সংবাদপত্রের কর্মী ও মালিকদের বিরাট অংশ উচ্ছ্বিষ্টভোগী: ফখরুল

111


স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: সংবাদপত্রের কর্মী ও মালিকদের বিরাট অংশ সরকারের উচ্ছ্বিষ্টভোগী হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার (২২ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজীর মুক্তির দাবিতে এ সভা আয়োজন করা হয়।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলা মানে রাষ্ট্রদ্রোহিতা নয়। এরা (ক্ষমতাসীন দল) সরকার এবং রাষ্ট্রকে এক করে ফেলেছে। সব কিছু দলীয়করণ করে ফেলেছে। একটা কথা আমাদের মনে রাখতে হবে, আওয়ামী লীগ একটা দল, যে দলটি কখনো গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেনি, জন্ম থেকেই করেনি। আমি একেক করে আপনাদের উদাহরণ দিয়ে বলতে পারি।’

‘এই আওয়ামী লীগই সেই দল, যারা ১৯৭৫ সালে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিল সমস্ত দল নিষিদ্ধ করে দিয়ে। এই পত্রিকাগুলো সব বন্ধ করে দিয়েছিল। আমার দুঃখ হয়, কষ্ট হয়; এই সংবাদপত্রের কর্মী এবং মালিক- তাদের বিরাট একটি অংশ আজকে উচ্ছ্বিষ্টভোগী হয়ে গেছে। তারা সরকারের একটু সুন্দর দৃষ্টি দেখলে, সরকারের একটু আশ্রয়-প্রশ্রয় পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে চাটুকারি করে’- বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের একটা ব্যাকগ্রাউন্ড আছে। ছাত্ররাজনীতি, ছাত্রআন্দোলন থেকেই বাংলাদেশের সব আন্দোলন কিন্তু শুরু হয়েছিল। সেখানে একটা শূন্যতা দেখা যাচ্ছে। সেই শূন্যতা আমাদের পূরণ করতে হবে। আসুন, আমরা গাজী ভাইয়ের মুক্তির আন্দোলনকে আরও তীব্র থেকে তীব্রতর করে তুলি। শুধু গাজী ভাই নয়, আজকে এই ডিজিটাল সিকিউরিট অ্যাক্ট বাতিলের জন্য আমরা আন্দোলন করি। যেসব নিবর্তনমূলক আইন আছে, সেই আইনগুলো বাতিলের জন্য আমরা আন্দোলন করি।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সব চেয়ে বড় যে দাবি আমাদের তোলা দরকার, সেটা হচ্ছে- এই মুহূর্তে এই ব্যর্থ সরকারকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা। দেখুন, কীভাবে মানুষকে তারা গ্রাস করছে। আমাদের টেলিফোন হ্যাক করার জন্য ইসরাইলের হ্যাকিং ডিভাইস বাংলাদেশ ক্রয় করেছে। এটা রেগুলার তারা ক্রয় করছিল। ইসরাইল এখন নিজেরাই সেটা বিক্রি বন্ধ করেছে এবং এটা কোন কোন দেশ বন্ধ করেছে? যেখানে মানবাধিকার লংঘন হচ্ছে, যে সমস্ত দেশে গুম হচ্ছে, বিচার বহির্ভূত হত্যাকণ্ড হচ্ছে, সেই দেশগুলোতে তারা বিক্রি বন্ধ করে দিচ্ছে। সুতরাং বাংলাদেশকে আর কোনো মতেই গণতান্ত্রিক দেশ বলা যায় না। এখন আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে- এই সরকারকে সরিয়ে সত্যিকার অর্থে একটা জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা।’

দৈনিক নয়াদিগন্তের সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন নাগরিক ঐক্যর আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, সাংবাদিক নেতা আব্দুল হাই সিকদার, কাদের গণি চৌধুরী ও ইলিয়াস খান প্রমুখ।

সারাবাংলা/এজেড/এএম





Source link