সিন্ডিকেটের কারণে চামড়া শিল্প ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে : ন্যাপ

0
61

গত বছরের মত এবারও চামড়া শিল্প রক্ষায় সরকার চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে সরকারের ভূলনীতির কারণে সিন্ডিকেট চামড়া শিল্পকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে দাড় করিয়েছে। চামড়া শিল্পকে ধ্বংসে দায়ি সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়ে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ।

বুধবার (৫ জুলাই) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে পার্টির চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া এ দাবী জানান।

তারা বলেন, ভারতের চামড়া শিল্পের বাজার বহুলাংশে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের চামড়ার উপর নির্ভরশীল। পাকিস্তান ভারতের সাথে ব্যবসায় বন্ধ করে দেয়ায়, এ বছর ভারতকে বাংলাদেশের চামড়ার উপর অধিক নির্ভরশীল হবার কথা। ফলে বাজার চাহিদানুযায়ী চামড়ার দাম ভালো পাওয়ার কথা। কিন্তু দুবছর যাবত ঘটেছে সম্পূর্ণ উল্টো। গত বছর কোরবানির পশুর চামড়ার দামের যে বিপর্যয় আমরা দেখেছি তার পরও সরকার এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য কোনো ধরনের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।

নেতৃদ্বয় বলেন, গত বছর চামড়ার মূল্য না পেয়ে অনেককে চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলতে দেখা গেছে। অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী চামড়া কিনে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করতে না পারায় সর্বস্বান্ত হয়েছেন। এর পেছনে কাজ করেছে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট। অথচ সরকার সেদিকে কোনো নজর দেয় নাই্, তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাও গ্রহন করে নাই।

তারা বলেন, একসময় ৫০০ টাকায় একটি ভালোমানের দেশী চামড়ার জুতা পাওয়া যেত, তখন কোরবানির গরুর চামড়া ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হতো। এখন ভালো মানের চামড়ার দেশি জুতা ৭-৮ হাজার টাকার নিচে পাওয়া যায় না। কিন্তু এখন গরুর চামড়া ২০-২০০ টাকায় নেমে এসেছে। এতে অনেকেই ক্ষুব্ধ হয়ে চামড়া পুঁতে, পুড়িয়ে বা নদীতে ফেলে দিয়েছেন। এই প্রবণতা জনপ্রিয় হলে কার কী হবে জানি না, তবে বাংলাদেশের চামড়া শিল্প ধ্বংস হবে এবং বিদেশী কোম্পানির পোয়াবারো।

নেতৃদ্বয় বলেন, চামড়া শিল্প দেশের অর্থনীতির সাফল্যগাথায় স্বীকৃত হতো একসময়। সেই স্বীকৃতির বড় কারণ ছিল কোরবানির পশু হতে প্রাপ্ত চামড়া। মূলত পাট এবং চামড়া শিল্পের ওপর ভিত্তি করেই আমাদের শিল্পভিত্তিক অর্থনীতির গোড়াপত্তন। পাটের কথা আজ ইতিহাস। পাটকলগুলোর যন্ত্রপাতি যখন লুট হয়ে গেলো, চালু করা গেল না বন্ধ পাটকলগুলো। উল্টো বন্ধ হতে লাগলো বাকিসব। তখন থেকেই পাটের মরণদশা শুরু। এখন তো পাট শিল্প সমাহিত। কোরবানির পশুর চামড়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানুষ মাদ্রাসায় দান করেন বা মাদ্রাসায় বেঁচে দেন। আর এই দান বা বেঁচে দেয়ার কারণ হলো মাদ্রাসাগুলোর এতিমখানা। যে এতিমদের দেখার কেউ নেই, মাদ্রাসার এতিমখানাই তাদের ভরসা। এতিম আমরাও যাদের বাবা কিংবা বাবা-মা দুজনেই গত হয়েছেন। কিন্তু মাদ্রাসার এতিমগুলোর খেয়ে পড়ে বাঁচার অবলম্বনই অন্যের দান-ধ্যান, আর কোরবানির পশুর চামড়া।

ন্যাপ নেতৃদ্বয় আরো বলেন, এ বছরও চামড়ার নির্ধারিত মূল্যের অর্ধেকেরও কম দামে, কোথাও কোথাও নামমাত্র মূল্যে বিক্রি হয়েছে। এমনকি এবারও অনেকে চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলেছেন। এ চামড়ার টাকার সম্পূর্ণ হক দেশের গরিব মানুষ। করোনা এবং বন্যায় বিপর্যস্ত দেশের নিম্নবিত্ত মানুষের কোনো দায়িত্ব নিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। তার ওপর সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কোরবানির পশুর চামড়া থেকেও গরিব মানুষের হক নষ্ট করা হয়েছে।

মতামত

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে