সংঘর্ষের পর বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী আটক: রিজভী

83


স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় অন্তত ৭৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। এর আগে, সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে নয়াপল্টনের বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় ব্যর্থতার’ প্রতিবাদে বিএনপির পূর্বঘোষিত মিছিল প্রেসক্লাবের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষের পর পুলিশের মতিঝিল বিভাগের ডিসি আব্দুল আহাদ সারাবাংলাকে বলেন, ‘বিএনপি নেতাকর্মীদের মিছিল নাইটিঙ্গেল মোড়ের দিকে যাচ্ছিল। ওই মিছিল থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়া হয়। তখন মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারগ্যাস, লাঠিচার্জ ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ ঘটনা পুলিশের অন্তত ছয় জন সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকা থেকে বিএনপির ৪০ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে।’

সংঘর্ষের পর বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী আটক: রিজভী

পরে দুপুর ২টায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘বিএনপির মিছিলে হামলা ও গুলি চালিয়েছে পুলিশ। এসময় বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ, এখনও বিভিন্ন স্থান থেকে আটকের খবর পাওয়া যাচ্ছে।’

পল্টনে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ

 

আটক নেতাকর্মীরা হলেন- মো. শাখাওয়াত হোসেন নান্নু (সাবেক সদস্য, কৃষকদল কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি), এ আর বি মামুন (সহ-সভাপতি, তাঁতী দল নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা), আবদুর রেজ্জাক (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক-তাঁতীদল-নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা), মো. ফরিদ (যুবদল নেতা – কামরাঙ্গিরচর থানা), চায়না সুমন (যুবদল নেতা- নিউমার্কেট থানা), মো. জসিম (যুবদল নেতা- যাত্রাবাড়ী থানা), রেজাউল ইসলাম প্রিন্স (যুবদল নেতা, রমনা থানা), মো. সুমন (বিএনপি নেতা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ), মো. রাসেল (লালবাগ থানা বিএনপি), মো. রাকিব, বদরুল, জুয়েল, (লালবাগ থানা বিএনপি), মো. শুক্কুর, (শাহবাগ থানা বিএনপি), মো. মুতাছিন বিল্লাহ (ছাত্রদল নেতা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), মো. জেহাদুল রঞ্জু (ছাত্রদল নেতা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), মো. আবু সুফিয়ান (ছাত্রদল নেতা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), আবু হান্নান তালুকদার (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাসাস নেতা) হাজী আবদুল কাইয়ুম, মো. জসিম উদ্দিন (৬২ নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা), মো. তুহিন (ডেমরা থানা বিএনপি নেতা), রাকিব, রাসেল, সালাহউদ্দিন, মহিউদ্দিন, ইমরান গাজি (যুবদল নেতা) এবং ঢাকা উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ইউনূসসহ শতাধিক নেতাকর্মী।

রিজভী জানান পুলিশের গুলি ও হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন- ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক গোলাম মাওলা শাহীন, স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি এস এম জিলানী ও সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামসহ ১৫ জনের অধিক নেতাকর্মী।

সংঘর্ষের পর বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী আটক: রিজভী

এছাড়া শাহবাগ থানা যুবদল নেতা মিজান, কদমতলী থানার যুগ্ম আহ্বায়ক টুটুল, কোতয়ালী থানা যুবদল নেতা হানু মিয়া, রমনা থানার যুবদল নেতা মোস্তফা, শাহবাগ থানার যুবদল সদস্য শফিকুল আলম রুবেল, পল্টন থানার বিএনপি নেতা মো. আনোয়ার হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

পাশাপাশি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি নেতা জিয়াউল আনোয়ার, জাহিদ, স্বপন, সুফিয়ান, চন্দন, শামসুদ্দিন ভুইয়া, আব্দুর রশিদ, আমির হোসেন, সাত্তার, শামিম, যুবদল নেতা মইন, মোহন মোল্লা, জাবেদ ইকবাল; ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি মনিরা আক্তার রিক্তা, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সেলিনা সুলতানা নিশিতা, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শওকত আরা উর্মি, মহিলা দল নেত্রী সোনিয়া, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক মিল্লাত উদ্দিন ভূঁইয়া, আজিমুল হাসান চৌধুরীসহ ৬০ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন রুহুল কবির রিজভী।

সারাবাংলা/এজেড/এমও





Source link