সিলেট থেকে ‘বিদিশার নেতৃত্বাধীন জাপা’র যাত্রা শুরু শনিবার

85


আজমল হক হেলাল, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: আগে থেকেই জানিয়ে রেখেছিলেন, সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হতে যাচ্ছেন। জাতীয় পার্টির নেতৃত্বেও আসবেন, এমন ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন। এবারে সেই ইঙ্গিত আর ঘোষণা বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। জাতীয় পার্টি নেতৃত্বেই আসছেন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিকী। শনিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সিলেটে হজরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে শুরু করবেন এই যাত্রা। আর মাজার জিয়ারত শেষে গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবেই বিষয়টি জানাবেন বিদিশা।

শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে বিদিশা সারাবাংলাকে বলেন, জাতীয় পার্টিকে বাঁচাতে হবে। দলটি প্রায় শেষ। দলটিকে ‍পুনর্গঠন করতে হবে। এজন্য শনিবার সিলেট শাহজালাল (র.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে সেই আনুষ্ঠানিকতা শুরু করতে চাই।

শনিবার মাজার জিয়ারতের পর কী ধরনের ঘোষণা আসতে পারে— এ বিষয়ে এখনই মুখ খুলতে নারাজ বিদিশা। তিনি বলেন, আপাতত এই মুহূর্তে আর কিছু বলতে পারব না। সিলেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলব। সিলেট থেকে ঢাকায় ফেরার পরও আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলব।

জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতাদের একটি দল এরই মধ্যে সড়ক পথে সিলেটের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিদিশা। আর বিদিশা নিজে সিলেট যাচ্ছেন শনিবার সকালে, আকাশপথে। দলের কয়েকজন নেতা থাকবেন তার সঙ্গে। বিদিশা বলেন, শনিবার দুপুর ১২টা কিংবা ১টার সময় স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলব।

আরও পড়ুন-

সিলেট থেকে ‘বিদিশার নেতৃত্বাধীন জাপা’র যাত্রা শুরু শনিবার

জাতীয় পার্টির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, বিদিশার নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিতে থাকছেন পার্টির কয়েকজন সংসদ সদস্য ও শীর্ষ নেতা। এরশাদ পরিবারেরও সায় রয়েছে বিদিশার নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিতে। তবে কৌশলগত কারণে এই মুহূর্তে তাদের কেউ প্রকাশ্যেও আসছে না। তবে পর্দার আড়াল থেকে বিদিশাকে সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।

দলটির একজন নেতা তার নাম প্রকাশ না করার শর্তে সারাবাংলাকে বলেন, এরশাদের রেখে যাওয়া জাতীয় পার্টি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে গেছে। দলটিতে এখন চলতে পদ বাণিজ্য চলছে। জাতীয় নির্বাচন কবে হবে, তার ঠিক নেই। অথচ এখনই দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের গঠনতন্ত্রের তোয়াক্কা না করে অনেককেই মনোনয়ন দিয়ে দিচ্ছেন। আবার তা বাতিলও করেছেন। হয়তো তিনি গোপনে আরও অনেক পদক্ষেপ নিয়ে রেখেছেন। এগুলোর কোনোটিই গণতান্ত্রিক একটি দলের চর্চার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

দলের ওই নেতা আরও বলেন, জাতীয় পার্টিতে এখন গণতন্ত্রের চর্চা নেই। এখানে একনায়কতন্ত্র চলছে। জাতীয় পার্টিতে চেয়ারম্যানই একমাত্র নেতা। আর সবাই তার হুকুম-বরদার। কিন্তু এভাবে তো চলতে পারে না!

জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট সাবেক সেনাশাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে ঘুরেফিরে আলোচনায় এসেছেন এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিকী। তবে সুনির্দিষ্টভাবে গত ২৬ জুন জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘আমি কথা দিচ্ছি— শাদ-এরিককে সঙ্গে নিয়ে সারাদেশ লাঙ্গল দিয়ে চাষ করব।’ পরে ওই দিনই বিদিশা সারাবাংলা বলেন, ১৪ জুলাই তিনি চমক দেবেন। ওই দিনই রাজনীতি নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন।

স্বাভাবিকভাবেই ১৪ জুলাইয়ের দিকে দৃষ্টি ছিল অনেকের। ওই দিন বারিধারা প্রেসিডেন্ট পার্কে এরশাদের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক মিলাদ মাহফিল ছিল। সেখান থেকে এরশাদপুত্র এরিক এরশাদ ঘোষণা দেন, এখন থেকে রওশন এরশাদ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এবং বিদিশা সিদ্দিকী দলের কো-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

ওই ঘোষণার পর অবশ্য গত প্রায় দুই মাসে বিদিশা বা রওশন এরশাদের খুব একটা তৎপরতা দেখা যায়নি। এবারে জানা গেল, দেশের অন্য সব রাজনৈতিক নেতাদের রীতি মেনেই শনিবার সিলেট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতির মাঠে নামছেন বিদিশা।

সারাবাংলা/এএইচএইচ/টিআর





Source link