সারাদেশে আর্মি রেটে রেশনিং চালুর দাবি

91


স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: গ্রামীণ শ্রমজীবীসহ কৃষক-খেতমজুর ভূমিহীনদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভ্যাকসিন দেওয়া এবং একইসঙ্গে সারাদেশে আর্মি রেটে রেশনিং চালুর দাবি জানিয়েছে কৃষক ও ক্ষেতমজুর সংগ্রাম পরিষদের নেতারা।

শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত সাংগঠনিক সভা থেকে এসব দাবি জানানো হয়।

সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, মহামারি মোকাবিলায় সরকার পুরোপুরি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। মাইকিং করে গণটিকা দেওয়ার নামে উল্টো সাধারণ মানুষকে গণহয়রানি করছে। কেন্দ্রে হাজার হাজার মানুষকে জড়ো করে ভ্যাকসিন না দিয়ে তাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, চাল-ডাল-তেল-লবণ-পিঁয়াজসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের কার্যকরি বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ী সিণ্ডিকেটের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে এই মূল্যবৃদ্ধি করে জনগণের কোটি কোটি টাকা লুটপাট করছে। সরকারের খোলা বাজারে চালসহ টিসিবির অন্যান্য পণ্যের বিক্রয়কেন্দ্র না থাকায় শ্রমজীবী, নিম্নবিত্ত, খেটে খাওয়া মানুষ দিশেহারা।

নেতৃবৃন্দ বলেন, উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা হয়েছে। বন্যা কবলিত অঞ্চলের মানুষজন ফসল এবং ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব থেকে আরও নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। নতুন করে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। বন্যা-করোনা মহামারিতে চরম ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ছয় কোটি দরিদ্র মানুষের জন্য সরকারের তেমন কোন উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। প্রণোদনার নামে যে সকল বরাদ্দ এবং গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তার যে প্রকল্প বিদ্যমান আছে তার কোন সুফল গ্রামীণ শ্রমজীবী প্রান্তিক কৃষক-ক্ষেতমজুর, ভূমিহীন-নিম্নবিত্ত মানুষের কাছে পৌঁছায়নি। সরকার দলীয় লোকজন এবং অর্থ বরাদ্দের দায়িত্বে থাকা দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কারণে অধিকাংশই প্রকৃত অভাবী মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছায়নি।

এক দিকে করোনা-ডেঙ্গু, অপরদিকে বন্যা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, এই সব মিলিয়ে গ্রামীণ শ্রমজীবী প্রান্তিক কৃষক-খেতমজুর, ভূমিহীন, নিম্নআয়ের মানুষ খেয়ে পরে স্বাভাবিকভাবে জীবন বাঁচাতে হিমশিম খাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নেতৃবৃন্দ সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে বলেন, অনতিবিলম্বে দেশের কৃষক-ক্ষেতমজুর এবং গ্রামীণ শ্রমজীবীদের করোনা ভ্যাকসিন দিতে হবে।

দ্রব্যমূল্য ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং অসাধু সিণ্ডিকেট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে কৃষক-ক্ষেতমজুর নেতারা সারাদেশে আর্মিদের রেশনিংয়ের মতো রেশনিং ব্যবস্থা চালু করার আহ্বান জানান।

পাশাপাশি, বন্যা কবলিত অঞ্চলে অনতিবিলম্বে পর্যাপ্ত খাদ্য ও নগদ অর্থ বিতরণ। কৃষি ঋণ, এনজিও ঋণ মওকুফ করে নতুন করে আবাদ শুরু করার জন্য সুদমুক্ত কৃষি ঋণের ব্যবস্থা; কৃষকের উৎপাদিত আখ-পাট রক্ষার জন্য বন্ধ পাটকল-চিনিকল খুলে দেওয়া এবং কৃষিভিত্তিক ঐতিহ্যবাহী শিল্প ধ্বংসের অপতৎপরতা বন্ধের দাবি জানায় কৃষক ও ক্ষেতমজুর সংগ্রাম পরিষদ।

অন্যদিকে, ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত দাবি আদায় পক্ষ ঘোষণা করে ঢাকাসহ জেলা-উপজেলায় হাটসভা, পথসভা, বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কৃষক ও ক্ষেতমজুর সংগ্রাম পরিষদ।

কৃষক-ক্ষেতমজুর সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক এবং ক্ষেতমজুর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আকবর খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন খেতমজুর সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রেজা, অর্নব সরকার, সমাজতান্ত্রিক খেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের সভাপতি বজলুর রশিদ ফিরোজ, বাংলাদেশ কৃষক খেতমজুর সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশ খেতমজুর ও কৃষক সংগঠন এর কেন্দ্রীয় নেতা আ.ক.ম জহিরুল ইসলাম, কৃষক সমিতির সুকান্ত শফি চৌধুরী, বাংলাদেশ কৃষক ফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা শহীদুল ইসলাম সবুজ, নিখিল দাস, বিধান দাস প্রমুখ।

সারাবাংলা/এএইচএইচ/একেএম





Source link