সিডিএর ঘাড়ে দায় চাপালেন মেয়র

73


স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদে নালায় পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) ওপর দায় চাপিয়েছেন সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী। মেয়র বলেছেন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে সিডিএ’র অবহেলা ও অসতর্কতার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর আগ্রাবাদে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী।

এর আগে সোমবার রাত ১০টার দিকে নগরীর ডবলমুরিং থানার আগ্রাবাদ শেখ মুজিব সড়কে জেক্স মার্কেটের সামনে নালায় পড়ে নিখোঁজ হন সেহেরীন মাহবুব সাদিয়া (১৯)। তিনি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রামের কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। বাসা নগরীর হালিশহর থানার বড়পোল এলাকায়। চার ঘণ্টা চেষ্টার পর রাত ৩টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সদস্যরা নালা থেকে সেহেরীনের লাশ উদ্ধার করেন।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। এসময় চসিকের কর্মকর্তাদের নিয়ে তিনি পুরো এলাকা ঘুরে দেখেন। দুর্ঘটনাস্থলে ফুটপাত সংলগ্ন নালায় স্ল্যাব ও ঘেরা না থাকায় মেয়র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এরপর তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।

দুর্ঘটনার জন্য কে দায়ী- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, ‘দায়ী কারা এটা বলব না। আপনারা জানেন, এখানে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ চলছে। রাস্তায় গর্ত হয়েছে। ফুটপাতের ওপর কাদা জমেছে। বৃষ্টির পর সেই কাদা পিচ্ছিল হয়ে গিয়েছিল। কাদার ওপর পা পড়ার পর পিছলে মেয়েটি নালায় পড়ে গেছে বলে আমি শুনেছি। এখানে যারা প্রকল্পের কাজ করছে, তাদের সতর্ক হওয়া দরকার ছিল। পানিতে রাস্তা এবং নালা এক হয়ে গেছে, মানুষ বুঝবে কিভাবে? খুঁটি গেড়ে লাল পতাকা টানিয়ে দিলেও তো মানুষ সতর্ক হতে পারত। কিছুটা অবহেলা আছে। অবশ্যই আছে। যারা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ করছে তাদের অবহেলা আছে।’

ফুটপাতে স্ল্যাব ও রেলিং দেওয়ার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের- স্মরণ করিয়ে দিলে মেয়র বলেন, ‘আপনাদের অবগত করার জন্য বলছি, দেওয়ানহাট থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের যে কাজ চলছে, এগুলো সিটি করপোরেশনের আওতায় নেই এখন। এটার মেইনট্যানেন্স থেকে শুরু করে সমস্তকিছু চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। এখানে বড় বড় গর্ত হয়েছে, আমি কয়েকদিন আগেও সিডিএ’র চেয়ারম্যানকে টেলিফোন করে অনুরোধ করেছি। তারপর থেকে উনার নির্দেশে গর্তে কিছু ভাঙা ইট দেওয়া হয়েছে। সুতরাং আমি মনে করি, অবহেলা ও অসতর্কতার জন্য এই দুর্ঘটনাটা ঘটেছে।’

নালা ময়লা-আবর্জনায় পরিপূর্ণ থাকার তথ্য দিলে তিনি বলেন, ‘ড্রেন ময়লায় ভর্তি ছিল, এটা সত্য। যেহেতু কাজ চলছে, সমস্ত ময়লা তো ওখানে গিয়ে পড়ছে। এখানে মেইনটেন্যান্সের সব দায়িত্ব তো সিডিএর। ড্রেনে ময়লা আছে, কিন্তু ড্রেনের পাশে ঘেরা ছিল না, রেলিং ছিল না, সেগুলো থাকলে তো এই দুর্ঘটনাটা ঘটত না। এতবড় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ চলছে, ময়লা পড়বেই এখানে। কিন্তু আমাদের রেলিং ছিল, স্ল্যাবও ছিল, এগুলো তো সব কাজ করতে গিয়ে নষ্ট করে ফেলেছে।’

পাল্টাপাল্টি দোষারোপে এভাবেই চলবে কি না- জানতে চাইলে মেয়র বলেন, ‘এভাবে চলতে থাকবে- এটা বলা ঠিক না। আমার কথা হচ্ছে, কাজ করতে গেলে… আমরা উন্নয়নের কাজ করব। কিন্তু জনগণের নিরাপত্তাটা যাতে থাকে, সেদিকে লক্ষ্য রাখা। আমি আহ্বান জানাব, যে সেবা সংস্থাই কাজ করুক না কেন, রাস্তায় একটা গর্ত করলেও যেন ঘেরা দেওয়া হয়। বিদেশে একটা ছোট রাস্তা করতে গেলে গর্ত হলেও ঘেরা দেওয়া হয়। কিন্তু আমাদের এখানে সেটা দেখি না।’

জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়িত্ব তাহলে কার- এ প্রশ্নের জবাবে মেয়র রেজাউল কলেন, ‘সিটি করপোরেশনের যেখানে কাজ চলে, আমারটা আমি বলতে পারি, আমি নিশ্চিত করব। প্রথমে মানুষের জীবন। মানুষের জন্যই তো উন্নয়ন। মানুষের জীবন রক্ষা করতে না পারলে উন্নয়ন কিভাবে হবে ?’

উল্লেখ্য, তিন হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম নগরীর লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত বিমানবন্দর পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটারে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে অর্থাৎ উড়াল সড়ক নির্মাণ করছে সিডিএ। এজন্য দেওয়ানহাট থেকে আগ্রাবাদ হয়ে বারিক বিল্ডিংয়ের মোড় পর্যন্ত রাস্তার মাঝখানে ঘেরা দিয়ে পাইলিংয়ের কাজ করা হচ্ছে। নির্মাণকাজের কারণে একদিকে রাস্তা সংকুচিত হয়েছে, আবার সেই রাস্তায় তৈরি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ। সেই গর্তে পানি জমে সড়ক-ফুটপাত কাদা-পানিতে একাকার হয়ে আছে বিভিন্ন এলাকায়।

সারাবাংলা/আরডি/এনএস





Source link