সহজেই ঘামের দুর্গন্ধ দূর করা যায়

0
732

শরীরে ঘাম থেকে যে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়, তা মূলত আসে বগল থেকে। বগলের ত্বকের ঘর্মগ্রন্থি বেশিমাত্রায় সক্রিয়। দুদিকের বগলের ত্বকে প্রায় পঁচিশ হাজার করে ঘর্মগ্রন্থি রয়েছে। প্রতিটি গ্রন্থি প্রতিঘণ্টায় তৈরি করতে পারে প্রায় ১২ গ্রাম ঘাম। শুধু গরমে ঘেমে নয়, মানসিক উত্তেজনায় প্রবল ঘাম হতে পারে বগল থেকে। ঘামের গন্ধ দূর করতে বাজারে যেসব চলতি ফর্মুলা আছে, তার মধ্যে অ্যালুমিনিয়াম সল্টের প্রাধান্য বেশি। অ্যালুমিনিয়াম ছাড়াও যেসব পদার্থ ঘাম দূর করতে পারে, তার মধ্যে রয়েছে জিরকোনিয়াম, গরাইসন প্রভৃতি। বাজারে যেসব পাউডার কিনতে পাওয়া যায়, তার মধ্যে অ্যালুমিনিয়ামের পরিমাণ কুড়িভাগ বা তার কিছু কম।

ঘাম প্রতিরোধকারী পদার্থ : ঘাম প্রতিরোধ করতে যেসব পদার্থ ব্যবহৃত হয়, তার থেকে কিছু কি সমস্যর সৃষ্টি হতে পারে? হ্যাঁ, পারে। অনেক সময় ত্বকে সাময়িক উত্তেজনা আরও বেশি হলে ত্বকে প্রদাহ হতে পারে, দেখা দিতে পারে ডার্মাটাইটিস। কয়েকটি ক্ষেত্রে ত্বকে অ্যালার্জিও হতে পারে এ থেকে। এসব দেখা দিলে প্রথমেই বন্ধ করে দিতে হবে সেসব পদার্থ। আরামদায়ক কিছু লাগালে খুব তাড়াতাড়িই দূর হয়ে যাবে এসব সমস্যা।

অতিরিক্ত ঘাম থেকে মুক্তি : যারা প্রবল ঘামের সমস্যায় ভোগেন, যাদের বগলের প্রচ- ঘামে জামাকাপড় ভিজে যায় অবিরত, ঘামের বিশ্রী দুর্গন্ধে ছোট হয়ে যান অন্যের কাছে কিংবা যাদের হাত-পায়ের অবিরাম ঘাম তাদের কাজকর্মে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে, তাদের জন্য বিজ্ঞান এনেছে এক আধুনিক আবিষ্কার। এর নাম আয়োনটোফোরেসিস। একটি বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে করা হয় এটি। একটি পাত্রে কলের পানি রেখে তার মধ্যে হাত কিংবা পা ডুবিয়ে রাখা হয় দুই বগলের ভাঁজে। এরপর ওই যন্ত্র থেকে তার এনে খুব অল্পমাত্রায় বিদ্যুৎপ্রবাহ করানো হয়। কতক্ষণ পাঠানো হবে, তা নির্ণয় করে দেন চিকিৎসক। মনে রাখতে হবে, বিদ্যুৎ চালনা করানো হয় কলের পানির মধ্যে। পরিস্রুত পানি বা ডিসটিলড ওয়াটারের মধ্যে দিয়ে নয়! কলের পানির মধ্যে থাকে বিভিন্ন সল্ট। ইলেকট্রিক কারেন্ট এসব সল্ট আয়নে ভাগ করে। এসব আয়ন গিয়ে জমে ঘামের নালির মুখে। ফলে বন্ধ হয়ে যায় ঘাম।

শুধু প্রসাধনচর্চা হিসেবে নয়, এর অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে। যিনি টাইপ করেন কিংবা যিনি ছবি আঁকেন কিন্তু হাতের ঘামের জন্য হয়তো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে তার পেশা কিংবা কোনো সেলস একজিকিউটিভ হয়তো বগলের ঘামের জন্য সবসময় হীনমন্যতায় ভুগছেন। প্রয়োজনীয় স্মার্টনেস দেখাতে পারছেন না কিংবা অতিরিক্ত ঘামের জন্য কেউ হয়তো নিয়ত ছত্রাক বা জীবাণু আক্রমণে ভুগছেন, কথায় কথায় দাদ হচ্ছে, ফোড়া বেরোচ্ছে। সেক্ষেত্রে এ পদ্ধতি তাদের কাছে ‘ইউরেকা’। তবে একটু ঘামের জন্য, শুধু শখের জন্য এ পদ্ধতি করতে যাওয়া বাড়াবাড়ি। ইদানীং বিদেশে এ যন্ত্রের একটি গৃহসংস্করণ বেরিয়েছে, যেটি ব্যাটারিতে চলে। নাম ফ্রায়োনিক। রোগী নিজেই এটা চালাতে পারেন।

লেখক : সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, আল-রাজি হাসপাতাল, ফার্মগেট ঢাকা। ০১৭১৫৬১৬২০০, ০১৮১৯২১৮৩৭৮

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে