সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকবে সামাজিক মাধ্যম

73


সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ভবিষ্যতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা ফেসবুক সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার। এতে ভাইরাল হওয়া নেতিবাচক কোনো লিংক বা কন্টেন্ট দ্রুত অপসরণ করা যাবে। আর তা আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি বা মার্চ থেকেই সম্ভব হবে বলে জানান বিটিআরসি চেয়ারম্যান। সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিটিআরসি কার্যালয়ে ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, কন্টেন্ট ও আনুষঙ্গিক বিষয়াবলী’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সব কথা বলেন।

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সার্বক্ষণিক নজরদাররিতে রাখা হয় কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘এটি আমাদের পক্ষে এই মুহূর্তে সম্ভব নয়। সেই ধরনের মনিটরিং সেল এখনও আমাদের পক্ষে করা হয়নি। আমরা অবশ্যই ফিল করি এই ধরনের মনিটরিং সেল করার বিষয়ে।’

বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা এরইমধ্যে কিছু স্টেপ নিয়েছি। টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সিস্টেম আগামী ফেব্রুয়ারি মার্চের মধ্যে চালু করতে পারব। বাংলাদেশে টেলিকমিউনিকেশনের মাধ্যমে যত ধরনের সেবা দেওয়া হয় সেগুলো নজরদারিতে রাখতে পারব। সেখান থেকে একটা অগ্রগতি আসবে। সাইবার সিকিউরিটি সেল আমরা ওপেন করতে যাচ্ছি, সেখানে আমাদের কিছু ইন্সট্রুমেন্ট লাগবে। সেই জায়গায় আমরা যখন যাব তখন সার্বক্ষিণিক আমরা মনিটরিং করতে পারব। এই জায়গাগুলোতে আমাদের সক্ষমতার ঘাটতি ছিল। এই জায়গাগুলোতে আমরা এখন কাজ করছি।’

সংবাদ সম্মেলনে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব আফজাল হোসেন ও বিটিআরসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গত এক বছরে ফেসবুক থেকে প্রায় ৫ হাজার আপত্তিকর লিংক সরিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

ইউটিউব থেকে সরানো হয়েছে ৬২টি লিংক ও সাইবার থ্রেট ডিটেকশন অ্যান্ড রেসপন্স (সিটিডিআর) এর মাধ্যমে ওয়েবসাইট বা লিংক অপসরণ করা হয়েছে ১০৬০টি।

সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিটিআরসির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। তবে বিটিআরসি থেকে ফেসবুক বা ইউটিউব কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ জানানো হলেও লিংক অপসরণের হার খুবই নগণ্য। এ সব ক্ষেত্রে বিটিআরসির কিছু করার থাকে না বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

বিটিআরসি জানিয়েছে, গত এক বছরে প্রায় ১৮ হাজার ৮৩৬টি লিংক অপসারণের জন্য ফেসবুকের কাছে অনুরোধ করা হয়। যার মধ্যে ৪ হাজার ৮৮৮টি লিংক অপসারণ করা হয়েছে এবং এখনও ১৩ হাজার ৯৮৪টি লিংক একটিভ রয়েছে। লিংক অপসরণের হার মাত্র ২৬ শতাংশ। ইউটিউবের কাছে ৪৩১টি লিংক অপসারণ করার অনুরোধ করলে সেখানে ৬২টি লিংক অপসারণ করা হয়। এখনও ৩৬৯টি লিংক অ্যাকটিভ রয়েছে। এক্ষেত্রে লিংক অপসারণের হার প্রায় ১৫ শতাংশ। এ ছাড়া সাইবার থ্রেট ডিটেকশন অ্যান্ড রেসপন্স (সিটিডিআর) এর মাধ্যমে ওয়েবসাইট বা লিংক অপসরণ করা হয়েছে ১০৬০টি।

সম্মেলনে পরিসংখ্যান উপস্থাপনকালে বিটিআরসির সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসিম পারভেজ জানান, সাইবার থ্রেট ডিটেকশন অ্যান্ড রেসপন্ড (সিটিডিআর) নামের একটি কারিগরি সিস্টেম এরইমধ্যে প্রায় ২২ হাজারেরও বেশি পর্নোগ্রাফি এবং জুয়ার সাইট বন্ধ করা হয়েছে।

এ ছাড়াও এই সিস্টেমের মাধ্যমে ডিজিটাল মাধ্যম থেকে ১ হাজার ৬০টি ওয়েবসাইট বা আপত্তিকর কনটেন্টের লিংক অপসারণ করা হয়েছে।

সারাবাংলা/ইএইচটি/একে





Source link