শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার যৌক্তিকতা কোথায় : ন্যাপ

0
119

পূর্বের ন্যায় হাট-বাজার, অফিস-আদালত, পরিবহন, শপিং মল, পর্যটন কেন্দ্রগুলো চলছে দীর্ঘদিন আগে থেকেই। এছাড়াও চলছে নিয়মিত সভা-সমাবেশ, নানান দিবস উদযাপন এবং নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা তাহলে শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার যৌক্তিকতা কোথায় মন্তব্য করে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ বলেছে, শিক্ষাঙ্গন খুলে দিতে সমস্যা কোথায়? যেহেতু সবকিছুই স্বাভাবিক নিয়মে চলছে কাজেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ রাখাটা একেবারে অযৌক্তিক। সেজন্য অনেকেই ব্যঙ্গ করে বলছেন, করোনা শুধু শিক্ষাঙ্গনে।

বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে পার্টির চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া এসব কথা বলেন।

নেতৃদ্বয় বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথা বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে কোথাও কোন স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। সব কিছু খোলা রেখে শুধুমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে এটা বলা কতোটা যুক্তিসঙ্গত ? সবকিছু তথাকথিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে খুলে দেওয়া হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে এতো দ্বিধা কেন? করোনাকালীন সময়ে যতোদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ততোদিন শিক্ষক, কর্মকর্তাসহ শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সকলের বেতন বন্ধ করে দেওয়া হতো তবে কি তারা চুপ থাকতেন।

তারা বলেন, সকলে এখন নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি নিয়েই ব্যস্ত। প্রায় এক বছর হতে চললো সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে আছে। এ নিয়ে উপরমহলের কারোর বিন্দুমাত্র মাথা ব্যথা নেই, যেমন নেই শিক্ষকদের। তাদের মাথা ব্যথা থাকবেই বা কেন ? তারা তো বেশ আরামেই আছেন। দেশের প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবী আহমদ ছফা যথার্থই বলেছেন। শিক্ষক সমাজ থাকলে তারা চুপ করে আরাম আয়েশে দিন কাটাতেন না। আজ শিক্ষক সমাজ নেই বলেই শিক্ষার্থীদের নিয়ে কেউ ভাবেন না আর কথাও বলেন না। শিক্ষার্থীরা মার খায় তবু কারো বিবেক জাগ্রত হয়না।

নেতৃদ্বয় বলেন, সরকার কি এমন আশঙ্কা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিতে ভয় পাচ্ছেন ? একটি শিক্ষার্থীর জীবন তাদের কাছে খুবই মূল্যবান। এখন পর্যন্ত কতোজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার খবর পেয়েছেন? কিন্তু এই বন্ধের সময়ে শিক্ষার্থীরা হতাশায়, মানসিক চাপে আত্মহত্যা করেছে সেদিকে তাদের ভ্রুক্ষেপ নেই।

তারা আরো বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় যে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন সে দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন শুধুমাত্র স্থগিত পরীক্ষাগুলো নেবার ব্যবস্থা করার মাধ্যমে। করোনা মহামারিতে অনেকের চলতি পরীক্ষা স্থগিত হয়ে যায় আবার কারো পাঠ্যক্রম শেষ পর্যায়ে ছিলো এমন শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তারা পরীক্ষা নেবার ব্যবস্থা করেছেন তবে হল বন্ধ রেখে।

নেতৃদ্বয় বলেন, যাদেরকে দেশের সম্পদ হিসেবে গণ্য করা হয় এবং যাদেরকে জাতির কর্ণধার ভাবা হয় তারা আজ মার খাচ্ছে আর কর্তৃপক্ষ নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা এভাবে মার খেলে, নিষ্পেষিত হলে, অবহেলিত হলে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা কারা গড়বেন ? ৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ পর্যন্ত যারা অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন আজ সেই শিক্ষার্থীরাই অবহেলিত। অনতিবিলম্বে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ খুলে দেওয়া হোক, সাথে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো।