শিক্ষা ব্যবস্থায় উদ্ভাবনী স্টার্টআপ “Thrive Edtech”

0
106


প্রতিটি মানুষের বেঁচে থাকার জন্য কিছু মৌলিক চাহিদা পূরণ করা জরুরী। এর মধ্যে শিক্ষা অন্যতম। ১৬ কোটি জনসংখ্যার বাংলাদেশে এই চাহিদা দেশটির উন্নয়নের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কেননা, একটি দেশের জনসংখ্যার সাফল্য এর উন্নতি নিশ্চিত করে। ঠিক এমনি ভাবে, এদেশের শিক্ষার ক্ষেত্র গুলোকে উন্নত এবং ব্যাক্তিগতকরণের জন্য বাংলাদেশে তৈরি হয় নতুন একটি স্টার্টআপ, Thrive।

এডুটেক স্টার্টআপ কোম্পানি থ্রাইভ বাংলাদেশের শিক্ষা সেক্টরে কিছু পরিবর্তনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। থ্রাইভের মতে, শিক্ষা হতে হবে ব্যাক্তিগত। থ্রাইভ বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুনর্নির্মাণ করে উভয় শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের মান উন্নয়নে কাজ করছে। দেশের প্রতিটি শ্রেণীকক্ষে ব্যাক্তিগত শিক্ষা আনার পেছনে দৃঢ় মনোভাব নিয়ে গঠন করা হয়েছে এই স্টার্টআপ টি।

লক্ষ্য:

ডেইলি স্টার কে দেওয়া একটি ইন্টারভিউ তে থ্রাইভ এর CPO প্রগ্য প্রতিক জানান, থ্রাইভের আপাত লক্ষ্য হচ্ছে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা কে ডিজিটালাইজড করা। সময়ের সাথে সাথে পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে একটি অনলাইন এবং গ্যাজেট নির্ভর সময়ের দিকে। অর্থাৎ ভবিষ্যত পৃথিবী হবে সম্পূর্ণ টেকনোলজিকাল এবং ইন্টারনেটনির্ভর। এরই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শিক্ষার এই ট্রিলিয়ন ডলার ইন্ডাস্ট্রি বিভিন্নরকম ভাবে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ এখনো সেই পুরোনো অবস্থায় পড়ে আছে এবং এটি দেশের ভবিষ্যৎ কে প্রশ্ন করছে। থ্রাইভের লক্ষ্য পূরণ এখান থেকে কার্যকর হচ্ছে। অর্থাৎ পৃথিবী এবং ভবিষ্যতের সাথে সামঞ্জস্য রেখে থ্রাইভ এডুটেক বাংলাদেশকেও সেই পর্যায়ে নিয়ে যেতে এই স্টার্টআপ টি শুরু করেছে।

শিক্ষা ব্যবস্থায় উদ্ভাবনী স্টার্টআপ “Thrive Edtech”

এখন, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা কল্পনা করলে চোখের সামনে কি আসে? একটি শ্রেণীকক্ষে ধারণক্ষমতার বেশী শিক্ষার্থী নিয়ে একজন শিক্ষকের পড়ানোর দৃশ্যটি। এটির ধারাভাষ্যতা আমাদের পূর্বপুরুষ থেকে শুরু করে আমরা নিজেরাও করতে পারবো। তাহলে পরিবর্তন আসছে কোথায়? জবাব টি হবে কোথাও না। ডিজিটাল বাংলাদেশে হয়ত কাজ করতে এখন হাতের কাছে কম্পিউটর, ল্যাপটপ এসে পড়েছে অথবা টাকা তুলতে এখন ফোনের একটা ক্লিকই যথেষ্ট কিন্তু শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়ন এখনো হচ্ছে না। সেই পুরোনো ধরাবাঁধা নিয়ম পার করে নতুন এবং ব্যাক্তিগত কিছু প্রাপ্তির লক্ষ্যই থ্রাইভের।

কার্যক্রম:

সাধারণভাবে একটি শ্রেণীকক্ষে একজন শিক্ষক একই সময়ে প্রায় ১৫জনের মতন শিক্ষার্থী কে সঠিক ভাবে পর্যবেক্ষণ করে শিক্ষা দিতে পারবে। কিন্তু বাংলাদেশের শিক্ষা কার্যক্রমে একটি শ্রেণীকক্ষে এর প্রায় তিন গুণ শিক্ষার্থী অবস্থান করে যা শিক্ষকদের জন্য একটি বিভ্রান্তিকর পরিবেশের সৃষ্টি করে। তখনই শিক্ষার্থীরা সঠিক যত্ন এবং মান পায় না শিক্ষার্জন করতে। এই পরিস্থিতি বর্ণনা করে থ্রাইভ নিজেদের কার্যক্রম এবং লক্ষ্যে এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের চিন্তা করছে। এই লক্ষ্য মাথায় রেখে থ্রাইভ তাদের ডিজিটাল কার্যক্রম গুলোর মধ্যে ডিজিটাল কোচ নামক একটি প্লাটফর্ম তৈরি করেছে যা প্রতিটি শিক্ষার্থীর ফলাফল মূল্যায়ন, ক্লাস এক্টিভিটি এবং শিক্ষকের জন্য একটি অবিভ্রান্তিকর পরিবেশ প্রদান করে।

এছাড়াও, ইউনিসেফের তথ্যমতে, বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার মধ্যে বর্তমানে ৪০% ই শিশু। এর মধ্যে পূর্ববর্তী ডাটা থেকে পাওয়া যাচ্ছে যে প্রায় ৬ লাখ শিশু ই পড়াশোনার বাইরে। সাম্প্রতিক কোভিড-১৯ এর মহামারির তান্ডবের জন্য প্রায় কয়েক লাখ শিশু লেখাপড়া ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। এই চিন্তাধারা থেকে থ্রাইভের সাম্প্রতিক একটি কার্যক্রম হচ্ছে “থ্রাইভ বিদ্বান ভার্চুয়াল স্কুল”। ঘরে থেকে পড়ালেখা করার কন্সেপ্ট টি নতুন কিছু নয়। তাহলে থ্রাইভের এই নতুন সংকলন পরিচিত সেই কন্সেপ্ট থেকে আলাদা কিভাবে? থ্রাইভের এই কার্যক্রম ঘরে ঘরে শিক্ষার আলো ছড়াবে। এবং সেসব ঘরেও ছড়াবে যাদের কোন প্রকার গ্যাজেট ব্যবহার করার সামর্থ্য নেই।

“ ক্লাসে যোগ দিন একটি ফোন কলের মাধ্যমে”

শুনতে আশ্চর্য লাগলেও এটিই থ্রাইভের ভার্চুয়াল স্কুলের একটি কন্সেপ্ট যা একটি ফোন কলের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিয়ে যাবে শিক্ষকের কাছে। বর্তমানে প্রায় ৮ হাজার শিক্ষার্থী এবং ১০০ জনেরও বেশী শিক্ষক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই কার্যক্রম দ্বারা উপকৃত হয়েছে। থ্রাইভ ধীরে ধীরে তাদের এই চিন্তাধারা বাস্তবায়ন করতে সারা দেশে ছড়িয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে।

সাম্প্রতিক কার্যকলাপ:

থ্রাইভ এডুটেক সম্প্রতি তাদের ১ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার প্রাথমিক পর্যায় ফান্ডিং এর জন্য হেডলাইন তৈরি করেছে বিভিন্ন পত্রিকায়। এই ফান্ড প্রদানদাতাদের মধ্যে থ্রাইভ ৩ জন প্রধান মানুষের নাম প্রকাশ করেছে। যার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের শীর্ষ কিছু পাবলিশিং হাউজের মালিক এবং অমিকন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার মেহেদী হাসান। অমিকন গ্রুপ দেশের প্রায় ৭০% স্কুলে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়াও এই লিস্টে রয়েছে তাদের অন্যতম প্রধান ইনভেস্টর, উবার বাংলাদেশের কান্ট্রি হেড কাজী জুলকারনাইন এবং আরেকজন ইনভেস্টর মোহাম্মদ আব্দুল গফুর বশির।  

কৃতিত্ব:

শিক্ষা ব্যবস্থায় উদ্ভাবনী স্টার্টআপ “Thrive Edtech”

থ্রাইভের কিছু উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতির মধ্যে একটি হচ্ছে সাউথ এশিয়া তে HolonIQ এর শীর্ষ ১০০ এডুটেক কোম্পানির মধ্যে থ্রাইভ এডুটেকের নাম আসা। এছাড়াও, NSU Startups Next Program থেকে গ্রাজুয়েশন করাও অন্যতম।

পরিশেষে, একটি কাগজ নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা কে টেকনোলোজি এবং ডিজিটালাইজ করার পরিকল্পনা থ্রাইভকে অন্যসব স্টার্টআপ থেকে আলাদা করতে সক্ষম হয়েছে এবং এটি শীঘ্রই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাতে এক বিপ্লব সৃষ্টি করবে।

এরকম আরো ব্লগ পড়তে ক্লিক করুন এখানে

 

সাবিকুন্নাহার আফরা

ইন্টার্ন, কন্টেন্ট রাইটিং ডিপার্টমেন্ট

YSSE



Source link