সাম্প্রদায়িকতা রোধে গণজাগরণ মঞ্চের মতো গণউত্থানের আহ্বান

120


সারাবাংলা ডেস্ক

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত এক সামাজিক সংলাপে সাম্প্রদায়িকতার বিস্তার রোধে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের মতো আবারও গণউত্থানের আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা।

শনিবার (২৭ নভেম্বর) নগরীর একটি হোটেলে ‘সাম্প্রদায়িক সহিংসতা রোধে আমাদের দায়িত্ব’ শীর্ষক এই সামাজিক সংলাপের আয়োজন করে বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস)। আপহোল্ডিং রাইটস অব মাইনোরিটিজ বিয়ন্ড বর্ডারস- সাউথ এশিয়া নামে একটি সংগঠনও এই আয়োজনে যুক্ত ছিল।

সংলাপে পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ, চট্টগ্রামের সভাপতি ডা. এ কিউ এম সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘সাম্প্রদায়িকতা এখন সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। আজ সমাজের যে পরিস্থিতি তা অনেক কঠিন। প্রায় সবই শেষ। আজ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হলে আওয়ামী লীগের নেতারা আড়ালে তাদের কাছে গিয়ে সমবেদনা জানান। কেন? সামনে এসে সমবেদনা ও প্রতিবাদ জানাতে সমস্যা কোথায়? এই সরকার পাঠ্যপুস্তকে যে পরিবর্তন আনলো তা কী কারণে? দেশব্যাপী চলছে অশালীন ও আক্রমণাত্মক ওয়াজ মাহফিল। এই সাম্প্রদায়িকতার চর্চা থেকে মুক্ত হতে হলে নব্বইয়ের গণতন্ত্রের অভিযাত্রা এবং নিকট অতীতে গণজাগরণ মঞ্চের মত ছাত্র-জনতার গণউত্থান ছাড়া আর কোনো আশা দেখি না।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা বালাগাত উল্লাহ বলেন, ‘আজ দেশের যে পরিস্থিতি সেটা ৫০ বছর আগের মুক্তিযুদ্ধের সময়ের চেয়েও কঠিন পরিস্থিতি। সমাজে সাম্প্রদায়িকতার যে বিস্তার এর মূলে আছে ক্ষমতা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাম্প্রদায়িকতা জন্ম নিচ্ছে। রাষ্ট্রক্ষমতার মধুর জন্যই এই সাম্প্রদায়িকতাকে টিকিয়ে রাখা হয়েছে। ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি করে ক্ষমতায় থাকতে চায় বলেই এটা করা হচ্ছে।‘

ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সাবেক সভাপতি দেলোয়ার মজুমদার বলেন, ‘ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগের যা করা প্রয়োজন ছিল তারা এর উল্টোটা করতে শুরু করেছে। প্রগতিশীল শক্তিকে কোণঠাসা করা হয়েছে। সাম্প্রদায়িক শক্তির সাথে আপস করেছে। আজ আওয়ামী লীগের দিকে তাকিয়ে দেখেন তাদের দলীয় মনোনয়নে যারা এমপি হয়েছেন তাদের কতজন জামায়াতি চেতনা ধারণ করে। আওয়ামী লীগকে বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক ও শোষণ বিরোধী অবস্থানে ফেরাতে হবে। সাম্প্রদায়িক আচরণ থেকে রাষ্ট্রকে বেরিয়ে আসতে হবে।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হোসাইন কবীর বলেন, ‘সেনা শাসকরা যখন রাষ্ট্রধর্ম করেছিল তখন আওয়ামী লীগ বিএনপি এমনকি জামায়াতও এর বিরোধিতা করেছিল। রাষ্ট্রধর্ম রেখে আপনি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গড়তে পারবেন না। সম্প্রীতি মানুষের অন্তরে চাষ করতে হয়। তা করতে হয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে। অসাম্প্রদায়িক শিক্ষাব্যবস্থা না থাকলে অসাম্প্রদায়িক সমাজ হয় না।’

আবৃত্তিশিল্পী রাশেদ হাসানের সঞ্চালনায় সংলাপে আরও বক্তব্য দেন- নারীনেত্রী জেসমিন সুলতানা পারু, অধ্যাপক মো. ইদ্রিস আলী, বিএনপিএস-চট্টগ্রামের ব্যবস্থাপক ফেরদৌস আহমদ, নগর পুলিশ অতিরিক্ত উপ কমিশনার আমিনুল ইসলাম, আইনজীবী এম এ নাসের, ট্রেড ইউনিয়ন নেতা আহম্মদ কবীর, কলেজ শিক্ষক মিনু মিত্র, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের রুবেল পাল, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক প্রণব বল ও মিন্টু চৌধুরী, উন্নয়নকর্মী উৎপল বড়ুয়া, সাংবাদিক মিজানুর রহমান, ছাত্র ইউনিয়ন চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি অ্যানি সেনভ প্রমুখ।

সারাবাংলা/আরডি/পিটিএম





Source link