সব কারখানায় যৌন নিপীড়ন বিরোধী অভিযোগ সেল গঠন করুন : কৃষক-শ্রমিক মুক্তি আন্দোলন

0
399

পোশাকশ্রমিক ধর্ষণের বিচার, সব কারখানায় যৌন নিপীড়ন বিরোধী অভিযোগ সেল গঠন এবং শ্রমিকস্বার্থের পক্ষে শ্রম আইন ও বিধিমালা সংশোধনের দাবি জানিয়েছে জাতীয় কৃষক-শ্রমিক মুক্তি আন্দোলন।

রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক যুক্ত বিবৃতিতে সংগঠনের আহ্বায়ক এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা ও সমন্বয়ক মো. মহসিন ভুইয়া এ দাবী জানান।

তারা বলেন, গত ১৫ জানুয়ারি আশুলিয়ার ইউনিকে ইপিজেডের নারী পোশাকশ্রমিক এবং কাফরুলে ৩১ ডিসেম্বর রাতে গণধর্ষণের শিকার হয়। এ ছাড়াও সারা দেশে শ্রমিক, শিক্ষার্থী, শিশু সকল শ্রেণীর নারীরাই এখন নিরাত্তাহিনার ভুগে। সমাজে পুরুষতান্ত্রিক মানসকাঠামো এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে ধর্ষণ ব্যাপক মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে নারী পোশাকশ্রমিক বেতন না পাওয়ায় বাসা ভাড়া সময়মতো পরিশোধ করতে না পারায় বাড়ির মালিকসহ তার সাথের তিনজন ওই শ্রমিকের স্বামীকে আটকে রেখে গণধর্ষণ করে। একইভাবে কাফরুলের শ্রমিককেও ধর্ষণ করা হয়। এই সকল কিছুই অসুস্থ সমাজের বহি:প্রকাশ।

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে এ ধরনের ধর্ষণের বিচার এবং ঘটনাগুলোর সাথে জড়িত অপরাধিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের জোর দাবী জানিয়ে বলেন, এখানেই দায়িত্ব শেষ করলে হবে না, ভবিষ্যতে নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা বিধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে।

নেতৃত্রয় বলেন, প্রতিটি কারখানায় সব শ্রমিকের ওপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে সীমাহীন টার্গেটের চাপ। অসম্ভব টার্গেট পূরণ করতে না পারলে শ্রমিকদের ওপর নেমে আসে অবর্ণনীয় নির্যাতন। বিশেষত নারীশ্রমিকদের যৌন নিপীড়নের ঘটনা কারখানাগুলোতে অহরহ ঘটে থাকে। জীবন দিয়ে যারা উৎপাদনের চাকা সচল রাখছেন, তারা যদি মানুষ হিসেবে, নারী হিসেবে ন্যূনতম সম্মান না পান সেটা এই শিল্পের চরম ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ।

তারা আরো বলেন, হাইকোর্টের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্তে¡ও বেশির ভাগ কারখানাতে যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে নির্ভয়ে অভিযোগ করার মতো কোনো অভিযোগ সেল গঠন করা হয় নাই। অবিলম্বে সব কারখানায় যৌন নিপীড়ন বিরোধী নীতিমালা ও অভিযোগ সেল গঠন এবং এলাকায় এলাকায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা জোরদারের ব্যবস্থা করতে হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে