সিআরবি আন্দোলনে ক্ষুব্ধ রেলমন্ত্রী বললেন, ‘চাপিয়ে দেওয়া হবে না’

134


স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলন নিয়ে মৃদু ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। তিনি হাসপাতাল নির্মাণের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে উল্লেখ করে বলেন, ‘চট্টগ্রামের মানুষ যদি কোনো স্থাপনা না চান, জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হবে না।’

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন পরিদর্শনে এসে শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে পৌঁছানোর পর রেলমন্ত্রী উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন।

সিআরবির আন্দোলন প্রসঙ্গে রেলমন্ত্রী বলেন, ‘আন্দোলন হচ্ছে, পত্রপত্রিকায় যা দেখছি, এতটা করার কোনো অর্থ নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবসময় জনগণের কল্যাণে কাজ করেন। এখন চট্টগ্রামের মানুষ যদি কোনো স্থাপনা না চান, তাহলে জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হবে না। তবে এখানে তথ্যগত কোনো ভুল আছে কি না, সেটা একটু খতিয়ে দেখা দরকার আছে। যে অভিযোগে আন্দোলন হচ্ছে, তার ভিত্তি কতটুকু সেটা যাচাইবাছাই করার জন্য তো সময় দিতে হবে।’

ক্ষুব্ধ কণ্ঠে রেলমন্ত্রী বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে… কয়েকদিন আগে মাত্র আমরা একটা অভিযোগ পেয়েছি। অথচ আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে। পত্রপত্রিকায়, টেলিভিশনে দেখছি। কিন্তু কি নিয়ে আন্দোলন…আমাকে, এখানে আমাদের জিএম আছেন, ডিজি আছেন, সচিব এমনকি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পর্যন্ত কোনো অভিযোগ করা হয়নি। অথচ আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে। অভিযোগ দেওয়ার পর যদি জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তখন না হয় আন্দোলনের প্রশ্ন আসবে। আমি তর্ক-বিতর্কে যেতে চাই না। কিন্তু আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ পাইনি। এখন বোধহয় একটা অভিযোগ দিয়েছে, সেটা আমরা খতিয়ে দেখব।’

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বকে উৎসাহিত করা সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে মন্ত্রী সুজন বলেন, ‘সরকারের সিদ্ধান্ত হচ্ছে, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশীপকে উৎসাহিত করা। সরকারের যত প্রকল্প আছে তার ৩০ শতাংশ পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে করা যায়। স্থানীয় ও বৈদাশিক বিনিয়োগকে সরকার উৎসাহিত করছে। তারই আলোকে সিআরবিতে হাসপাতাল হচ্ছে।’

‘চুক্তি হয়েছে, প্রকল্প তৈরি হয়েছে, যাচাইবাছাই হয়েছে, তখন কেউ আপত্তি তোলেনি। এটা ২০১৪ সালে হয়েছে। তখন কেউ কোনো আপত্তি করেনি। এখন যখন বাস্তবায়নের পর্যায়ে এসেছে, তখন আপত্তি করছে। এখন আপত্তি কিসে সেটা আগে আমাদের যাচাইবাছাই করে দেখতে হবে। একশ্রেণির মানুষ আছে, যাদের কোনো কাজই ভালো লাগে না। বিদ্যুৎ নিয়ে কত আন্দোলন হয়েছে, এখন হাসপাতাল নিয়ে হচ্ছে। তারপরও আমরা বলছি যে, আমরা খতিয়ে দেখব। এরপর আমাদের সর্বোচ্চ অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী তো আছেন’, যোগ করেন রেলমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, সরকারি-বেসরকারি যৌথ অংশীদারিত্বের আওতায় সিআরবিতে হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং ইনস্টিটিউট বাস্তবায়ন ও পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ কোম্পানি লিমিটেড। ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে এই প্রকল্পের জন্য। প্রকল্পের মেয়াদ ১২ বছর।

দুই বছর আগে প্রকল্পটি অনুমোদনের বিষয়টি প্রকাশ পেলে চট্টগ্রামে বিভিন্ন নাগরিক ও পেশাজীবী সংগঠন আন্দোলনে নেমেছিল। গত জুলাইয়ে গণমাধ্যমে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাসপাতাল নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়টি উঠে এলে আবারও সোচ্চার হন চট্টগ্রামের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন এবং চট্টগ্রামের ১৭ জন বিশিষ্ট নাগরিক বিবৃতি দিয়ে সিআরবির প্রাণ-প্রকৃতি ধ্বংসের এই প্রক্রিয়া রুখে দাঁড়ানোর আহআন জানালে রাস্তায় নামে মানুষ। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে সিআরবি এলাকায় নানা ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন হচ্ছে।

চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আসার আগে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন কক্সবাজার রেললাইনের কাজ পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে সাতকানিয়া উপজেলার হাইওয়ে ক্রসিং এলাকায় প্রকল্প নির্মাণ কাজ, সাঙ্গু নদীর উপর নির্মাণাধীন রেলওয়ের সেতুর গার্ডার এবং দোহাজারী স্টেশনের কাজ পরিদর্শন করেন।

মিয়ানমার অনুমতি না দেওয়ায় ঘুমধুম পর্যন্ত রেললাইন না হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘আগে ঘুমধুম পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নাকি কক্সবাজার পর্যন্ত, আমি এতদূর থেকে আসলাম, কক্সবাজার রেললাইন পরিদর্শন করলাম, এসব নিয়ে প্রশ্ন করছেন না। পজেটিভ নিউজ করেন, নেগেটিভ নিউজ করা ভালো না।’

রেলমন্ত্রীর সফরসূচিতে শুক্রবার দুপুরে সিআরবিতে রেলওয়ের রেস্টহাউসে ওঠার কথা থাকলেও নুরুল ইসলাম সুজন চলে যান সার্কিট হাউসে। সিআরবিতে প্রতিদিনের মতো শুক্রবারও কয়েক হাজার মানুষ জমায়েত হয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন হাসপাতালের বিরুদ্ধে।

সারাবাংলা/আরডি/এমও





Source link