সন্ত্রাসী বাচ্চু এবং শামীম তালুকদারের নির্যাতনের শিকার সংখ্যালঘু শিক্ষক পরিবার, প্রশাসনের কাছে প্রাণভিক্ষার শেষ আবেদন

রাজিব শর্মা, চট্টগ্রাম অফিসঃ ভোলার বোরহানউদ্দিন থানার কুঞ্জেরহাট বাজারের পূর্ব পাশে মাষ্টার বাড়ির দক্ষিণ পাশে নেপাল মাষ্টারের বাড়িতে গতকাল ১১ই অক্টোবর ২০১৯ শিক্ষক নেপাল দের বসতঘরে ঢুকে সন্ত্রাসী কায়দায় স্থানীয় প্রভাবশালী কুচক্রীমহল হুমায়ুন কবির (ওরফে বাচ্চু) এবং শামীম তালুকদার নামক জনৈক ব্যক্তিদের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ অজ্ঞাত কিছু ব্যক্তিরা তার স্ত্রীর উপর হামলা চালান এবং তার স্ত্রীর স্বর্ণালংকার ও মোবাইল সহ নিয়ে যান। ঘটনার ১ ঘন্টা পর তিনি জানতে পারলে বাড়িতে আসলে আবারো তার উপর দফায় দফায় হামলা চালানো হয় বলে তার অভিযোগ।

তার অভিযোগে উল্লেখ করেন যে, নেপাল দে কে দেশ ছাড়ার হুমকি, স্কুলের কর্মস্থলে যাওয়ার সময় রাস্তায় ধরে প্রায় ১০০ বারের উপর শারীরিকভাবে হামলা করা হয়। তার অভিযোগটি বাংলাদেশের বিভিন্ন আইন সহায়তাকারী সংঘটনদের বরাবর সামাজিক মাধ্যমে উপস্থাপন করেন। পড়ার সুবিধার্থে হবুহু উপস্থাপন করা হল।

!-- Composite Start -->
Loading...

নেপাল চন্দ্র দে এর অভিযোগঃ

আমার নাম নেপাল চন্দ্র দে, আমার বাড়ি ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন থানার অন্তর্গত কুঞ্জেরহাট বাজারের পূর্ব পাশে মাষ্টার বাড়ির দক্ষিণ পাশে নেপাল মাষ্টারের বাড়ি। দুর্ভাগ্যক্রমে আমি আমার জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়াতে ফেসবুকের মাধ্যমে আপনাদের এবং প্রশাসনকে জানাতে বাধ্য হচ্ছি। আমি পেশায় একজন শিক্ষক এবং আমি দক্ষ পেশাদার তৈরিতে জাতিকে সহায়তা করি। আমি বাংলাদেশের একটি হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছি। এইপর্যন্ত আমার উপর শতাধিক আক্রমণ করা হয়েছে, তারা আমার বাসভবনে প্রবেশ করেছে, আমার স্ত্রীকে মারধর করেছে, আমাদের জিনিসপত্র লুট
করেছে। স্কুলে যাওয়ার সময় সন্ত্রাসীরা আমাকে থামিয়ে মারধর পর্যন্ত করেছে। কেউ রাতে এসে আমাদের পরিবারে আক্রমণ করবে এই কারনে আমি রাতে ঘুমাতে পারি না। গতকাল ১১ই অক্টোবর ২০১৯ইং, আমার প্রতিবেশী হুমায়ুন কবির (ওরফে বাচ্চু) এবং শামীম তালুকদার তার পরিবারের সাথে আমাদের বাড়িতে প্রবেশ করেছিল এবং আমার স্ত্রীকে মারধর করে, বাড়িতে একা থাকাকালীন আমার স্ত্রীর মোবাইল এবং গহনা নিয়ে যায়। আমি এক ঘন্টা পরে খবর পেয়ে বাড়িতে চলে যাই, তারপর আবারও জোটবেঁধে আক্রমণ করেছে এবং আমাদের পুরো বাড়িটি বিকৃত করেছে, কাঁচের বোতল আমাদের আক্রমণ করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। তারা আমাদের জমি তাদের নিয়ন্ত্রণে নিতে আমাদেরকে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং ২০০৩ সাল থেকে আমাদের দেশ ত্যাগ করতে একপ্রকার ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। আমাদের সাড়া না পেয়ে তারা আমাদের অমানবিকভাবে হয়রানি করে চলেছে বলে এর বিরুদ্ধে আমি অসংখ্যবার থানায় অভিযোগ দাখিল করেছি। আমি আপনাদের সকলকে সাহায্য করার জন্য অনুরোধ করছি, আমরা হিন্দুরা হাজার হাজার বছর ধরে এই দেশে আছি। দয়া করে আমাদের শান্তিপূর্ণভাবে জীবনযাপন করতে সহায়তা করুন। এটি সবার কাছে আমার শেষ আবেদন হতে পারে।

মতামত দিন

Post Author: newsdesk

A thousand enemies is not enough; a single enemy is. There is nothing as a ‘harmless’ enemy.