শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ক্ষেত্রে মাউশির ১৪ নির্দেশনা

41


সারাবাংলা ডেস্ক

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারির কারণে দীর্ঘ দেড় বছর বন্ধ থাকার পর আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে খুলছে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ পরিস্থিতির মধ্যেই দেখা দিয়েছে ডেঙ্গুর সংক্রমণ। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে করোনা ও ডেঙ্গুর সংক্রমণ রোধে ১৪টি নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি)।

এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আবাসিক শিক্ষার্থীরা হোস্টেলে ওঠার পূর্বে অবশ্যই করোনার আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করতে হবে। আর পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ হলেই শিক্ষার্থীরা হোস্টেলে ফিরতে পারবেন। গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) মাউশি’র মহাপরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ গোলাম ফারুক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনা মহামারির কারণে গত বছরের ১৮ মার্চ থেকে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের আবারও স্বাভাবিক শ্রেণি কার্যক্রমে ফেরানো এবং প্রতিষ্ঠানিক অন্যান্য কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এদিকে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য হোস্টেল রয়েছে, সেসব হোস্টেল চালু করার ক্ষেত্রে করোনা সংক্রান্ত স্বাস্থ্যবিধির পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও চিকিৎসা সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয় ওই বিজ্ঞপ্তিতে।

নির্দেশনাগুলো হলো:

১.সকল সমাবেশ স্থানসমূহ (ক্যাফেটেরিয়া, ডাইনিং, টিভি/স্পোর্টস রুম ইত্যাদি) পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। রান্নাঘর থেকে রুমসমূহে সরাসরি খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে।

২. একাধিক শিক্ষার্থী একই বিছানা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকবে।

৩. একইসঙ্গে নামাজ, প্রার্থনা ও সমাবেশ ইত্যাদি ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নির্দেশনা মেনে চলবে।

৪. আবাসিক শিক্ষার্থীরা হোস্টেলে ওঠার পূর্বে করোনার আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করতে হবে। আর পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ হলেই শিক্ষার্থীরা হোস্টেলে ফিরতে পারবে।

৫. হোস্টেলে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি অবশ্যই মেনে চলতে হবে।

৬. হোস্টেল, বাথরুম, টয়লেট, বেসিন ও ড্রেন প্রতিদিন জীবাণুমুক্ত করে রাখতে হবে।

৭. বাথরুম ও ফ্লোর শুকনো থাকবে।

৮. সবাই ব্যক্তিগত সাবান ও তোয়ালে ব্যবহার করবে। একইসঙ্গে ব্যক্তিগত লকার, অন্যান্য জিনিসিপত্র পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে।

৯. ডাইনিং রুমের টেবিল, গ্লাস, প্লেট, চামচ ও জগসহ অন্যান্য জিনিস সব সময় পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে।

১০. হোস্টেলের খাবর পানি ও খাদ্য সামগ্রী নিরাপদ রাখতে হবে।

১১. দিনে ও রাতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করতে হবে।

১২. ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও এডিস মশা বিস্তার রোধে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

১৩. একজন ব্যক্তির ব্যবহার সামগ্রী অপর ব্যক্তি ব্যবহার করতে পারবে না।

১৪. আবাসিক শিক্ষার্থী ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারী ব্যতীত অন্য কেউ হোস্টেলে অবস্থান বা যাতায়াত করতে পারবে না।

সারাবাংলা/এনএস





Source link