শেখ হাসিনায় ৮৬ সরকারে ৮৫ ভাগ মানুষ সন্তুষ্ট

0
500

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের ওপর দেশের ৮৫ শতাংশ জনগণই সন্তুষ্ট আর ক্ষমতাসীন দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর আস্থাশীল ৮৬ শতাংশ মানুষ। অন্যদিকে বিএনপির কার্যক্রমে সন্তুষ্ট মাত্র ৬ শতাংশ মানুষ, অসন্তুষ্ট ২৫ শতাংশ। সরকারের প্রথম এক বছরের কার্যক্রম নিয়ে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিসার্চ ইন্টারন্যাশনাল (আরআই) পরিচালিত জনমত জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে জরিপের ফল তুলে ধরা হয়। এ সময় আরআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং গবেষক অধ্যাপক আবুল হাসনাত মিল্টন, প্রধান সমন্বয়কারী কর্মকর্তা কাজী আহমদ পারভেজ ও সমন্বয়কারী কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

অধ্যাপক হাসনাত মিল্টন জানান, মতামত প্রদানকারীদের মধ্যে ৮০ ভাগ উত্তরদাতা বলেছে সরকারের বর্তমান মেয়াদের প্রথম এক বছর আগের তুলনায় ভালো। গত ৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া ভাষণে দেশবাসীকে তার ওপরে আস্থা রাখতে বলার প্রেক্ষিতে শতকরা ৮৬ ভাগ উত্তরদাতা জানায়, প্রধানমন্ত্রীর ওপর তাদের আস্থা আছে। মাত্র ৩ শতাংশ মানুষ আস্থাহীনতার কথা জানায় এবং ১১ ভাগ মতামত প্রকাশ করেনি। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সফলতার বিষয়ে পরিচালিত জরিপের ফলে দেখা যায়, সবচেয়ে কার্যকর মন্ত্রণালয় হিসেবে শতকরা ৩০ ভাগ উত্তরদাতা শিক্ষা, ২৮ ভাগ উত্তরদাতা সড়ক পরিবহন সেতু, ৯ ভাগ উত্তরদাতা তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি এবং বাকিরা অন্যান্য মন্ত্রণালয়কে বেছে নেয়। দক্ষতা ও সাফল্যের প্রেক্ষিতে মন্ত্রীদের মধ্যে প্রথম এবং দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন যথাক্রমে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের (৩৬ ভাগ) এবং শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনি (২৯ ভাগ)।

জরিপে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের মধ্যে শতকরা ৬৫ ভাগ উত্তরদাতা বর্তমানে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকা- নিয়ে কোনো আলোচনা করতে চায়নি এবং ২৫ ভাগ উত্তরদাতা দলটির কার্যক্রম নিয়ে অসন্তুষ্ট। বিএনপির কার্যক্রমে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে মাত্র ৬ ভাগ উত্তরদাতা। এর মধ্য দিয়ে আরআইয়ের মনে হয়েছে, রাজনীতিতে বিএনপি গুরুত্ব হারাচ্ছে। জাতীয় পার্টির ব্যাপারেও উত্তরদাতাদের মধ্যে আগ্রহ কম বলে পরিলক্ষিত হয়েছে।

আরআই জানায়, জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে শতকরা ৪৮ ভাগ উত্তরদাতা দেশে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল থাকার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে, ৩২ ভাগ মনে করে দরকার নেই এবং ২০ ভাগ মতামত দেয়নি। দেশব্যাপী দৈবচয়ন পদ্ধতিতে ৮০৩৯ জন মোবাইলফোন ব্যবহারকারীর মধ্যে পরিচালিত টেলিফোন জরিপে ৫৪২৯ জন ফোন গ্রহণ করেন এবং তাদের মধ্যে ২২৬৬ জন অর্থাৎ শতকরা ৪১.৭ ভাগ অংশগ্রহণকারী তাদের মতামত দেয়।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের কাছে সরকারের প্রথম বছরের সাফল্যের বিষয়গুলো জানতে চাইলে ২১ শতাংশ মানুষ পদ্মা সেতু নির্মাণে অগ্রগতির কথা বলে। সরকারের সাফল্যের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জরিপে অংশ নেওয়া ১৪ শতাংশ দুদককে সরকারের সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করে। এ ছাড়া অন্য সাফল্যের বিষয়গুলোর মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষার প্রসার, মাদক নিয়ন্ত্রণ, অবকাঠামোর সার্বিক উন্নয়ন এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা উঠে এসেছে জরিপে। অপরদিকে সরকারের প্রথম বছরের ব্যর্থতার বিষয়ে জানতে চাইলে ৩২.৮০ শতাংশ মানুষই দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিকে চিহ্নিত করে। ১৬.৯০ শতাংশ মানুষ বেকারত্ব বৃদ্ধিকে সরকারের ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করেছে। এ ছাড়া জরিপে অংশ নেওয়া ১২.৬০ শতাংশ পেঁয়াজ সংকট, ৮.৭০ শতাংশ আইনশৃঙ্খলার অবনতি, ৬.৬০ শতাংশ রোহিঙ্গা সমস্যা, ৫.৫০ শতাংশ সুশাসনের অভাব, ৪.৬০ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধি, ৩.৯০ শতাংশ যানজট, ১.৭০ শতাংশ পরীক্ষায় অব্যবস্থাপনা, ১.২০ শতাংশ ধর্ষণ প্রতিরোধে ব্যর্থতা, ১.২০ শতাংশ যোগাযোগ ব্যবস্থার অবনতি, এক শতাংশ ভিন্নমত দমন এবং ৩.৪০ শতাংশ অন্যান্য বিষয়কে উল্লেখ করে সরকারের ব্যর্থতা হিসেবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে