সড়ক দুর্ঘটনা ও মৃত্যু কমাতে ডিএনসিসি’র নতুন উদ্যোগ

0
97

ঢাকা, ১২ মার্চ – রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনা ও মৃত্যু কমিয়ে আনতে যৌথভাবে কাজ করবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এবং ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রোপিস ইনিশিয়েটিভ ফর গ্লোবাল রোড সেফটি (বিগ-আরএস)। উভয়পক্ষের মধ্যে সহযোগিতা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) রাতে গুলশানে নগর ভবন থেকে অনলাইনে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ডিএনসিসি মেয়র।

এ কার্যক্রমের উদ্দেশ্য হচ্ছে, ঢাকা মহানগরে সড়ক দুর্ঘটনা ও মৃত্যু কমিয়ে আনা। এ লক্ষ্যে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সংস্থা দু’টির মধ্যে সহযোগিতা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো।

সারা বিশ্বে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ গাড়ির গতিবেগ। এ বিষয়ে সহযোগিতা কার্যক্রমে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়। এছাড়া ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রোপিসের ‘পার্টনারশিপ ফর হেলদি সিটিজ’ এর আওতায় সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রমের সহযোগী হিসেবেও ডিএনসিসি কাজ অব্যাহত রাখবে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রোপিসের প্রতিনিধি কেলি লার্সন এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ), ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এআরআই) প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

আতিকুল ইসলাম বলেন, ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই এয়ারপোর্ট রোডের কুর্মিটোলায় একটি বেপরোয়া গতির বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় ফুঁসে ওঠে শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তা আন্দোলন। এর মধ্য দিয়ে সড়ক নিরাপত্তার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। শিক্ষার্থীরা সারাদেশের সড়কগুলো দখলে নিয়ে সড়ক নিরাপত্তার দাবিতে টানা নয় দিন আন্দোলন চালিয়েছিলো।

আরও পড়ুন : পদ্মা ব্যাংকের টাকা আবারও নয়-ছয়, খতিয়ে দেখবে বিএসইসি

মেয়র বলেন, এ সহযোগিতা কার্যক্রমের লক্ষ্য হলো, ট্রাফিক আইন প্রয়োগ জোরদার করা, সড়কের নকশা উন্নত করা, অবকাঠামো নির্মাণ, সড়কে হতাহতের ঘটনার নজরদারি ব্যবস্থা এবং জনসচেতনতা বাড়ানো ও আচরণ পরিবর্তনে প্রচারণা চালানো। বৃহত্তর সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে ঢাকা মহানগরীতে সড়ক দুর্ঘটনা ও হতাহতের ঘটনা কমিয়ে আনার জন্য তিনি ডিটিসিএ, ডিএমপি, বিআরটিএ, বুয়েটের এআরআই-এর প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, আমি আশা করি আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনা অনুযায়ী সড়ক নিরাপত্তা কৌশল ও কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা আরও বাসযোগ্য, নিরাপদ ও সহিষ্ণু ঢাকা গড়ে তুলতে পারবো।

ঢাকা শহরের সড়ক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কেবলমাত্র পরীক্ষিত ও প্রমাণিত পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে, কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলবে না।

অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটির সার্বিক সড়ক নিরাপত্তার বিষয়গুলো উপস্থাপন করেন ডিএনসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও বিগ-আরএস কার্যক্রমের কারিগরি প্রধান তারিক বিন ইউসুফ। তিনি জানান, সড়কে দুর্ঘটনা বিশ্বে মৃত্যুর অষ্টম প্রধান কারণ এবং ৫-২৯ বছর বয়সীদের মৃত্যুর প্রধান কারণ। বাংলাদেশে ৫ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের মৃত্যুর চতুর্থ প্রধান কারণ এটি। দুর্ঘটনার শিকার মানুষদের মধ্যে ৬৭ শতাংশের বয়স ১৫ থেকে ৪৯ বছর। ‘নিরাপদ সড়ক চাই’-এর তথ্যমতে, ২০১৯ সালে ৪ হাজার ৫০০টির বেশি দুর্ঘটনায় ৫ হাজারের বেশি মানুষ নিহত ও প্রায় ৭ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন।

বিগ-আরএস কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ডিএনসিসি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও নগর কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে গঠিত একটি নেটওয়ার্কে অংশ নিয়েছে। যেখানে বৈশ্বিক পর্যায়ের সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ কার্যক্রমের আওতায় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণ, নিরাপদ সড়ক এবং নিরাপদ চলাচল, পুলিশের আইন প্রয়োগ এবং গণমাধ্যম ও যোগাযোগে সহায়তা দেওয়া হবে।

সড়কে জীবন রক্ষায় তথ্য-উপাত্ত নির্ভর ও পরীক্ষিত সমাধান বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থাগুলো ডিএনসিসিকে কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহায়তা দেবে।

সহযোগী সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে-বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিস, গ্লোবাল রোড সেফটি পার্টনারশিপ (জিআরএসপি), বেসরকারি সংস্থা ওয়ার্ল্ড রিসোর্স ইনস্টিটিউট (ডব্লিউআরআই), জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইনজুরি রিসার্চ এবং দেশীয় পর্যায়ের সংস্থা (জিএইচএআই/বিশ্ব ব্যাংক/বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা)।

ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রোপিসের প্রতিনিধি কেলি লার্সন বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা কমিয়ে আনতে ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রোপিস ইনিশিয়েটিভ ফর গ্লোবাল রোড সেফটি শীর্ষক আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কে ঢাকা মহানগরীকে স্বাগত জানাতে পেরে আমরা আনন্দিত। বিশ্বে প্রতি বছর সাড়ে ১৩ লাখের বেশি মানুষ সড়কে নিহত হয়। পরীক্ষিত ও উপাত্ত-নির্ভর কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ মৃত্যু সংখ্যার প্রায় পুরোটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব।

‘পার্টনারশিপ ফর হেলদি সিটিজ’ এর পরবর্তী ধাপের অংশ হিসেবে সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নে ডিএনসিসি অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করবে। পরিপূরক হিসেবে এ সব কর্মকাণ্ড বিগ-আরএস কার্যক্রমের আওতায় পরিচালিত জীবনরক্ষাকারী কার্যক্রমকে আরও জোরদার করবে।

বিগ-আরএস কার্যক্রমের তৃতীয় ধাপে (২০২০-২০২২) যেসব দেশের শহর অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশ, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, ইথিওপিয়া, ভারত, উগান্ডা ও ভিয়েতনাম। বর্তমান নগরগুলোর মধ্যে আক্রা ও কুমাসি (ঘানা), আদ্দিস আবাবা (ইথিওপিয়া), বোগোতা (কলম্বিয়া), ঢাকা (বাংলাদেশ), গুয়াদালাজারা (মেক্সিকো), হ্যানয় ও হো চি মিন সিটি (ভিয়েতনাম), কাম্পালা (উগান্ডা), মুম্বাই, বেঙ্গালুরু ও নয়া দিল্লী (ভারত) এবং সাও পাওলো, সালভাদর ও রেসিফ (ব্রাজিল)। এসব দেশের শহরে এ কার্যক্রম চলমান আছে।

সূত্র : বাংলানিউজ
এন এইচ, ১২ মার্চ

Source link