ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে পুনরায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী: শেখর রায়

লেখকের কলম থেকেঃ ভারতের সাধারন নির্বাচন এখন সমগ্র বিশ্বে আলোচিত। উন্নত গণতান্ত্রিক বিশ্ব চাইছে নরেন্দ্র মোদীর প্রত্যাবর্তন। অপরদিকে ইসলামী জঙ্গি আদর্শে চালিত দেশগুলি তাদের আইএস, তালিবান ও একাধিক নামের সন্ত্রাসী সংগঠনগুলি অমুসলিম দেশগুলিতে ধর্মীয় সন্ত্রাস রপ্তানির অপরাধমূলক কাজকর্মে যুক্ত তারা সর্বতভাবে মোদী নামে এক ভয়ঙ্কর মানুষের ক্ষমতায় ফেরার বিরোধী। কারন ইসলামী সন্ত্রাসের আঁতুড় ঘর পাকিস্তানের অগুনতি জঙ্গি ঘাটি ও কয়েক হাজার ইসলামী জঙ্গিকে দুর্ধর্ষ ভারতীয় বায়ুসেনা একাধিক সারজিকাল স্ট্রাইকের মাধ্যমে খতম করে দিয়েছে কয়েক মাস আগে। একই কারনে বাংলাদেশ-ভারতের ইসলামী সন্ত্রাসী চেইন ভীষণ উদ্বিগ্ন।

পশ্চিম বঙ্গের গোপন জঙ্গি ঘাটিগুলি জামাত এ ইসলামির অঙ্গ সংগঠনগুলির নির্দেশে মুসলিম এলাকায় শাসক তৃণমূলের পক্ষে মোদী বিরোধী ভোট প্রচারে অবতীর্ণ। ফলে দিল্লীর শ্যেন দৃষ্টিতে বাংলাদেশ লাগোয়া পশ্চিম বঙ্গের আটটি জেলার ইসলামী জঙ্গি ঘাটিগুলির বেআইনি অস্ত্র কারখানা মাদক ও জাল নোট পাচারের নেটওয়ার্ক যে কোন মুহূর্তে ভারতের ভয়ঙ্কর আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে, যা ভারতের প্রতিবেশি দেশ অবগত। রোহিঙ্গা জঙ্গি অনুপ্রবেশে মদত ও ভারতে বিস্তারলাভের চেষ্টা ভারতকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। সেই কারনে দেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভারতীয় শাসন ব্যবস্থার মোদীর মত জনপ্রিয় অথচ কঠোর শাসক দরকার হয়ে পড়েছে।

!-- Composite Start -->
Loading...

সংসদীয় নির্বাচনএ ভোট গ্রহন যেখানে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে একদিন বা দুইদিনে সম্পন্ন হচ্ছে, ব্যাতিক্রম পশ্চিম বঙ্গ যেখানে মাত্র ৪২ টি সংসদীয় আসনে এই এপ্রিল ও মে মাস ধরে টানা সাত দিনে সম্পন্ন হতে চলেছে। দেশের স্বার্থে নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপকে বামপন্থী দলসমুহ, কংগ্রেস ও ভারতীয় জনতা পার্টি সদর্থক বলে মনে করছে। যদিও পশ্চিম বঙ্গ শাসক ‘দিদি’র ধর্মীয় মৌলবাদপ্রিয় নেতা কর্মীরা বেজায় হতাস। দিদির নিয়ন্ত্রিত রাজ্য পুলিশকে থাবড়ে বসিয়ে কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনীর ভারী বুটের আওয়াজ ভোট লুটেরাদের বুকধরপরানি তুলেছে। একের পরে এক তৃণমূল নেতা কর্মীর দলত্যাগ তাদের দলনেত্রীকে বিচলিত করে তুলেছে।

মোদীর ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত হয়ে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান মোদীর পক্ষ সমর্থন করে সরকারী বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে মোদীর মত রাষ্ট্রনায়কের পক্ষেই কাশ্মীর সহ এই উপমহাদেশের হিন্দু মুসলিম সমস্যার সমাধান সম্ভব, অন্য কারো পক্ষে নয়। তথাপি ভারত সহ উপমহাদেশের হিন্দুত্ববাদীরা মোদী সরকারের উপর নাখুশ। কারন তিনি গত নির্বাচনে হিন্দুদেরকে দেয়া প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ। ধর্ম নির্বিশেষে অভিন্ন দেয়ানি আইন প্রনয়ন, কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিল করা, সরকারী আইন ও ক্ষমতাবলে অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণ ও বাবরি মসজিদ পুনর্নির্মাণ করা দেয়া সহ আরও কিছু ধর্ম রক্ষামুলক কাজ করা এবং বাংলাদেশ, ইরাক, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের হিন্দু নিরাপত্তার মত স্পর্শকাতর বিষয়গুলি মোদীর কাছে গুরুত্ব পায়নি।

লক্ষণীয়, ভারতের এই সাংসদ নির্বাচনে কোন সাম্প্রদায়িক বিষয় নেই, নেই কোন তৎসংশ্লিষ্ট প্রচারনা। কিন্তু ভিতরে ভিতরে ক্ষোভে কিছু মানুষ ফুসছে এটা বোঝা যায়। নির্বাচনের বিষয়গুলির মধ্যে বিগত সরকারের আমলে নানাখাতে ব্যাপক দুর্নীতি, ভারতের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাকে দেশের শত্রুদের কাছে বন্ধক রাখা নিয়ে যখন নরেন্দ্র মোদী ভোট প্রচার সভাগুলিতে বলছেন তখন ১০০০ ও ৫০০ টাকার নোট বাতিলের কারনে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মহীন মানুষের কথা, বাড়ন্ত বেকারত্ব ও বিভিন্ন জাতি ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে বিশ্বাসহীনতা তৈরির অভিযোগ যে কথাগুলি মোদী বিরোধীরা সরবে প্রচার করছে। কিন্তু মোদীর সদর্প উজ্জ্বল বক্তব্যের কাছে সে সব কথা জৌলুসহীন মনে হয়। বিরোধীদের অভিযোগ তথ্য প্রমান দিয়ে খণ্ডন করে মোদী বাহিনী গণ মাধ্যমে বেলাগাম প্রচার শুরু করেছে এবং মোদীজিকে অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্য মনে হছে ভারতীয় সাধারণ ভোটারদের।

নির্বাচক মণ্ডলীর সামনে বিকল্প তিনটি। এক ক্ষমতাসীন মোদী নেতৃত্বাধীন বিজেপি জোট, দুই সনিয়া-রাহুলের কংগ্রেসি জোট ও তিন মায়াবতি-মমতার আঞ্চলিক দলগুলির জোট। ভোটাররা এখনো জানে না মোদী বিরোধী জোটগুলির প্রধানমন্ত্রী দাবীদার কে বা কারা। ওসব নাকি ভোটে জিতলে ঠিক করা হবে। সমস্যা হোল, সোনিয়া ও রাহুল বিশাল আর্থিক প্রতারনা ও দুর্নীতির মামলাতে আদালতের জামিনে ঘুরে বেড়াচ্ছে, আক্রোশ মেটাতে আনছে মোদীর বিরুদ্ধে ফ্রান্স থেকে রাফাল যুদ্ধ বিমান কেনা নিয়ে সব অভিযোগ সিএজি, সংসদ ও উচ্চতম আদালতে মিথ্যা প্রমানিত হয়েছে। সর্বপরি ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতির মোদীর সপক্ষে সরকারী বিবৃতির পর বিরোধীদের অভিযোগ সর্বইব মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রমান হয়ে গেছে। বিপরিতে মোদী বিরোধী ক্যাম্পের অনেক নেতা আদালতের সাজা পেয়ে জেল খাটছে যেমন লালু যাদব ও অন্যান্যরা। কলকাতার শাসক দলের অনেক নেতা মন্ত্রীর সারদা-নারদা ঘুষখরি ও প্রতারনার প্রমানিত অভিযোগ এখন আদালতের সাজা ঘোষণার অপেক্ষায়। পশ্চিম বঙ্গে গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে বীভৎস ভোট ডাকাতি, শতাধিক বিরোধী দলকর্মীদের হত্যার অভিযোগ ও নির্বাচন কমিশনের রক্তচক্ষুকে আর মোকাবিলা ও উপেক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না মমতার দল তৃণমূলের। ফলে আগামী ২৩ এপ্রিল ফলাফল এখনই দৃশ্যমান যে অসংগঠিত দুর্বল বিরোধীদের কুপোকাত করে দিল্লীর প্রধানমন্ত্রীর আসনে পুনরায় অভিষিক্ত হচ্ছেন শ্রী নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদী।

লেখকঃ শেখর রায়, প্রবীণ সাংবাদিক, রাজনীতি বিশ্লেষক ও গভেষক, কলকাতা, ভারত

মতামত দিন

Post Author: newsdesk

A thousand enemies is not enough; a single enemy is. There is nothing as a ‘harmless’ enemy.