শীতকালে অ্যালার্জি হওয়ার কারণ

0
643

সাধারণত শীত মৌসুমে কোল্ড অ্যালার্জি বা শীত সংবেদনশীলতার কিছু উপসর্গ দেখা দেয়। অনেক সময় দেখা যায়, শিশু বা বয়স্করা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন বা পুরো শীতে অসুস্থ থাকেন। এর বেশিরভাগই হয়ে থাকে কোল্ড অ্যালার্জির কারণে। সাধারণত ঠাণ্ডা বাতাস, সিগারেটের ধোঁয়া, সুগন্ধি, তীব্র দুর্গন্ধ, পুরনো পত্রিকা বা বই-খাতার ধুলা (যাতে মাইট থাকে), ফুলের রেণু, মোল্ড ইত্যাদি অনেকেই সহ্য করতে পারেন না। এসবের কারণে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি বা অ্যাজমা, সর্দি ইত্যাদি দেখা দেয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এটির নাম অ্যালার্জেন। অ্যালার্জেনজনিত এ উপসর্গের নাম অ্যালার্জি।

আক্রান্তের কারণ : আমাদের নাসারন্ধ্রে স্নায়ুকোষের কিছু রিসেপ্টর আছে। এগুলো ভ্যাগাস নার্ভের (শ্বাসনালি ও কণ্ঠনালির মাংসপেশির সংকোচন-প্রসারণ উদ্দীপ্ত করে) সঙ্গে যুক্ত। অ্যালার্জেনগুলো শ্বাসনালির রিসেপ্টর নার্ভ উদ্দীপ্ত করে। ফলে শ্বাসনালির মাংসপেশির সংকোচন ঘটে সরু হয়ে যায়। তখন রোগীর শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানি দেখা দেয়।

যাদের বেশি হয় : খুব কম বয়সী শিশুদের মধ্যে এর প্রকোপ বেশি দেখা দেয়। তবে যে কোনো বয়সীদের এ সমস্যা হতে পারে।

শীতকালে বেশি হওয়ার কারণ : শীতকালে কেন এ উপসর্গ বেশি হয়, তা এখনো অজানা। তবে অনেক রোগীর সামগ্রিক অবস্থা পরীক্ষা করে আবহাওয়ার অবস্থা, দ্রুত তাপমাত্রা ও বায়ুচাপের পরিবর্তন, উচ্চ আর্দ্রতা মোল্ড ও মাইটের বংশবিস্তারের জন্য উপযোগী, যা শীতকালীন রোগগুলোর কারণের অন্যতম।

উপসর্গ : নাক দিয়ে পানি পড়ে, নাক চুলকায়, কাশি, শ্বাসকষ্ট, বাঁশির মতো আওয়াজ বের হওয়া, বুক চেপে আসা ইত্যাদি।

করণীয় : যে কারণে এ উপসর্গগুলো দেখা দেয়, তা পরিহার করে চলা উচিত। ঠাণ্ডা বাতাস থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য এক ধরনের মুখোশ (ফিল্টার মাস্ক) বা মুখবন্ধনী ব্যবহার করা যেতে পারে। মুখের অর্ধাংশসহ মাথা, কান ঢেকে রাখা। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সালবিউটমল ইনহেলার নেওয়া যেতে পারে। এটি উপসর্গ নিঃসরণে প্রথম পছন্দনীয় ওষুধ। দীর্ঘমেয়াদি ভালো থাকার জন্য স্টেরয়েড ইনহেলার নেওয়া যেতে পারে। যে অ্যালার্জেন পুরোপুরি পরিহার করা সম্ভব নয় অথচ শ্বাসকষ্টের জন্য বহুলাংশে দায়ী যেমনÑ মাইট, মোল্ড, পোলেন বা পরাগ রেণুর ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে দীর্ঘমেয়াদি সুস্থ থাকা যায়। ভ্যাকসিন পদ্ধতি ব্যবহারে কর্টিকোস্টেরয়েডের ব্যবহার অনেক কমে যায়। ফলে কটিকোস্টেরয়েডের বহুল পার্শ্বপ্রতিত্রিুয়া থেকেও রেহাই পাওয়া যায়। বিশ্বের অধিকাংশ দেশে, বিশেষ করে উন্নত দেশগুলোয় এ পদ্ধতিতে চিকিৎসা দেওয়া হয়ে থাকে। বর্তমানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও অ্যালার্জিজনিত রোগের অন্যতম চিকিৎসা ভ্যাকসিন পদ্ধতিতে বলেই অভিহিত করে থাকে। এটি অ্যালার্জি রোগীর দীর্ঘমেয়াদি সুস্থ থাকার সবচেয়ে উত্তম চিকিৎসা পদ্ধতি বলে মনে করা হয়ে থাকে।

চেম্বার : অ্যালার্জি, অ্যাজমা অ্যান্ড হলিস্টিক হেলথ কেয়ার, স্কাইটাচ রাজকোষ, ৪৩/আর, ৫/সি পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা

০১৭২১৮৬৮৬০৬, ০১৯২১৮৪৯৬৯৯

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে