সাম্প্রতিক ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত চায় ইসলামী আন্দোলন

88


স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: কুমিল্লায় কোরআন অবমাননা এবং এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক হামলার বিচার বিভাগীয় তদন্ত চায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

শনিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে পুরানা পল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মোহম্মদ রেজাউল করীম এ দাবি জানান।

তিনি বলেন, ‘হাজার বছর ধরে হিন্দু-মুসলিমরা এই ভূখণ্ডে পাশাপাশি বসবাস করে আসছে। একই রাস্তায়, একই মহল্লায় মসজিদ আর মন্দির বছরের পর বছর অবস্থান করছে। মানুষ যার যার ধর্ম পালন করছে। মাঝে মধ্যে ছোটখাটো বিবাদ হলেও এ বছরের মতো ব্যাপক বিবাদ স্মরণকালে ঘটেনি।’

তিনি বলেন, ‘কুমিল্লার একটি মন্দিরে পবিত্র কোরআন পাওয়াকে কেন্দ্র করে এবং ফেসবুকে ধর্ম অবমাননাকর স্ট্যাটাসকে ইস্যু করে দেশের বিভিন্ন জেলায় যেসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, এসব ঘটনা তদন্তে বিচার বিভাগীয় কমিটি করতে হবে।’

ঘটনা সম্পর্কে দলীয় পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে সৈয়দ মোহম্মদ রেজাউল করীম বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশের সাধারণ চরিত্র না। বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাস এবং মুসলমানদের ধর্মীয় শিক্ষা এ ধরনের ঘটনাকে সমর্থন করে না। এটি ইতিহাস বিচ্ছিন্ন একটি ঘটনা। ঘটনার সূত্রপাত থেকে পরবর্তী প্রত্যেকটি ঘটনায় প্রশাসনের ব্যর্থতার ছাপ অতি স্পষ্ট। ৫০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে এ ধরনের ব্যর্থতা কল্পনাতীত।’

কুমিল্লার ঘটনার পরে জনরোষ তৈরি হওয়া খুবই স্বাভাবিক মন্তব্য করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির বলেন, ‘বেসামরিক বাহিনীগুলোকে এ ধরনের গণবিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে প্রশিক্ষিত করার কথা। কিন্তু আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করছি, ৫০ বছরের স্বাধীন একটি দেশের বেসামরিক বাহিনী গণবিক্ষোভ দমনে গুলি করার মতো চরম সিদ্ধান্ত সহজেই নিয়ে নিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘কুমিল্লার ঘটনা নিয়ে প্রতিবেশী দেশের একশ্রেণির মিডিয়া, সরকারি দলের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সুশীল সমাজ যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, তা আধুনিক জাতিরাষ্ট্রের সব ধরনের নীতি-নৈতিকতা ছাড়িয়ে গেছে। তাদের এই ধরনের আগবাড়ানো প্রতিক্রিয়ালশীলতায় এই ঘটনার অন্তরালে আন্তর্জাতিক রাজনীতির নোংরা কৌশলের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।’

‘কুমিল্লার ঘটনার পরে বাংলাদেশের এক শ্রেণির মিডিয়া, রাজনৈতিক সংগঠন ও সুশীল সমাজ যেভাবে ঘটনাকে কেবলমাত্র সাম্প্রদায়িকতা দিয়ে ব্যাখ্যা করেছে, তা হতাশাজনক। দেশের ইতিহাস, বাঙালির চরিত্র ও ধর্মপ্রবণতা নিয়ে তাদের এমনতর ভুল ব্যাখ্যা হয়তো মূর্খতা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত,’— বলেন সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম।

তিনি বলেন, ‘কুমিল্লার ঘটনার যে ব্যাপ্তি, তা নজীরবিহিন। কিন্তু বাংলাদেশে প্রায়শই কুচক্রিমহল সংখ্যাগরীষ্ঠের ধর্মকে অবমাননা করে এক ধরনের উত্তেজনা তৈরি করে ঘোলা পানিতে স্বার্থ হাসিল করতে চায়। আমাদের বিশ্লেষণ বলছে, কুচক্রী মহলের এমন সুযোগ দেশের ক্ষমতাসীনরাই তৈরি করে দিয়েছে। কারণ, এই ধরনের ঘটনার পর কখনোই সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা হয় না। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতিই অপশক্তিগুলোকে বারবার ধর্ম অবমাননায় উৎসাহিত করে।’

সৈয়দ রেজাউল করীম বলেন, ‘বাংলাদেশে ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোন আইন নাই। ফলে যে ধর্মের অবমাননা করা হয় সেই ধর্মের অনুসারীরা এক ধরণের অসহায় বোধ করে। সেই অসহায়বোধ থেকেই তারা সহিংস বিক্ষোভ প্রদর্শনে উৎসাহী হয়। তাছাড়া দেশে যখন একদলীয় শাসন চলে, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে কোণঠাসা করে রাখা হয় তখন পার্শ্বপ্রতিকিয়া হিসেবে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সম্প্রতি এরই বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে।’

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনসহ সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব তুলে ধরেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম। তিনি বলেন, কুমিল্লায় কোরআন অবমাননা, বিভিন্ন স্থানে মন্দির ও মূর্তি ভাঙ্গা, রংপুরে আগুন দেওয়া এবং চাঁদপুরে বিক্ষোভে গুলি করে হত্যা করার বিষয়টি পুঙ্খানু তদন্ত করতে হবে এবং সেই কমিটির তদন্ত রিপোর্ট নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জনসন্মুখে প্রকাশ করে অপরাধীদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে।

ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট আইন করতে হবে। সেই আইনের যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে। রাজনৈতিক নেতা ও মন্ত্রীদের অতি বাচাল প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। মানুষের আবেগঅনুভূতির জায়গায় আঘাত করে মন্তব্য করার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে অতি বাচাল তথ্য প্রতিমন্ত্রীকে মন্ত্রীসভা থেকে বহিষ্কার করতে হবে। দেশের স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরাতে বিরোধী দলগুলোর ওপরে দমনপীড়ন বন্ধ করতে হবে। আটক রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দিয়ে সুস্থ স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে’বলেন সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম।

সারাবাংলা/এজেড/টিআর





Source link