“সালামির টাকা পুঁজি করে সফল ব্যবসায়ী!! অনুপ্রেরণার আরেক নাম সুবাহ শানিন “

129


 

আজ বলবো ২১/২২ বছর বয়সী উদ্যোমী এক তরুণীর গল্প। আমি নিশ্চিত, গল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত, তার ডেডিকেশন লেভেল আপনাকে মুহূর্তে মুহূর্তে হতবিম্ব করে তুলবে।

বলছিলাম কাজী সুবাহ শানিন এর কথা। সুবাহ বর্তমানে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ ডিপার্টমেন্টে ৩য় বর্ষে পড়াশোনা করছেন। 

এছাড়া  ভলেন্টারি অর্গানাইজেশন- Evolution360 এ অ্যাসিস্ট্যান্ট হেড অফ ম্যানাজমেন্ট এবং online educational platform, learn and grow তে হেড অফ ম্যানাজমেন্ট  হিসেবে দায়িত্বরত আছেন।

এই এতগুলো পরিচয় এর পরও তার আরো একটি পরিচয় আছে। সেটি হলো সুবাহ একটি অনলাইন জুয়েলারি শপ Subah’s Ship এর প্রতিষ্ঠাতা। আর আজকের ব্লগের আলোচ্য বিষয় মূলত Subah’s Ship এর পুরো জার্নি এবং তার সফলতা নিয়েই।

আপনাকে যদি প্রশ্ন করা হয়, একটি ব্যবসা সফল করার জন্য কোন জিনিসগুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ??  আপনার মাথায় সবার প্রথমে যে জিনিসগুলো মাথায় আসবে তা হলো,”প্রচন্ড ইচ্ছাশক্তি, ধৈর্য এবং আত্মবিশ্বাস” Subah’s Ship এর প্রতিষ্ঠাতা কাজী সুবাহ শানিন এর যে, এই তিনটি গুণের কোনটির ই কমতি নেই, তা আপনি subah’s Ship এর শুরুর গল্পটা শুনলেই উপলব্ধি করতে পারবেন।

সুবাহ শানিন এর ব্যবসার পুঁজি ছিলো মূলত তার ঈদের জমানো সালামির টাকা। শুনতে খুব অবাক লাগলেও ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে, সেই সামান্য পুঁজি নিয়েই তার ব্যবসার হাতেখড়ি।  সবসময় নিজে কিছু করার ইচ্ছা থেকেই তার ব্যবসার দুনিয়ায় পা রাখা। 

যে ধরনের প্রোডাক্ট সেল করে থাকেন:

Subah’s Ship মূলত একটি জুয়েলারি শপ। আপনি তার পেজে ঢুকা মাত্রই দেখতে পারবেন হরেক রকমের অসম্ভব সুন্দর জুয়েলারি ছবি। রয়েছে রুচিসম্মত কারুকার্যযুক্ত কানের দুল, হাতের আংটি,  মালা, চুড়ি। তিনি তার সকল পণ্য ইন্ডিয়া থেকে আমদানি করে থাকেন।

সফলতা:

তার সফলতার কথা যদি বলতে চাই, তাহলে বলব, ” তিন বছরের এই অল্প সময়ে Subah’s Ship অনলাইন পেজের ফলোয়ার প্রায় ৩৫ হাজারের কাছাকাছি। এছাড়া তাদের সেবায় গ্রাহকরাও বেশ সন্তুষ্ট বলে জানা যায়।”

আপনি যদি তাদের পেজের রিভিউস এ যান, তাহলেই উপলব্ধি করতে পারবেন তাদের সার্ভিস ঠিক কতটা উন্নত মানের। গ্রাহকদের অজস্র প্রশংসায় ভরপুর পেজটি। এবং রেটিংস ও ফাইভ আউট অফ ফাইভ।

তার ব্যবসা সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানার জন্য YSSE এর পক্ষ থেকে আমরা সুবাহ শানিনের সাথে একটি সাক্ষাৎকারের আয়োজন করেছিলাম। কথপোকথনের এক পর্যায়ে, ব্যবসায় পা রাখার পর, প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করা হলে, তিনি জানান, ” ২০১৮ সালে, সদ্য এইচএসসি পরীক্ষা শেষ করেছি আমি, সেই সময় সখের বসেই ব্যবসাতে পা রাখা। বয়স এবং অভিজ্ঞতা দুটোই কম থাকার কারণে, অনেক সময়ই ভুল করে বসতাম। এছাড়া পণ্য ডেলিভারির একটা ঝামেলা তো লেগেই থাকে। কুরিয়ার করার পর মাঝপথে অনেকসময় পণ্য ভেঙ্গে যায়, চুরি হয়ে যায়। সাপ্লায়াররা অনেক সময় সঠিক পণ্য সরবরাহ করেনা। এগুলো সামলানো আমার একার পক্ষে আসলেই কঠিন হয়ে যেতো। এছাড়া পড়াশোনার পাশাপাশি একটি ব্যবসা চালানো বেশ কঠিন বলে আমার মনে হয়।”

তবে তিনি কখনো দমে যাননি। তার ভাষ্যমতে, ” মানুষ ভুল থেকেই শিক্ষা নেয়। আমিও নিয়েছি এবং ভুল শুধরে নিয়ে আবার নতুন উদ্যোমে কাজ শুরু করেছি।”

তার জন্য আমার আরেকটি প্রশ্ন ছিল,” ব্যবসার কোন জিনিসটা আপনি বেশি প্রায়োরিটি দেন?”

উত্তরে তিনি বলেন, ” আমি ব্যবসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি যে জিনিসটিকে গুরুত্ব দেই সেটি হচ্ছে ” গ্রাহকের সন্তুষ্টি “।  যারা বিজনেস ম্যান আছেন, তারা প্রত্যেকেই হয়তো গ্রাহকদের চাহিদার  গুরুত্ব দেন। কিন্তু আমার মনে হয় আমি অনেকের তুলনায় একটু বেশিই এই জিনিসটাকে গুরুত্ব দেই।” 

 

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে সুবাহ বলেন, ” আমি স্বপ্ন দেখি আমার এই ছোট্ট ব্যবসা একদিন অনেক বড় হবে, আমার একটা শোরুম থাকবে, আমার নিজস্ব ব্র‍্যান্ড থাকবে, আমার নিজের একটা পরিচয় থাকবে।”

প্রত্যেকটা সফলতার গল্পেই একজন পেছনের মানুষ থাকে। যাকে আমি আমার ভাষায় বলি “জাদুকর”। এই গল্পেও তার ভিন্নতা ঘটেনি। সুবাহ শানিনের সফলতার গল্পের জাদুকর হলো তার মা। যিনি তাকে তার প্রত্যেকটা খারাপ সময়ে সাপোর্ট করেছেন। এছাড়া তিনি তার ভাই এবং কাজিনদের সাপোর্ট এর কথাও উল্লেখ করেছেন।

আমাদের সমাজে তরুণরা যারা কিনা উদ্যোক্তা হতে চায় তাদের উদ্দেশ্য করে সুবাহ বলেন, ” পরিস্থিতি যাই আসুক, কখনো হার মানা যাবেনা। নিজের বড় হওয়ার ইচ্ছাকে বাচিঁয়ে রাখতে হবে। লেগে থাকলে জিত একদিন আসবেই ইন শা আল্লাহ।”

সুবাহ’র পুরো জার্নি সত্যিই অনেক বেশি অনুপ্রাণিত করেছে আমাদের। আশা করি তার প্রতিটি কথা,  আমাদের বর্তমান তরুণদের আরো অনেক বেশি উদ্যোমী করে তুলবে এবং শক্তি জোগাবে দেশ ও জাতির জন্য কিছু করার।

তাদের পেজটি ঘুরে আসতে এখানে ক্লিক করুন

শাহানা তামান্না সাথী 
ইন্টার্ন, কনটেন্ট রাইটিং ডিপার্টমেন্ট

ওয়াইএসএসই



Source link