শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে হবে দোকানপাট, মার্কেট, শপিং কমপ্লেক্সে – ব্যত্যয় ঘটলে তাৎক্ষণিক বন্ধ করে দেয়া হবে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে- সিএমপি

0
217

পবিত্র মাহে রমজান ও ঈদুল ফিতর ২০২০ উপলক্ষে ব্যবসা-বাণিজ্য, দোকানপাট ও শপিংমল সমূহে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ও বিস্তার প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে অদ্য ০৯/০৫/২০২০ খ্রিঃ দুপুর ১২.০০ টায় দামপাড়া পুলিশ লাইন্স এর সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম মহানগরী এলাকার বিভিন্ন ব্যবসায়ী সমিতির সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার জনাব মোঃ মাহাবুবর রহমান বিপিএম, পিপিএম মহোদয়ের সভাপতিত্বে সিএমপি কর্তৃক আয়োজিত উক্ত মতবিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব আমেনা বেগম, বিপিএম-সেবা; অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) জনাব এস. এম. মোস্তাক আহমেদ খান বিপিএম, পিপিএম (বার); অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) জনাব শ্যামল কুমার নাথ; ডিরেক্টর,চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, চট্টগ্রাম এবং সভাপতি, চট্টগ্রাম শপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জনাব অহিদ সিরাজ চৌধুরী স্বপন, চিটাগাং উইমেন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এর নেতৃবৃন্দ সহ নগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজার, নিউমার্কেট, টেরিবাজার, জহুর মার্কেট, সানমার ওশান সিটি, ইউনেস্কো সেন্টার , আমিন সেন্টার,চিটাগাং শপিংকমপ্লেক্স, আফমি প্লাজা, সেন্ট্রাল প্লাজা সহ নগরীর বিভিন্ন দোকান মালিকও ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ।

উক্ত মতবিনিময় সভায় নগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজার, নিউমার্কেট, তামাকুন্ডি লেন,জহুর মার্কেট এর দোকান মালিক ও ব্যবসায়ী সমিতি সহ অধিকাংশ ব্যবসায়ী সমিতি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ও বিস্তার প্রতিরোধের লক্ষ্যে পবিত্র ঈদুল ফিতর পর্যন্ত দোকানপাট, মার্কেট, শপিং কমপ্লেক্স বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। চট্টগ্রাম মহানগরী এলাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় যেহেতু প্রতিদিন করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে সেই জন্য মহানগরীর অধিকাংশ ব্যবসায়ী সমিতি মালিক, শ্রমিক এবং নগরবাসীর স্বাস্থ্যের বিষয়টি মাথায় রেখে রমজান মাসে দোকানপাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন।

অন্যান্য যারা দোকানপাট, মার্কেট, শপিং কমপ্লেক্স খোলা রাখার চিন্তাভাবনা করছেন তাদেরকে অবশ্যই করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ও বিস্তার রোধে শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখার নির্দেশনা অমান্য করলে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের দায়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঐ দোকান, মার্কেট বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হবে এবং তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে মর্মে পুলিশ কমিশনার মহোদয় জানান। বক্তব্যে তিনি বলেন ” চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে হলেও শেষ রক্ত বিন্দু পর্যন্ত নগরবাসীর স্বার্থে কাজ করে যাবে।” যারা দোকানপাট, মার্কেট, শপিং কমপ্লেক্স খোলা রাখবেন তাদেরকে অবশ্যই নিম্নোক্ত নির্দেশনাগুলো মেনে চলতে হবে মর্মে তিনি জানান।

নির্দেশনা সমূহঃ
★কোভিড-১৯ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক কর্মকান্ড চালু করার সুবিধার্থে শপিং মল/মার্কেট সমূহের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কারিগরি নির্দেশনা সমূহঃ

১) শপিং মলের প্রবেশ মুখে স্বয়ংক্রিয় জীবাণুনাশক টানেল বা চেম্বার স্থাপন করা এবং থার্মাল স্ক্যানারের মাধ্যমে ক্রেতা সাধারণের তাপমাত্রা নির্ণয় করা।
২) শপিং মল/দোকানের প্রবেশ মুখে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করা এবং মাস্ক ব্যতীত কাউকে শপিং মলে প্রবেশ করতে না দেওয়া।
৩) পণ্য ক্রয়-বিক্রয়কালে ক্রেতা-বিক্রেতার পারস্পারিক শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য দোকানের সামনে ১ মিটার দূরত্ব বজায় রেখে মার্কিং করা।
৪) মাস্ক ও জীবাণুমুক্ত করণ সামগ্রী সংগ্রহে রাখা এবং এ বিষয়ে কর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা।
৫) শপিং মল/দোকানের কর্মীদের স্বাস্থ্য অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং প্রাপ্ত তথ্য নথিভুক্ত করা।
৬) ক্রেতা সাধারণের শারীরিক তাপমাত্রা নির্ণয় পূর্বক শপিং মল/দোকানে প্রবেশ করতে দেয়া।
৭) কেন্দ্রীয় এয়ারকন্ডিশনার স্বাভাবিক তাপমাত্রায় চালানো এবং বের হওয়া বাতাস যেন পুনরায় প্রবেশ করতে না পারে সে ব্যবস্থা করা।
৮) বারবার মানুষের সংস্পর্শে আসা সুবিধাসমূহ যেমন-এ্যালিভেটর বাটন, দরজার হাতল ও ময়লা ফেলার ঝুড়ি নিয়মিত জীবাণুমুক্ত করা।
৯) সার্বিকভাবে শপিং মলের ফ্লোর ও অন্যান্য জিনিস পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে রাখা।
১০) সেলফ সার্ভিস শপিং ও স্পর্শ ব্যতীরেকে মূল্য পরিশোধে উৎসাহিত করা।
১১) যদি নিশ্চিত কোভিড-১৯ রোগী থাকে তবে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসারে জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

★ব্যবসা-বাণিজ্য দোকানপাট ও শপিং মল খোলা সংক্রান্ত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্তৃক নির্দেশনা সমূহঃ

১) সরকার ঘোষিত নির্ধারিত সময় সকাল ১০ টা হতে বিকাল ৪ টার মধ্যে দোকান-পাট ও শপিং মলসমূহ খোলা বন্ধ করা।
২) শপিং মল/মার্কেটের ২কিঃ মিঃ এর মধ্যে বসবাসকারী ক্রেতারা সংশ্লিষ্ট শপিং মল/মার্কেটে কেনাকাটা করা।
৩) বসবাসের এলাকা নিশ্চিত হওয়ার জন্য ক্রেতা সাধারণের নিজ নিজ পরিচয়পত্র(যেমন-ব্যক্তিগত আইড কার্ড/পাসপোর্ট/ড্রাইভিং লাইসেন্স/বিদ্যুৎ/গ্যাস/পানির বিলের মূল কপি ইত্যাদি) সাথে রাখা এবং চেক করে শপিং মলের প্রবেশ করতে দেয়া।
৪) বয়স্ক/শিশু/অসুস্থদের শপিং মলে গমনাগমনে নিরুৎসাহিত করা।
৫) শপিং মলের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ আলাদা আলাদা নির্ধারণ করা।
৬) শপিং মলে আগত যানবাহন সমূহকে অবশ্যই জীবাণুমুক্ত করণের ব্যবস্থা করা।

*জনসংযোগ শাখা, সিএমপি, ০৯/০৫/২০২০ খ্রিঃ *

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে