর আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে অভিযোগকারিণীর সম্মতিতেই সহবাস হয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রতারণার উদ্দেশ্যেই প্রতিশ্রুতি প্রদানের কোনও প্রমাণ অভিযোগকারিণী দিতে পারেননি। তাই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিরপরাধ গণ্য করেন সুপ্রিম কোর্ট।



কিন্তু সেসব দিন আর রইলো না, এবার থেকে বিয়ে না করেও একসাথে থাকা, অর্থাৎ লিভ ইন করাকে সুপ্রিম কোর্ট সরাসরি মান্যতা দিয়ে দিল। হ্যাঁ, ঠিকই পড়ছেন,ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ৩৭৫ নং ধারাতে এই ঘটনাকে মান্যতা দিয়ে দিল।

গতবছর এই সংক্রান্ত একটা মামলা হয়েছিল, তারই রায়দানের সময় এই কথা বলেন প্রধান বিচারপতি।

সুপ্রিমকোর্ট জানিয়েছে যে, দুটি ছেলেমেয়ের মধ্যে মনের মিল থাকলেই, তারা একসাথে থাকতে পারবে।
এজন্য তাদের বিয়ের মতো সামাজিক প্রথার সম্মুখীন হতে হবে না। কোর্ট থেকে বলা হয়েছে যে দুটি প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে মেয়ে যদি তাদের নিজেদের ইচ্ছায় একে অপরের সাথে থাকতে, সহবাস করতে ইচ্ছুক থাকে তাহলে সমাজের অধিকার নেই সেটাকে বাধা দেওয়ায়।
আর তার জন্য বিবাহের পিড়িতে বসার ও প্রয়োজন নেই। দুটি প্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়ে একসাথে থাকলে যে তারা কোন অপরাধ করছে এমনটা মোটেই নয়।
কিন্তু সুপ্রিমকোর্ট জানিয়েছে যে, দুজনের মধ্যে ভালোবাসা আর সম্মতি থাকলেই তাদের আর কোন বাধার সম্মুখীন হওয়া উচিত নয়। ভালোবাসা থাকুক প্রকাশ্যে, সমাজের কোনরকম ভয় না করে।
তো মনে করা হচ্ছে যে সুপ্রিমকোর্ট এর রায়ের ফলে যেসব ছেলেমেয়ে রা লিভ ইন করতে আগ্রহী তারা খুবই খুশি। বিয়ে না করেই তারা এবার থেজে একসাথে থাকতে পারবে।
এই আইনকে বেশিরভাগ মানুষই সাধুবাদ জানিয়েছেন কারন উন্নত দেশগুলোতে এমন আইন আগে থেকেই আছে, তবে কিছু কিছু মানুষ চরম আপত্তি করছেন এরকম আইনকে।

মতামত দিন

Post Author: newsdesk

A thousand enemies is not enough; a single enemy is. There is nothing as a ‘harmless’ enemy.