সমাবেশের তারিখ পুনঃনির্ধারণের সিদ্ধান্ত বিএনপির

21


স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: করোনাভাইরাস সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত দলের পূর্বঘোষিত জেলা সমাবেশগুলোর তারিখ পুনঃনির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।

শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তবে সমাবেশগুলোর নতুন তারিখ জানাননি তিনি।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘যে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, সেটি অযৌক্তিক ও অকার্য্কর। তারপরও জনস্বার্থ ও প্রাসঙ্গিক সবকিছু বিবেচনা করে আমাদের সমাবেশগুলোর তারিখ পুনঃনির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বিএনপি ও অঙ্গ দলসমূহের কেন্দ্রীয়, মহানগর ও জেলার নেতাদের পুনঃনির্ধারিত তারিখে সমাবেশ করার জন্য প্রস্তুতি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।’

সমাবেশ ‘পুনঃনির্ধারণের’ বিষয়টিকে ‘স্থগিত’ বলা যায় কি না— প্রশ্ন করা হলে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা বলেছি যে তারিখটা পুনঃনির্ধারণ করেছি, স্থগিত বলিনি। আপনারা কী বুঝেছেন, সেটা আপনাদের ব্যাপার। আমরা যেটা বলার যেটা বলেছি।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘সিটি করপোরেশ নির্বাচন, স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন চলছে। হাট-বাজার, দোকানপাট, স্কুল-কলেজ সবই খোলা। আবার বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, উন্মুক্ত স্থানে সংক্রমণের সম্ভাবনা কম, বদ্ধ স্থানে বেশি। সেখানে সরকার বদ্ধ স্থানে অনুমতি দেয়, উন্মুক্ত স্থানে দেয় না। তার মানে খুব পরিষ্কার।’

‘মূল উদ্দেশ্যটা হলো আমাদের যে কর্মসূচি চলছিল, সেটাকে তারা প্রথমে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে নানাভাবে শক্তিপ্রয়োগ করে, ১৪৪ ধারা জারি করে। আমরা ১৫ দিন আগে চেয়েছি জায়গা, দুই দিন আগে অনুমতি দিয়েছে। পরদিন হঠাৎ করে তাদের কোনো এক অঙ্গসংগঠন বা তাদের দল একটা চিঠি দিলো বা চিঠিও দেয়নি, ফেসবুকে দিয়েছে— সরকার ১৪৪ ধারা জারি করে দিয়েছে। অর্থাৎ গণতন্ত্র হরণের যেসব কাজ সবই করছে তারা। অগণতান্ত্রিক সরকারের পক্ষে এটাই তো স্বাভাবিক,’— বলেন নজরুল ইসলাম খান।

স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘একদিকে ১১ দফা বিধিনিষেধের সরকারি নির্দেশনা, অন্যদিকে সিটি করপোরেশন নির্বাচন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আরও আরও অনেক কাজ উন্মুক্ত আছে। সরকারের বিধিনিষেধের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের সিটি করপোরেশন নির্বাচন বা স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো অনুষ্ঠান সাংঘর্ষিক।’

‘এই মুহূর্ত পর্যন্ত সরকার নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করেনি যে সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে এটা স্থগিত করা হোক। ফলে এটি যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, সে বিষয়ে সন্দেহ থাকার আর কোনো কারণ নেই,’— বলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন যে ডয়েচে ভেলের একটা সার্ভে হয়েছে। সেই সার্ভেতে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে— এটা কি সরকার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য করেছে নাকি স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য করেছে। সেই সার্ভেতে ৮৮ শতাংশ মানুষ বলেছে যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার জন্য করা হয়েছে, স্বাস্থ্যবিধির পক্ষে এই কাজটি করা হয়নি। এই সার্ভেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

সারাবাংলা/এজেড/টিআর





Source link