ইতিহাস কথা বলেঃ সবাইকে গরুর মাংস দিবে, হিন্দু হোক আর মুসলিম হোক, সবাই যেন মাংস পায়ঃ অধ্যক্ষ সুফিয়া নাহার



রাজিব শর্মা, চট্টগ্রাম অফিসঃ
দিনাজপুরের বিরলে দিনটি শুক্রবার (২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮)ছিল। মহিলা কলেজে অনার্স নিয়োগ পরীক্ষা থাকায় মধ্যাহ্ন ভোজের আয়োজন করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। সেখানে ভোজে অংশ নেন প্রায় শতাধিক মানুষ। এ আয়োজনে রোভার স্কাউটের ছাত্রীরা সহযোগিতা করেছিলেন।

!-- Composite Start -->
Loading...

জানা গিয়েছিল, বিরল উপজেলার বিরল মহিলা কলেজে অনার্স এর নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছিল। এ উপলক্ষে কলেজের অধ্যক্ষ সুফিয়া নাহার মঞ্জু’র নির্দেশে ভোজের আয়োজন করা হয়। খাওয়ার মেন্যুতে খাসির মাংস থাকলেও খাবারে রয়েছে গরুর মাংস।

খাওয়ার আয়োজনের সময় কলেজের অধ্যক্ষ সুফিয়া নাহার মঞ্জু স্কাউটদেরকে বলেন, “তোমরা সবাইকে গরুর মাংস দিবে। কেউ হিন্দু হোক আর মুসলমান হোক সবাই যেন মাংস পায়”।

তখন স্কাউটের সদস্যরা একাধারে সবাইকে খাসির মাংস বাদ দিয়ে গরুর মাংস দিতে থাকেন। সেখানে হিন্দু নেতাকর্মীরাও বাদ যায়নি। প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ জন রয়েছেন এমন হিন্দু ভুক্তভোগী। পরে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন বুঝতে পেরে খাওয়া বাদ দিয়ে চলে যায় এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। গত ২৮ সেপ্টেম্বর ঘটনার একবছর হলে ও উক্ত ঘটনার জন্য সেই কলেজের অধ্যক্ষ কোন দুঃখ প্রকাশ করেন নি।


অক্তভোগী হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন আয়োজনে আমাদের সঙ্গে এমনটা করা ঠিক হয়নি। আগে বললে হিন্দুরা আলাদা বসতে পারতো। সবাইকে যখন বসতে বলে তখন আমরাও বসি। আমাদেরকে বলা হয়েছে খাসির মাংস।

তাই আমরা খাসির মাংস বলে খাওয়া শুরু করি। পরে আরেক জনের কাছে শুনলাম এখানে কোন খাসির মাংস নাই। শুধু গরুর মাংস। আমারা টেনশনে পরি। একি হলো? সাথে সাথে খাওয়া বাদ দিয়ে বাহিরে চলে আসি। এ ব্যাপারে আমরা কলেজের অধ্যক্ষ সুফিয়া নাহার মঞ্জুর দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি দাবি করছিলেন হিন্দু সম্প্রদায়রা এতে কতৃপক্ষ কোন উদ্যোগ নেয়নি বলে জানা যায়।

এ বিষয়ে সুফিয়া নাহার মঞ্জুর সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমি সবাইকে খেতে বলেছি। কিন্তু কোথায় হিন্দু-মুসলিম বসবে, তা বলিনি। তবে যেভাবে আয়োজন করা হয় সে ভাবেই আয়োজন করেছি।

এতে আমার কিছু বলার নাই। খেয়েছেতো কি হয়েছে। বরং ভালো হয়েছে। খাসির মাংসের চেয়ে গরুর মাংস অনেক ভালো। তবে ৪০ থেকে ৫০ জন হবে না। ১৫ থেকে ১৬ জন হবে। এমন ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছিল। ঘটনাটি বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়দের জন্য হৃদয়ে রক্তক্ষরণের মত ঘটনা।

মতামত দিন

Post Author: newsdesk

A thousand enemies is not enough; a single enemy is. There is nothing as a ‘harmless’ enemy.