শাপলা চত্বরে নাশকতার তথ্য ফাঁস করলেন হেফাজত নেতা মুফতি ফখরুল ইসলাম

0
203

ঢাকা, ২০ এপ্রিল – ২০১৩ সালের ৫ মে। মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের অবরোধ কর্মসূচি। আর সেই অবরোধ কর্মসূচিকে ঘিরে এক ভয়ংকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল সেদিন। কিন্তু সেই কর্মসূচির কী উদ্দেশ্য ছিল, কেন তা নাশকতায় রূপ নিল, নাশকতার পেছনে মূল কারণ কী ছিল, বিএনপি-জামায়াতের কোন কোন নেতার সঙ্গে তারা সাক্ষাৎ করেছিল, কর্মসূচিতে হেফাজত ছাড়াও আর কারা ছিলেন— এবার সেইসব তথ্য ফাঁস করলেন হেফাজত নেতা মুফতি ফখরুল ইসলাম।

সোমবার (১৯ এপ্রিল) ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম দেবদাস চন্দ্র অধিকারীর আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য জানিয়েছেন তিনি।

জবানবন্দিতে তিনি জানান, ৫ মে’র অবরোধ কর্মসূচির এক সপ্তাহ আগে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন হেফাজত নেতারা। এমনকি ওই সময় জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন এবং বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন মুফতি ফখরুল ইসলাম।

গত ১৪ এপ্রিল লালবাগ এলাকা থেকে মুফতি ফখরুলকে গ্রেফতারের পর পাাঁচদিনের রিমান্ডে নেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রিমান্ড শেষে সোমবার (১৯ এপ্রিল) তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালত সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

আরও পড়ুন : বাংলাদেশে করোনা টিকা উৎপাদনের প্রস্তাব রাশিয়ার

জবানবন্দিতে যা বলেছেন—

মুফতি ফখরুল জানিয়েছেন, তিনি কামরাঙ্গীরচর জামিয়া নূরীয়া মাদরাসায় পড়াশোনা করেছেন। হেফাজতে ইসলামের আগের কমিটির ঢাকা মহানগরীর প্রচার সম্পাদক ছিলেন তিনি। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জনসেবা আন্দোলনের চেয়ারম্যান ও মারকাজুল আজিজ মাদরাসার প্রিন্সিপাল হিসেবে কর্মরত।

জবানবন্দিতে ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘২০১৩ সালের ৫ মে সকালে তৎকালীন কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুফতি ফয়জুন্নলাহ ফোন করলে কারাঙ্গীরচর মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষক ও এলাকার আট থেকে ১০ হাজার হেফাজত কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে লালবাগ-চকবাজার হয়ে নয়াবাজারে আসি। জোহরের নামাজের পর দুইটার দিকে তার কথায় সবাইকে নিয়ে শাপলা চত্বরে যাই।’

জবানবন্দিতে তিনি উল্লেখ করেন, শাপলা চত্বরে যাওয়ার সময় গোলাপশাহ মাজারের (গুলিস্থান) সামনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের বাধা দেয়। এসময় উভয়ের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। তারা সেখানে ছত্রভঙ্গ হয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। অবশেষে বেলা তিনটার দিকে তার নেতৃত্বে পাঁচ থেকে সাত হাজার শাপলা চত্বরে পৌঁছায়। শাপলা চত্বরে গিয়ে তিনি মাওলানা আব্দুল্লাহ রব ইউসুফি, জুনায়েদ আল হাবিব, মামুনুল হক, মাওলানা জাফর উল্লাহ, আবুল হাসনাতমহ অনেককেই দেখতে পান। এর মধ্যে ৪৩ জনের নাম জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন তিনি। ১৩ দফা দাবি আদায় না করতে পারলে সরকার পতনের আন্দোলন হবে বলে তাকে জানিয়েছিলেন মামুনুল হকসহ হেফাজত নেতারা।

তিনি জানিয়েছেন, মাওলানা মাঈনুদ্দীন রুহী তাকে বলেছেন, আন্দোলন ও সহিংসতার বিষয়ে দুজন বিএনপি নেতা এবং একজন জামায়াত নেতা তাদের অর্থ সহযোগিতা করছে। এছাড়া ওই বছরের ২৮ এপ্রিল বাবুনগরীর সঙ্গে খালেদা জিয়ার গোপন বৈঠক হয়েছে। হেফাজতের প্রোগ্রাম শাপলা চত্বরে স্থায়ী হলে বিএনপি-জামায়াতও যোগ দেবে বলে আলোচনা হয় বৈঠকে। পরে ৫ মে দুপুর থেকেই বিএনপি-জামায়াতের কর্মীরা রাস্তায় বাধা সৃষ্টি ও আগুন দেওয়া শুরু করে।

জানা গেছে, ২০১৩ সালের ৫ মে’র একদিন আগে ঢাকায় এক সমাবেশ থেকে হেফাজতের অবরোধ কর্মসূচিকে সমর্থন জানিয়ে নেতাকর্মীদের পাশে থাকার নির্দেশনা দিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপরসন খালেদা জিয়া। কিন্তু দলের একটি অংশ দ্বি-মত পোষণ করায় সাংগঠনিকভাবে হেফাজতের অবরোধে অংশ নিতে পারেনি বিএনপি। তবে বিচ্ছিন্নভাবে বিএনপি নেতাকর্মীরা হেফাজতের কর্মসূচিতে অংশ নেয়। তবে জামায়াত-শিবির সাংগঠনিক সিদ্ধান্তেই হেফাজতের সঙ্গে মিশে গিয়ে তাণ্ডব চালিয়েছিল বলে জানিয়েছেন একাধিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, ‘হেফাজত নেতা মুফতি ফখরুল ইসলাম রিমান্ডেই বলেছিলেন তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেবেন। এরপর গত সোমবার আদালতে জবানবন্দি দেন। এখন তিনি কারাগারে রয়েছেন।’

সূত্র : সারাবাংলা
অভি/ ২০ এপ্রিল

Source link