শিক্ষকের বেত্রাঘাতে ৩য় শেণীর ছাত্রীর চোখ হারালেন, তদন্তে শিক্ষা বিভাগ

ক্রাইম প্রতিবেদকঃ শিক্ষকের বেতের আঘাতে যাদবপুর গ্রামের দুবাই প্রবাসী শাহিন মিয়ার মেয়ে ও ওই স্কুলের ৩য় শ্রেণীর ছাত্রি হাবিবা আক্তার (৮) নামে এক শিশুর চোখ নষ্ট হয়েছে। গুরুতর অবস্থায় ওই শিশুকে ঢাকায় জাতীয় চক্ষু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনাটি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার যাদবপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে
ঘটেন।
গত সোমবার সর্বশেষ খবর অনুযায়ী তার চোখের অবস্থার উন্নতি হয়নি। সেখানে তার অপারেশন হবে।
এদিকে শিক্ষকের বেতের আঘাতে শিশুর চোখ নষ্ট হওয়ার ঘটনায় জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু জাফরকে স্কুলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ। হবিগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসনও এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসকে তদন্তের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শাখাওয়াত হোসেন রুবেল জানান, রবিবার তিনি খবর পেয়েই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে স্কুলে গিয়ে তদন্ত করার পত্রের মাধ্যমে নির্দেশ দিয়েছি এবং সেখানকার ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে কথা বলার জন্যও বলেছি তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর শিক্ষক নিরঞ্জন দাশের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
হবিগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, তিনি বিষয়টি স্কুলে গিয়ে সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু জাফরকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে চোখে আঘাত প্রাপ্ত শিশু হাবিবার পিতা শাহিন মিয়া দুবাই থাকায় তার চাচা রাজু মিয়া তাকে নিয়ে ঢাকায় যান। তিনি জানান, রবিবার রাতেই হাবিবাকে জাতীয় চক্ষু হাসপাতালে ভর্তি করেন। সোমবার ডাক্তাররা হাবিবাকে পরীক্ষা-নিরিক্ষা করে বলেছেন তার চোখের অপারেশন প্রয়োজন হবে।
এ ব্যাপারে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ ব্যাপারে অফিসিয়ালি তাকে কিছু জানানো হয়নি। তিনি পত্রিকার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছেন।
প্রসঙ্গত, রবিবার দুপুর ১২টার দিকে ক্লাশ চলাকালে যাদবপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিরঞ্জন দাশ তার হাতের একটি বেত ছুড়ে মারলে তা সরাসরি হাবিবুর চোখে লাগে। এতে তার চোখ থেকে রক্ষকরণ হলে সে কান্নায় লুটিয়ে পড়ে। পরে সমগ্র স্কুলে হৈ চৈ শুরু হলে স্থানীয় লোকজন হাবিবা আক্তারকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মিঠুন রায় তাকে পরীক্ষার পর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে সিলেটে রেফার করেন। পরে তার স্বজনরা ঢাকা চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে যায়।
হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মিঠুন রায় জানান, বেতটি সরাসরি হাবিবার চোখের ভিতর আঘাত করায় তার চোখ নষ্ট হয়ে গেছে। চোখটি ভালো হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

মতামত দিন

Post Author: newsdesk

A thousand enemies is not enough; a single enemy is. There is nothing as a ‘harmless’ enemy.