সিলেট-সুনামগঞ্জকে দুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবি

24


স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: সিলেট ও সুনামগঞ্জকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করে দ্রুত পুনর্বাসন ও পর্যাপ্ত ত্রাণ সরবরাহের দাবি জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। জোটের পক্ষ থেকে পদ্মা সেতুর আড়ম্বরপূর্ণ উদ্বোধন অনুষ্ঠান স্থগিত করে ওই টাকা বন্যার্তদের ত্রাণ-পুনর্বাসনে ব্যয় করাসহ ৯ দফা দাবি জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুন) রাজধানীর পুরানা পল্টনে মুক্তি ভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জোটের সমন্বয়ক ও ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবদুস সাত্তার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাসদ সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, সিপিবি সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, ওয়ার্কার্স পার্টির (মার্কসাবদী) সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবীর জাহিদ, বাসদ (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, বাংলাদেশর সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের সভাপতি আব্দুল আলী।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বানভাসী সকল মানুষকে সেনা, নৌ, বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার-বোট দিয়ে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসতে হবে; আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত খাবার, শিশু খাদ্য, বিশুদ্ধ খাবার পানি ও ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। বন্যার পানি নেমে যাওার সময় থেকে পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত ও ত্রাণ-পুনর্বাসনে দুর্নীতি-দলীয়করণ বন্ধ করতে হবে। বন্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য সরকারের অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও বাঁধ-সড়ক নির্মাণ বন্ধ করতে হবে। পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টিকারী বাঁধ ও রাস্তা অপসারণ করতে হবে। সকল নদী-খাল-জলাশয় ভরাট ও দখল-দূষণ বন্ধ এবং নদী-খাল পরিকল্পিত ও আধুনিক পদ্ধতিতে খনন করতে হবে। পাহাড়-টিলা-বন ধ্বংস বন্ধ ও প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ রক্ষার মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন রুখে দাঁড়াতে হবে। সর্বোপরি ভারতের সাথে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অভিন্ন নদী সমস্যার সমাধান করার উদ্যোগ নিতে হবে।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, দেশের মানুষ প্রত্যক্ষ করল মানুষকে রক্ষায় সরকার, প্রশাসন ও আবহাওয়া দফতরের আগাম সতর্কবার্তা প্রেরণ, নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া, দুর্গত মানুষের জন্য খাদ্য, শিশু খাদ্য, পশু খাদ্য, খাবার পানি ইত্যাদি ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে চরম উদাসীন ও ব্যর্থ। মাত্র দুই সপ্তাহ আগেই যেখানে সুনামগঞ্জ ও সিলেটে প্রথমবার বন্যা হয়ে গেল তারপরও সরকার, প্রশাসন ও আবহাওয়া দপ্তরের এহেন দায়িত্বহীনতা ক্ষমার অযোগ্য। সরকারের দুর্নীতি, ভুলনীতি ও লুটপাটের অর্থনৈতিক দর্শনের কারণে দেশে প্রাকৃতিক দূর্যোগের ঝুঁকি বেড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

সারাবাংলা/এএইচএইচ/একেএম





Source link