শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমর্থন

64


স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: গণপরিবহনে হাফ ভাড়ার দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। একইসঙ্গে, জোট নেতৃবৃন্দ ওই আন্দোলনের ওপর ছাত্রলীগের হামলার নিন্দা জানিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবি অবিলম্বে মেনে নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বুধবার (২৪ নভেম্বর) এক যৌথ বিবৃতি জোটের এই অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে।

ওই বিবৃতিতে সই করেছেন বাম গণতান্ত্রিক জোট কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সমন্বয়ক ও বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ, সিপিবির সভাপতি মুজহাদিুল ইসলাম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, বাংলাদেশ ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা শিশু, ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী) সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবীর জাহিদ, বাসদের (মার্কসবাদী) ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক ফখরুদ্দিন কবীর আতিক ও সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের সভাপতি হামিদুল হক।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, অতীতে কোটা আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনেও ছাত্রলীগ-যুবলীগের হেলমেট বাহিনীর সন্ত্রাস দেশবাসী দেখেছে কিন্তু, কারও বিচার হয়নি। শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়ার আন্দোলনে হামলাকারীদের শাস্তি দাবি করেন নেতৃবৃন্দ। পাকিস্তান আমলে এবং বাংলাদেশেও ইতোপূর্বে গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া চালু ছিল।

প্রসঙ্গত, ১৯৬৯ সালের সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১১ দফার অন্যতম দাবি ছিল শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া।

এদিকে, ডিজেলসহ জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে সরকার জনজীবনের প্রতিক্ষেত্রে অবর্ণনীয় বোঝা চাপিয়ে জনদুর্ভোগ বাড়িয়েছে। ডিজেলের দাম বাড়ার অজুহাতে পরিবহন ভাড়াও অস্বাভাবিক মাত্রায় বেড়েছে। তেলের দাম বেড়েছে ২৩%, বাস ভাড়া বেড়েছে ২৭%। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার অজুহাতে ডিজেলের দাম বাড়িয়েছে অথচ এখন আবার দাম কমতে থাকলেও দেশে ডিজেলের দাম কমানোর কোন লক্ষণ নেই। পরিবহন ভাড়াও কমানোর কথা শোনা যাচ্ছে না। দেশে পরিবহন সেক্টরে এক চরম নৈরাজ্য নেমে এসেছে উল্লেখ করে বাম নেতারা বলেন, তেলের দাম বাড়িয়ে সরকার মুনাফা করছে। আর, বাস ভাড়া বাড়িয়ে পরিবহন মালিকেরা লাভ করছে। এ যেন চোরে চোরে মাসতুতো ভাই। মাঝখানে জনগণের চিড়েচ্যাপ্টা অবস্থা।

তারা বলেন, বাস ভাড়া বাড়িয়ে মালিক মুনাফা লুটছে, অন্যদিকে দরিদ্র পরিবহন শ্রমিকদেরকে যাত্রী ও শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

সড়ক পরিবহন সচিবের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তারা বলেন, সড়ক পরিবহন সচিব কি করে বলতে পারেন ‘বেসরকারি মালিকদের ওপর অর্ধেক ভাড়ার চাপ দেয়া সম্ভব নয়, চাপ দিলে মালিকেরা বাস বন্ধ করে দিতে পারে।’ এর মাধ্যমে জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতন হওয়া সচিব ছাত্র জনতার স্বার্থ রক্ষা না করে মুষ্টিমেয় মালিকদের স্বার্থ রক্ষায় তৎপর তাই বোঝা যায়।

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ভাড়া কমানো এবং গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়ার দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। একইসঙ্গে, শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলনের মাধ্যমে দাবি মানতে সরকারকে বাধ্য করা এবং জনগণকে ছাত্রদের আন্দোলনে সমর্থন ও অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

সারাবাংলা/এএইচএইচ/একেএম





Source link